শনিবার, অক্টোবর 31, 2020

করোনায় সতর্ক হোন, আতঙ্কিত নয়
করোনায় সতর্ক হোন, আতঙ্কিত নয়

করোনায় সতর্ক হোন, আতঙ্কিত নয়

  • scoopypost.com - Jan 26, 2020
  • বিশ্বজুড়ে আতঙ্কের নাম করোনা ভাইরাস।চিনের ইউহান প্রদেশে করোনা ভাইরাসের আক্রমণে এখনও পর্যন্ত মৃত ২৫। আক্রান্ত ৮০০। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের খবর পাওয়া যাচ্ছে।এ দেশেও সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের প্রতিনিধি দল সাত রাজ্যে বিশেষ নজরদারি চালাচ্ছে।

    কিন্তু কী এই করোনা ভাইরাস? এ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ আছে কি? কীভাবে এই পরিস্থিতির মোকাবিলা সম্ভব জানাচ্ছেন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অরিন্দম বিশ্বাস।

    করোনা ভাইরাস-এটা ল্যাটিন শব্দ। যার অর্থ ক্রাউন। এই ভাইরাসের ইনফেকটেড অংশ ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপ অনেকটা রয়্যাল ক্রাউনের মতো দেখায়। তা থেকেই নাম কোরোনা বা করোনা ভাইরাস।

    করোনা ভাইরাস কী?

    করোনা ভাইরাস হল একটি আরএনএ ভাইরাস। সাধারণত পশুপাখির মধ্যে এই ভাইরাস দেখা যায়। তবে মানুষ যদি ভাইরাস আক্রান্ত পশুপাখির সংস্পর্শে যায় বা অপরিচ্ছন্ন মাংস খায় তাহলে এই ভাইরাস মানবদেহে সংক্রামিত হতে পারে। মাঝে মাঝে এই ভাইরাস ভয়ংকর রূপ নেয়।

    ২০০২-২০০৩ সালে বিশ্বের ৩৭টি দেশে ‘সার্স’ ছড়িয়ে পড়েছিল। বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। ২০১৫-১৭ সালে মিডল ইস্ট বা মধ্যপ্রাচ্যের দেশে ছড়িয়ে পড়ে ‘মার্স’। এগুলো করোনা ভাইরাসের প্রভাবে হয়েছিল। এবার চিনের ইউহানে ছড়িয়ে পড়েছে এই ভাইরাস, আরও বেশি অপ্রতিরোধ্য ও শক্তিশালী হয়ে। এর নাম দেওয়া হয়েছে নোভেল করোনা ভাইরাস।চিনের হুনানে মাংস, মাছের পাইকারি বাজার থেকে ভাইরাস ছড়িয়েছে বলেই জানা যাচ্ছে।

    উপসর্গ- সর্দি, কাশি সঙ্গে শ্বাসকষ্ট, জ্বর, গলাব্যাথা।ভাইরাস আক্রমণ করে ফুসফুসে

    কীভাবে ছড়ায়- সর্দি, কাশি থেকেই সংক্রমণ ছড়াতে পারে। কেউ কাশলে থুথু ছিটকায় অনেক দূর পর্যন্ত। দ্রুত গতিতে সেক্ষেত্রে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে।নাক মুছে সেই হাতে কোনও জিনিস ধরলে, সেই জিনিস যদি কোনও সুস্থ মানুষ ধরেন তিনিও আক্রান্ত হতে পারেন।

    কীভাবে বুঝবেন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন- সর্দি, কাশি, জ্বর হতেই পারে। তার মানে এই নয় সেটা করোনা ভাইরাসের জন্য।তবে জ্বর, সর্দি, কাশি হওয়ার পর, যদি খুব কম সময়ে শ্বাসকষ্ট ভীষণভাবে বেড়ে যায় তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। প্রয়োজনীয় পরামর্শ নিতে হবে।

