মঙ্গলবার, অক্টোবর 20, 2020

পিরিয়ড নিয়ে ভুল ধারণা
পিরিয়ড নিয়ে ভুল ধারণা

পিরিয়ড নিয়ে ভুল ধারণা

  • scoopypost.com - Dec 08, 2019
  • মেনস্ট্রুয়েশন বা ঋতুস্রাব। মহিলাদের অত্যন্ত স্বাভাবিক একটি জৈবিক প্রক্রিয়া। কিন্তু তা নিয়ে ঢাকঢাক গুড়গুড়ের অন্ত নেই।এখন মহিলারা যুদ্ধেও অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন, মহাকাশেও যাচ্ছেন কিন্তু মেনস্ট্রুয়েশন নিয়ে ট্যাবু কাটছে না।প্রকাশ্যে এ নিয়ে কেউ কথা বলতে পারেন না, দোকানে গিয়ে স্যানিটারি ন্যাপকিন কিনতে গেলেও অনেকে কাগজে লিখে নিয়ে যান অথবা ইশারায় দেখান।

    খোলাখুলি আলোচনা না-হওয়ার জন্যই মেনস্ট্রুয়েশন বা ঋতুস্রাব নিয়ে একাধিক ভুল ধারণা আছে মেয়েদের মধ্যে। প্রথম যখন ঋতুস্রাব শুরু হয়, তখন অনেক কিশোরী মাকে জিজ্ঞেস করে এর সঠিক কারণ সম্পর্কে উত্তর পায় না। এছাড়া প্রাচীনকাল থেকে চলে আসা অনেক ধারণাও রয়েছে যার কোনও যুক্তিসম্মত ভিত্তি নেই। যেমন ঋতুস্রাব হলে পুজো নৈব নৈব চ। কোনও কোনও রাজ্যে গ্রামাঞ্চলে আবার খাটে শোওয়া যায় না, রান্নাঘরে ঢোকা যায় না, একঘরে করে রাখা হয় এ অবস্থায় মহিলাদের।যদিও এটা একেবারে স্বাভাবিক জৈবিক ক্রিয়া। আসলে নারীর সন্তান ধারণে সক্ষম হয়ে ওঠার প্রথম ইঙ্গিতই পিরিয়ড বা ঋতুস্রাব।

    এ নিয়ে কিছু ভুল ধারণা, ভয় ভাঙা দরকার


    অনেকেই মনে করেন ২৮ বা ৩০ দিনের মাথায় ঋতুস্রাব না হওয়াটা ক্ষতিকর

    স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন ২১-৩৭ দিন প্রাপ্ত বয়স্কদের ও কিশোরীদের  ২১-৪৫ দিনের মধ্যে ঋতু চক্র স্বাভাবিক। এমন কোনও মানে হয় ২৮ বা ৩০ দিনের মাথায় ঋতুস্রাব না হলে কোনও সমস্যা আছে। তবে দেখতে হবে এর থেকে দেরিতে ঋতুচক্র বা সাইকেল হচ্ছে কি না। সেক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভাল। অনেক সময় স্ট্রেস, হরমোনাল ইম ব্যালেন্সের জন্য ঋতুস্রাবে দেরি হয়।

    পিরিয়ডের ব্যথা আর পেটের ব্যথা আলাদা

    পিরিয়ডের ব্যথা আর পেটের ব্যথা কিন্তু এক নয়।পেটের ব্যথার কারণ অনেক হতে পারে। কিন্তু পিরিয়ডের সময় তলপেটে মাংসপেশিতে ক্র্যাম্প হয়। একটু গরম সেঁক নিলে আরাম বোধ হয়। পিরিয়ডের ফ্লো নর্মাল হয়ে গেলেই ব্যথা কমে যায়।এই ব্যথাকে বলে স্প্যাসমোডিক পেন।

    ঋতুস্রাবের রক্ত নোংরা

    অনেকেই মনে করেন এই রক্ত নোংরা। কিন্তু আসলে তা মোটেও নয়। তবে এটা ঠিক, আমাদের শরীরের কোনও অংশ কেটে গেলে যে রক্ত বের হতে দেখি তার চেয়ে এটা একটু আলাদা।তবে এটাকে নোংরা ভাবার কোনও কারণ নেই।

    ঋতুস্রাবে কাপড়ের ব্যবহার

    গ্রামাঞ্চলে মহিলাদের মধ্যে এখনও কাপড়ের ব্যবহার রয়েছে। একই কাপড় কেচে তা বারবার ব্যবহার করা হয়।কখনও লজ্জায় সেই কাপড়ে রোদে শুকনোও হয় না। যা স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকারক। নোংরা কাপড় ব্যবহারে ছড়াতে পারে সংক্রমণ। ক্ষেত্র বিশেষে তা থেকে মৃত্যু হওয়ায় অস্বাভাবিক নয়।যে সমস্ত মায়েরা কাপড় ব্যবহারে অভ্যস্থ তারা পুরনো ট্যাবু থেকে বের হতে না পেরে সন্তানদেরও একই পরামর্শ দেন। কিন্তু সময় এসেছে ধারণা বদলানোর।এখন অল্প খরচে এখন স্যানিটারি ন্যাপকিন পাওয়া যায়। ঋতুস্রাবের সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হাইজিন।

    এখন অবশ্য স্যানিটারি ন্যাপকিন ছাড়াও অত্যাধুনিক ট্যামপুন, মেনস্ট্রুয়েশন কাপ বেরিয়েছে। এগুলোও ব্যবহার করা যায়।

    ঋতুস্রাবের সময় গর্ভধারণ সম্ভব নয়

    এই ধারণাও ভুল। হ্যাঁ এইসময় ইন্টারকোর্স হলে গর্ভধারণের সম্ভবনা থাকে না। তবে একেবারেই সম্ভব নয়, তাও নয়। ওভিলউশেনর পর ডিম্বানু শুক্রানুর অপেক্ষায় থাকে ফার্টিলাইজেশনের জন্য। কিন্তু তা না-হলে নির্দিষ্ট সময় পর ডিম্বানু ঋতুস্রাবের মাধ্যমে শরীর থেকে বেরিয়ে যায়। এই সময় সতর্ক থাকা উচিত।

    ঋতুস্রাব নিয়ে কোনও সমস্যা হলেই স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞর পরামর্শ নেওয়া উচিত

    লজ্জা পেয়ে লুকিয়ে রাখার বিষয় এটা নয়। সেই সঙ্গে উচিত হাইজিন বজায় রাখা। কাপড়ের ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করা দরকার। স্যানিটারি ন্যাপকিনও ৫-৬ ঘণ্টা অন্তর বদলালে ভাল হয়। সংক্রমণের সম্ভাবনা থাকে না।