বৃহস্পতিবার, অক্টোবর 22, 2020

মহামারী ডায়াবিটিস
মহামারী ডায়াবিটিস

মহামারী ডায়াবিটিস

  • scoopypost.com - Nov 16, 2019
  • এ রাজ্যে তো বটেই গোটা দেশেই ঘটা করে পালিত হয় বিশ্ব ডায়াবিটিস দিবস। এত আয়োজন, এত সচেতনতা সত্ত্বেও কিছুতেই রোখা যাচ্ছে না ডায়াবিটিস আক্রান্তের সংখ্য়াটা। আন্তর্জাতিক ডায়াবেটিস ফেডারেশনের তথ্য অনুযায়ী উত্তরোত্তর বেড়েই চলেছে ডায়াবিটিসে আক্রান্তের পরিসংখ্যান। এই মুহুর্তে সারা বিশ্বে ৪৬ কোটি ৩০ লক্ষ মানুষ ডায়াবিটিসে ভোগেন। আমাদের দেশে বছরে ৭ কোটি ৭০ লক্ষ মানুষ আক্রান্ত  মধুমেহ রোগে। রোগীর সংখ্যার নিরিখে যা বিশ্বে দ্বিতীয়। ভারতে প্রতি ৬ জনের ১ জন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। জনসংখ্যার বিচারে চিন প্রথম স্থানে। সেখানে ডায়াবিটিস আক্রান্তের সংখ্যাটা ১১কোটি ৬০ লক্ষ। তৃতীয় স্থানে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। গোটা বিশ্বেই ডায়াবিটিস এখন মহামারীর আকার নিয়েছে। 

    আগামিদিনে আরও বহু মানুষ আক্রান্ত হবেন এই নিঃশব্দ ঘাতক রোগটিতে। কিন্তু কেন? আসলে এই মুহুর্তে গোটা বিশ্বে একদিকে যেমন লাগামহীন জনবিস্ফোরণ তেমনি আরেক দিকে বিশ্ব অর্থনীতির বাজারও নিম্নমুখী। তাই এত কর্মহীন মানুষ কেবলই ভুগছেন বেরোজগারির মানসিক দুশ্চিন্তায়! সঙ্গে দোসর খাদ্যাভ্যাসের বদভ্যাস। এই দুইয়ে মিলে বাড়ছে রোগ। বিশিষ্ট চিকিৎসক ডাঃ অরিন্দম বিশ্বাসের মত, যেভাবে জাঙ্ক ফুড খাওয়ার প্রবণতা বাড়ছে তাতে মেটাবলিক সিনড্রোমটাই বদলে যাচ্ছে। সঙ্গে অলসতা, বসে কাজ, শারীরিক পরিশ্রমে অনিহা। ফলস্বরূপ ভিসেরাল ফ্যাট, ফ্যাটি লিভারের মত রোগ হচ্ছে। ভবিষ্যতে যা কিডনি, চোখ ও হার্টের অসুখের জন্ম দিচ্ছে। এগুলিও ডায়াবিটিসের অন্যতম কারণ হিসেবেই ধরা হচ্ছে। মন্দাবাজারের প্রত্যক্ষ ফল এসে পড়ছে সাধারণ মানুষের জীবনে ফলে বাড়ছে টেনশন, হতাশা। স্ট্রেস হরমোন অত্যধিক বাড়ার কারণেও ডায়াবিটিস থাবা বসাচ্ছে মানবদেহে।

    বিশ্ব সমীক্ষায় দেখা গেছে যে, ২০ থেকে ৮০ বছরের পুরুষ ও নারীর মধ্যে প্রায় ৪৬ কোটি ৩০ লক্ষ মানুষ প্রতি বছরে ডায়াবিটিসে আক্রান্ত হচ্ছে। যা খুবই দুশ্চিন্তার বিষয়। গোটা বিশ্বে গত পাঁচ বছরে লাগামহীনভাবে বেড়ে চলেছে টাইপ-১ ও টাইপ-২ দুই প্রকার ডায়াবিটিস। 

    খ্রীস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকে প্রাচীন ভারতীয় আয়ুর্বেদশাস্ত্রে এই অসুখটিকে চিহ্নিত করা হয় ‘মধুমেহ’ নামে। সে সময়ে ডায়াবিটিস রোগীর প্রস্রাবে পিঁপড়েরা ঘুরে বেড়াচ্ছে কিনা দেখে রোগটি নির্ণয় করা হত। আরো পরবর্তীকালে ভারতীয় চিকিৎসক চরক এবং শুশ্রূত, টাইপ-১ এবং টাইপ-২ ডায়াবিটিসকে আলাদা আলাদা রূপে চিহ্নিত করেছিলেন। তাঁরা লক্ষ করেছিলেন প্রথমটি কম বয়সীদের হয় আর পরেরটি বেশি বয়স ও ওবেসিটির সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত।

    তবে, ভারতের যা অবস্থা তাতে এখনই বিশ্বের ডায়াবিটিক রাজধানীর তকমা জুটে গেছে। যা আমাদের দেশের মানুষের পক্ষে এক ভয়ঙ্কর অশনি সংকেত! সবুজ শাকসবজি, মধ্য তিরিশ পেরিয়ে ক্যালরি মেপে খাওয়া, জাঙ্ক ফুড আর ফাস্ট ফুড বর্জন, সঙ্গে নিয়মিত শারীরিক কসরত, ফ্রি হ্যান্ড এক্সারসাইজ করলে সুস্থজীবন লাভ করা যায়। এড়ানো যায় ডায়াবিটিসের মত রোগও।