    পরীক্ষার উপায়- দু’ভাবে করোনা ভাইরাসের পরীক্ষা হতে পারে। এক থ্রোট সোয়াব পিসিআর পদ্ধতিতে পরীক্ষা করা হয়। আর একটি উপায় রক্তপরীক্ষা। এলাইজা পদ্ধতিতে দেখা যেতে পারে করোনা ভাইরাস পজিটিভ কি না। তবে যেহেতু এই ভাইরাস একেবারেই নতুন, তাই নির্দিষ্ট কিট বা পরীক্ষা পদ্ধতি সম্ভবত এখনও এ রাজ্যে নেই।পুণার  ইন্সিটিউট অফ ভাইরোলজিতে এ নিয়ে পরীক্ষার ব্যবস্থা থাকতে পারে।

    ওষুধ-করোনা ভাইরাসের কোনও প্রতিষেধক বা নির্দিষ্ট ওষুধ তৈরি হয়নি।

    সতর্কতা- এই ভাইরাস নিয়ে এখনই এ দেশে চিন্তার কোনও কারণ নেই।করোনা ভাইরাসের কোনও কোনও স্ট্রেন  মিউটেশন হতে পারে। এমনটা প্রায়ই হয়। সেই মিউটেট হওয়া ভাইরাসগুলোই চিন্তার। কারণ, সেগুলো বেশি শক্তিশালী হয়। অনেক ক্ষেত্রে সংক্রমণে ফুসফুস পুরোপুরি সাদা হয়ে যায়। অ্যাকিউট রেসপিরেটরি ডিসট্রেস সিনড্রোম দেখা দিলে প্রাণহানির সম্ভবনা থাকতে পারে। তবে এমনিতে কোনও ভয় নেই।জ্বর, সর্দি, কাশি হলে বিশ্রাম নিন।বেশি করে জল খান। একটু আলদাভাবে ঘরে থাকুন।শ্বাসকষ্ট বাড়লে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। এক্ষেত্রে যেহেতু প্রথমেই বোঝার উপায় নেই এটা করোনা কিনা, তাই সংক্রমণ ঠেকাতে যিনি রোগীর সেবা করবেন তাঁর সতর্ক থাকা দরকার। এন-৯৫ মাস্ক ব্যবহার করতে পারেন। রোগীর ঘরে গেলে তারপর সাবান দিয়ে ভাল করে হাত ধুতে হবে।হাত ধোওয়ার আগে তা মুখে, নাকে দেওয়া যাবে না।

    সংক্রমণ ঠেকাতে বারবার ভাল করে হাত ধুয়ে নিন। বারবার হাত নাকে, চোখে, মুখে দেবেন না। খাওয়ার আগে হাত ধুলে এমনিতেই অনেক রোগী থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

    চিকিৎসা- যেহেতু ভাইরাস ঘটিত রোগের সঠিক ওষুধ নেই, তাই সুনির্দিষ্ট চিকিৎসাও নেই।সংক্রমণ যাতে না ছড়ায় তাই রোগীকে একেবারেই আলাদা রাখতে হবে। চিকিৎসক, নার্সদেরও গ্লাভস, মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। এক্ষেত্রে উপসর্গ অনুযায়ী চিকিৎসা হবে। জ্বর হলে প্যারাসিটামল দেওয়া হবে। শ্বাসকষ্ট হলে অক্সিজেন।প্রয়োজনে অ্যান্টি বায়োটিকও দিতে পারেন চিকিৎসক।যথাযথ চিকিৎসা হলে সাত দিনেই রোগী সুস্থ হয়ে যাবেন।

    এ দেশে আতঙ্কের কারণ নেই-চিকিৎসক অরিন্দম বিশ্বাসের কথায়, এখনও পর্যন্ত যেহেতু চিনেই রোগক্রান্তের বেশি খবর পাওয়া গিয়েছে তাই বিমানবন্দরে স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা হলেই, এদেশে রোগ আটকানো সম্ভব। তাঁর বক্তব্য, বিমানবন্দরে চিন, ভিয়েতনামের মতো দেশগুলো থেকে আসা যাত্রীদের স্বাস্থ্যপরীক্ষা যথাযথ হওয়া দরকার। করোনা উপসর্গ থাকলে তাঁকে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে পাঠিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করলে আর সংক্রমণের ভয় থাকবে না।