সোমবার, নভেম্বর 30, 2020

কোভিডের কারণে বাড়ছে মানসিক সমস্যা
কোভিডের কারণে বাড়ছে মানসিক সমস্যা

কোভিডের কারণে বাড়ছে মানসিক সমস্যা

  • scoopypost.com - Sep 21, 2020
  • এখন ‘নিউ নর্ম্যাল’ কথাটা খুব শোনা যায়। আগে এই শব্দের সঙ্গে আমরা কেউ পরিচিত ছিলাম না। এখন এমন কেউ নেই যে এই শব্দ শোনেনি বা ব্যবহার করছে না। কোথা থেকে এল এই শব্দ? বিশ্বজুড়ে করোনা কালে মানুষ যখন ঘর বন্দি জীবন কাটাচ্ছে আর প্রতিদিন স্বপ্ন দেখছে এই দুঃসময় কেটে যাওয়ার তখনই তাদের সামনে এল এই ‘নিউ নর্ম্যাল’শব্দ।  বলা যায় দেশে এবং বিদেশে লকডাউন উঠে যাওয়ার পর শুরু হয়েছে।

    এই শব্দের মাধ্যমে বোঝাতে চাওয়া হয়েছে, লকডাউন উঠে গেলেও এখনি ফিরে পাওয়া যাবে না পুরোন জীবন। এই মুক্তি শর্ত সাপেক্ষে। বাইরে বেরতে পারবেন, কিন্তু মুখে পরতে হবে মাস্ক। নিজেকে অন্যের থেকে রাখতে হবে নিরাপদ ব্যাবধানে।

    এই পরিবর্তিত অবস্থাকেই এখন নিউ নর্ম্যাল বলা হচ্ছে। এই সময়েও কিন্তু আমেদের লকডাউনের স্মৃতি তাড়া করে বেড়াচ্ছে। যার থেকে জন্ম নিচ্ছে হাজারো মানসিক সমস্যা। যে সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসতে যেতে হচ্ছে মনোবিদদের কাছে। এই সমস্যা দেখা দিচ্ছে বড়দের অর্থাৎ অভিভাবকদের এবং শিশুদেরও।   

    মনোবিদরা বলছেন শিশুদের সমস্যার বেশিটাই জন্ম হচ্ছে তাদের অভিভবকদের জন্য ।এর পাশাপাশি দীর্ঘদিন ঘরে থেকে তার শিশু মনেও এক ভয়ের ধারনা তোইরি হয়ে গেছে। সে অনেক কিছুই বুঝতে পারছে না আবার এটা বুঝতে পারছে যা হচ্ছে তা বেশ ভয়ের। সেই অজানা ভয় তাকেও তাড়া করে বেড়াচ্ছে। ফলে তার স্বাভাবিক জীবেন ছন্দ পতন ঘটে যাচ্ছে। অনেক সময়ই এর থেকে তোইরি হচ্ছে মানসিক সমস্যা।

     অন্যদিকে লকডাউনের ফলে  গৃহবন্দি জীবনের সময় অভিভাবকদের যে মানসিক উদ্বেগ আর উৎকন্ঠার মধ্যে দিন কাটাতে হয়েছে তার প্রভাব পড়েছে তাঁদের শিশুদের অপর। নিজেদের অবসাদ এবং চাপ অনেক সময়ই তাঁরা সমলাতে পারেন নি। যার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে শিশুদের সামনেই। শিশুমনে যার খারাপ প্রভাব পড়েছে বা পড়ছে।এই পরিস্থিতি এড়াতে মনোবিদরা কয়েকটি সাধারণ জিনিষ মেনে চলআর পরামর্শ দিয়েছেন-

    ১) বাড়িতে কখনও নিজেদের সমস্যা নিয়ে কথা বলবেন না(শিশুদের সামনে)।

    ২) সমস্যা যত বড়ই হোক চেষ্টা করতে হবে তার আঁচ যেন ছেলে-মেয়েরা না পায়

    ৩) স্বামী-স্ত্রীয়ের মধ্যে মত পার্থক্য, মতভেদ হতেই পারে। খেয়াল রাখতে হবে তা নিয়ে শিশুদের সামনে যেন কথা না হয়।

    ৪) বাড়ির কাছে কোনো পার্কে বা খোলা জায়গায় গিয়ে তা নিয়ে কথা বলার চেষ্টা করতে হবে।এতে দু ধরনের উপকার হতে পারে-

    ক) খোলা পরিবেশে এসে অনেক সমস্যাই খুব সামান্য বলে মনে হয়। ফলে তা নিয়ে আর নিজেদের মধ্যে কথা বলার দরকারই হবে না।

    খ)যদি তা নাও হয় কথা হবে শুধু দুজনের মধ্যে- তা শিশুর কান বা চোখের সামনে নয়।

    ৫) চেষ্টা করতে হবে পরিবারের সবাইকে একজায়গায় নিয়ে গল্প-গুজব করা। যেখানে সন্তানও থাকবে। মনোবিদরা বলছেন এর ফলে সন্তানের মনে নিরাপত্তা বোধ খুব দৃঢ় হবে।

    মনোবিদরা বলছেন, কোভিডের কারণে সারা বিশ্বের অর্থ ব্যবস্থায় বড়সড় প্রভাব পড়েছে। তা যে আপনার ওপরও এসে পড়বে না তার কোনও নিশ্চয়তা নেই। যদি অনভিপ্রতে সেই পরিস্থিতি এসেই পড়ে, তাহলে বিচলিত না হয়ে তার মোকাবিলা করার মতো মনের জোর দেখাতে হবে। বিকল্পের সন্ধান করতে হবে।আর এই কাজে যোগ্য সঙ্গী হয়ে উঠতে পারেন স্ত্রী বা স্বামী। নিজের শিশুর মানসিক স্বাস্থ্যের কথা ভেবে তা আপনাকে করতেই হবে।