বৃহস্পতিবার, অক্টোবর 22, 2020

শীত-বৃষ্টির রোগব্যাধি
শীত-বৃষ্টির রোগব্যাধি

শীত-বৃষ্টির রোগব্যাধি

  • scoopypost.com - Jan 04, 2020
  • একে শীতকাল, তার উপর অকাল বর্ষণ। শীতের শুকনো হাওয়ার বদলে স্যাঁতস্যাঁতে চারপাশ। আকাশের মুখও গোমড়া। দু একদিন যেতে না যেতেই ফের নীল আকাশ, মিঠে রোদ্দুরে আবার নেমে যাচ্ছে তাপমাত্রার পারদ। এমন খামখেয়ালি আবহাওয়ায় ঘরে ঘরে বাড়ছে অসুখ। বিভিন্ন রোগে কাহিল হয়ে পড়ছেন বাড়ির বয়স্করা, বাদ নেই শিশুরাও। কী করে সুস্থ থাকবেন বারবার বদলে যাওয়া এই আবহাওয়ায়, সুলুক সন্ধান রইল স্কুপিপোস্টে।   

    সর্দিকাশি বা কমন কোল্ড

    শীতকালে বৃষ্টি-বাদলায় ঠান্ডা বাড়ে কমে। এইসময় সর্দি-কাশি খুবই কমন উপসর্গ। শুনতে আশ্চর্য লাগলেও সর্দি-কাশির হাত থেকে বাঁচতে কোনও ওষুধ নয়, আপনার হাতেই লুকিয়ে এর উপশম। চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, হাত পরিষ্কার থাকলে সর্দি-কাশির মত বহু রোগ-জীবানুর আক্রমণ থেকে বাঁচা সম্ভব। তাই নিয়মিত হাত ধোওয়া অভ্যেস করুন। রাস্তায়, বাস-ট্রামের সিটে বা হাতলে, অফিস-দোকানপাটের দরজায়, এমনকি অফিসের কম্পিউটারের কি বোর্ড থেকেও সংক্রমণ ছড়ায় মানুষের দেহে। তাই, সময়-সুযোগ পেলেই হাত ধুয়ে নেওয়া ভাল অভ্যেস। বাড়ি-ঘর পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখলেও সর্দি-কাশি থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। রান্নাঘরে রোজকার ব্যবহারের কাপ-ডিস, থালা-বাটি থেকেও ছড়াতে পারে সংক্রমণ। ভিজে তোয়াল বা গামছাও রোগ-জীবানু ছড়াতে পটু। তাই শুকনো তোয়ালে ব্যবহার করুন। সম্ভব হলে হাত বা মুখ মোছার জন্যে ডিসপোজেবল টিসু পেপার বা রুমাল ব্যবহার করতে পারেন। এতে রোগ-ব্যাধি কম ছড়াবে।    

    গলা ব্যাথা

    শীতকালে ঠান্ডা লেগে গলা ব্যাথাও কমন সিম্পটম। ভাইরাল ইনফেকশন থেকে গলা ব্যাথা হতে পারে। টনসিলে সংক্রমণ হলেও গলার সমস্যা দেখা দেয়। তাপমাত্রা হেরফেরে গলা ব্যথার জন্যে দায়ী ভাইরাস সক্রিয় হয়। দরজা-জানালা বন্ধ রেখে ঘরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখলেও বাইরে গেলে তা সম্ভব নয়। তাই একবার গরম একবার ঠান্ডা আবহাওয়ার কারণে গলা ব্যথা হতে পারে। নুনজলে গার্গল করলে গলায় আরাম পাওয়া যায়। বেটাডিন গার্গল অল্প গরম জলে মিশিয়েও গার্গল করা যেতে পারে। প্রয়োজনে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।       

