সোমবার, নভেম্বর 30, 2020

ভ্যাকসিন নিয়ে তাড়াহুড়ো নয়
ভ্যাকসিন নিয়ে তাড়াহুড়ো নয়

ভ্যাকসিন নিয়ে তাড়াহুড়ো নয়

  • scoopypost.com - Sep 06, 2020
  • নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতা প্রবল। কে আগে বাজার ধরবে তাই নিয়ে চলছে তুমুল তৎপরতা। প্রথম হতে চায় সবাই। কে আগে বিশ্ববাসীকে করোনা মুক্তির পথ দেখাবে তাই নিয়েই লড়াই।

    রাশিয়া অবশ্যই অনেককে কিছুটা পিছনে ফেলে দিয়েছে। যদিও তাদের ভ্যাকসিন নিয়ে বিশ্বজুড়েই বহু প্রশ্ন রয়েছে। এ কথাও ঠিক অনেক যুক্তি-তর্কের পর রাশিয়ার  ভ্যাকসিনকে তর্ক সাপেক্ষে ছাড় দিয়েছে ল্যানসেট।

     এই পরিস্থিতিতেও বিশ্বের মানুষের কাছে এক বড় সুখবর হল, এই মুহূর্তে সারা বিশ্বের যে সব সংস্থা ভ্যাকসিন প্রস্তুত করার নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে তারা একটা বিষয়ে একমত হয়েছে। সেই সিদ্ধান্ত করোনা আক্রান্ত বিশ্বের কাছে অত্যন্ত জরুরি। এই সংস্থাগুলি একযোগে সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভ্যাকসিন বার করার ক্ষেত্রে তারা কোনও রকম তাড়াহুড়ো  করবে না। যতক্ষণ না তারা তাদের প্রতিষেধকের গুণমান নিয়ে একশ  শতাংশ নিশ্চিত হচ্ছেন ততক্ষণ তাঁরা তা বাজারে আনবেন না। আগে ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা এবং মানুষের শরীরে তার নি্রাপত্তার দিকটা খতিয়ে দেখা হবে তারপরেই সেই ভ্যাকসিন বাজারে আনা হবে। এই বিষয়ে তারা কোনও রাজনৈতিক চাপের কাছেও মাথা নত করবে না।আগামি সপ্তাহে তার এই মর্মে এক বিবৃতিও প্রকাশ করবে।

    প্রচন্ড রাজনোইতিক চাপের মুখে পড়ে সংস্থাগুলি এই অবস্থান নিয়েছে বলেই সূত্রের খবর। আমেরিকায়  করোনার প্রভাব সবচেয়ে বেশি। এতটাই যে আগামি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তার প্রভাব পড়তে পারে বলেও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে জনমানসে কোভিড মোকাবিলায় ব্যর্থ বলেই ধারণা তৈরি হয়েছে। মানুষষের এই  ধারণা বদলাতে মরিয়ে হয়ে উঠেছেন ডোনাল্ট ট্রাম্পও। তিনি একতরফা ঘোষণা করে দিয়েছেন অক্টোবরেই এসে যাবে কোভিড ভ্যাকসিন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই অবাঞ্ছিত তৎপরতার কারণেই ফার্মা কোম্পানিগুলি এই ধরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলেই রাজনৈতিক মহলের মত। এ্কাধিক সংস্থা যৌথ ভাবে এই বিষয়ে তাদের সিদ্ধান্ত প্রকাশ করেব। যে সব সংস্থা এই যৌথ বিবৃতিতে সই করবে বলে এখনও জানা গেছে তাদের মধ্যে রয়েছে ফাইজার, মোডের্না, জনসন অ্যান্ড জনসন, গ্ল্যাক্সো স্মিথক্লাইন এবং স্নফি।

    এরমধ্যে তিনটি সংস্থা ফাইজার, মোডের্না এবং এস্ট্রাজেনেটা তাদের ভ্যাকসিনের শেষ পর্যায়ের ট্রায়াল শুরু করেছে। ফাইজারের এক পদস্থ আধিরিক জানিয়েছেন  তাঁদের গবেষণার ফলাফল অক্টোবরের মধ্যেই জেনে যাবেন। অন্য সংস্থাগুলি অবশ্য জানিয়েছে তাদের ফলাফল বছরের শেষের দিকে জানা যাবে।

    আমেরিকায় যে ভাবে সরাসরি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে  ভ্যাকসিন প্রস্তুতিতে পরোক্ষ হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে ভারতেও কিন্তু প্রায় একই ধরণের অভিযোগ উঠেছে, আই সি এম আরের বিরুদ্ধে। জুলাইতে তারা হঠাৎ ঘোষণা করে দেয়, ভারতে ভ্যাকসিন নিয়ে যে পরীক্ষা চলছে তার ফলাফল জানা যাবে অগাস্টে। অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যেদিন লালকেল্লা থাকে ভাষণ দেবেন সেদিনই ভ্যাকসিন নিয়ে ঘোষণা হবে। আই সি এম আরের এই ঘোষণা নিয়ে দেশে তুমুল সমালোচনা শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত প্রবল চাপের মুখে পড়ে আই সি এম আর তাদের বক্তব্য থেকে সরে আসে।  

    ওয়াকিবহাল মহলের অভিমত,  ভ্যাকসিনের বিষয়টি যাতে রাজনীতির হাতিয়ার না হয়ে ওঠে তা নিশ্চিত করতে চাইছে ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলি। তাই এই যৌথ বিবৃতির প্রস্তুতি।