    অ্যাজমা

    শীতকালে অ্যাজমা রোগীদের কষ্ট বাড়ে। ঠান্ডা হাওয়া অ্যাজমা রোগীদের শ্বাসকষ্ট বাড়ায়। শীতকালে শ্বাসকষ্ট আছে এমন মানুষদের ক্ষেত্রে অনেক সাবধানতা নিতে হয়। সঙ্গে বর্ষার স্যাঁতস্যাঁতে আবহাওয়া গোদের উপর বিষফোঁড়ার সামিল। অ্যাজমা আছে এমন রোগীদের ঠান্ডায় না বেরনোই ভাল। একান্ত প্রয়োজনে বেরোলেও উপযুক্ত গরম পোশাক পরে, নাক-মুখ ঢেকে বাইরে যাওয়া দরকার। প্রয়োজনে মাস্ক ব্যবহার করা যেতে পারে। প্রতিদিনের ওষুধ মনে করে খাওয়া আর হাতের কাছে অবশ্যই ইনহেলার রাখা দরকার।    

    নোরোভাইরাস

    একটু নতুন শুনতে লাগলেও নোরোভাইরাসের দাপট শীতকালে বাড়ে। নোরোভাইরাস পেটে সংক্রমণের জন্যে দায়ী। আর সঙ্গে বৃষ্টি হলে তো কথাই নেই। জল থেকেও এই রোগ ছড়াতে পারে। পেট ব্যথার সঙ্গে বমি এই রোগের প্রধান লক্ষ্মণ। হোটেল, রেস্তোরাঁ, পাবে জল থেকে এই রোগ ছড়ায়। আর শীতকালে আমরা এই ধরণের জায়গায় প্রায়শই যাই। পিকনিক, চড়ুইভাতির কথাও না বললেই নয়। তাই নোরোভাইরাসের সংক্রমণ থেকে বাঁচতে প্রয়োজন সচেতনতা। যেখানে সেখানে জল খাবেন না। এই রোগে বমির সঙ্গে পেট খারাপ হওয়াও বিচিত্র নয়। পেট খারাপের ওষুধের সঙ্গে হালকা খাবার খান। প্রচুর জল পান করুন। দু-একদিনে শরীর ঠিক না হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অবশ্যই নিন।      

    বাত ও গাঁটে গাঁটে ব্যথা

    শীতকালে বাড়ির বয়স্কদের বাতের ব্যথা বাড়ে। শরীরের বিভিন্ন জয়েন্টেও ব্যথা হয়। শীতকালে শুকনো আবহাওয়ার সঙ্গে অকালবর্ষণের যুগলবন্দি এই ব্যথা আরও বাড়িয়ে তোলে। শুধু ব্যথাই নয়, বিভিন্ন অস্থিসন্ধি বা জয়েন্ট স্টিফ হয়ে যাওয়ারও সমস্যা এইসময় দেখা দেয়। ব্যথায় কাতর হয়ে একেবারে হাঁটা-চলা বন্ধ না করে রোজ কিছু হালকা এক্সারসাইজ করুন। ব্যথা কমানোর ওষুধ যতটা পারেন কম খান। মাঝবয়সীদের শরীরেও এইসময় আলস্য আসে। সুযোগ থাকলে সাঁতারও কাটতে পারেন।    

    হাত পা ঠান্ডা হয়ে যাওয়া

    শীতকালে অনেকেরই হাত পায়ের আঙুল ঠান্ডায় রক্তবর্ণ ধারণ করে। সেইসঙ্গে খুব ব্যথাও হয়। অসময়ের বৃষ্টিতে এই ধরণের সমস্যা বাড়ে। হাত ও পায়ের আঙুলের রঙও পাল্টে যায়। কোনও সাড়ই থাকে না। অনেকের আঙুল ফুলেও যায়। ভয় পাওয়ার তেমন কোনও কারণ নেই। এই উপসর্গ কমন। তবে, সাবধান থাকাই ভাল। রক্ত সঞ্চালন কম হয় বলেই এই ধরণের সমস্যা দেখা দেয়। অল্প গরম জলের সেঁক বা গ্লাভস ও মোজা পরে থাকলে আরাম পাওয়া যায়। কিন্তু চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন এইসময় হাত পা গরম করতে চা-কফি-সিগারেট খাওয়া বেড়ে যায়। যা শরীরের পক্ষে একদমই ভাল নয়।