মঙ্গলবার, নভেম্বর 24, 2020

ডিপ্রেশন মুক্তিতে যোগব্যায়াম
 ডিপ্রেশন মুক্তিতে  যোগব্যায়াম

ডিপ্রেশন মুক্তিতে যোগব্যায়াম

  • scoopypost.com - Aug 18, 2020
  • লকডাউনে দিনের পর দিন ঘরেতে থাকতে থাকতে স্ট্রেস আর ড্রিপেশন বাড়তেই থাকছে। এক গবেষণায় জানা গিয়েছে এই স্ট্রেস ডিপ্রেশনের ফলে মানুষের কার্য ক্ষমতা 70 শতাংশ কমে যায়। তাছাড়া হার্ট অ্যাটাক, ব্ল্যাড প্রেসার, ব্ল্যাড সুগার এধরণের মারাত্মক রোগের মাত্রাও বাড়িয়ে দেয়। বাড়িয়ে সুইসাইডের প্রবণতাও। তাই এই স্ট্রেস আর ডিপ্রেশনকে কমানো আমাদের খুবই জরুরি।

     প্রজাপতি আসনঃএ ই আসন করার সময় প্রজাপতির ডানার দেখতে লাগে। তাই এই আসনের নাম প্রজাপতি যোগাসন।

    পদ্ধতিঃ মাটিতে বসে দুই পায়ের পাতা জোড়া লাগান। তারপর পা ওঠান নামান।

    উপকারঃ আমাদের মেরুদণ্ডকে সোজা রাখে। দীর্ঘ অভ্যেসে স্নায়ু চনমনে হয়ে ওঠে। অবসাদ, ক্লান্তি দূর করতে সাহায্য করে। পাশাপাশি শরীর ও মনকে শান্ত রাখে।

     

    উষ্ট্রাসনঃ এই যোগাসন করলে কিছুটা উটের মতো দেখতে লাগে বলে এই নাম।


    পদ্ধতিঃ প্রথমে নীল ডাউন হয়ে বসুন। তারপর পিছন দিকে শরীরটা হেলিয়ে দিন।  দু’ হাত দিয়ে পায়ের গোড়ালি ধরুন। এবার মাথা পিছনের দিকে একটু ঝুঁকিয়ে দিয়ে আস্তে আস্তে পেট সামনের দিকে এগিয়ে দিন। এভাবে ২০-৩০ সেকেন্ড থাকুন।

    উপকারঃ রক্তের সঞ্চালন বাড়ায়, কোমরের ব্যাথা, কোষ্ঠকাঠিন্য,পেটে চর্বি কমায়, ব্রঙ্কাইটিস, হাঁপানি, ডিপ্রেশন থেকে মুক্তি পেতে এই ব্যায়াম বেশ কার্যকর।

    পশ্চিমত্তাসন

    পদ্ধতিঃ মাটিতে বসে পা ছড়িয়ে দুই হাত সোজা করে, ডান হাত দিয়ে ডান পায়ের আঙুল ধরুন। এভাবে ৩০ সেকেন্ড থাকুন।
    উপকারঃ স্ট্রেস কমায়। মেরুদণ্ড, পেট, হৃৎপিন্ডকে ঠিক রাখে। স্নায়ুর দুর্বলতা কমায়।

    সেতুবন্ধাসনঃ

    এই সেতুবন্ধাসন নিয়মিত করলে মেরুদণ্ডে রক্ত সরবরাহ বৃদ্ধি পায় । মনঃসংযোগের ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। এছাড়াও মাইগ্রেন, মাথা ব্যথা, সাইনাস ও ঘাড়ের ব্যথা এসব সমস্যার সমাধান হয়।

    পদ্ধতিঃ কোনও সমতল জায়গায় ওপর দিকে মুখ করে সটান শুয়ে পড়ুন। এরপর হাঁটু ভাঁজ করে, হাত দুটি পায়ের দিকে রাখুন। এবার কোমর থেকে বডি উপরে তুলে ৩০ -৪০ সেকেন্ড রাখুন। জোরে জোরে শ্বাস নিন।

    বালাসন

    নিয়মিত এই যোগাসন করলে শরীরের ও মস্তিষ্কের রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়। ফকে মস্তিষ্ককে শীতল করে। মনের ওপর স্ট্রেস কমায় এই আসন। এছাড়াও লকডাউনে ঘরে থাকায় এক বড় সমস্যা কোমরের ব্যাথা কমায়।

    পদ্ধতিঃ কোনও ফ্লোরে হাটু বরাবর বসে হাত দুটো সামনে রেখে। দুই হাতের মাঝ বরাবর কপাল মাটিতে রেখে ৩০- ৫০ সেকেন্ড থাকতে হয়।

    বজ্রাসন

    পদ্ধতিঃ মেরুদণ্ড সোজা রেখে হাত দুটি হাঁটুতে অথবা নমস্কার করার মতো রাখুন। তারপর গভীর শ্বাস নিয়ে ৩০ সেকেন্ড ধরে রাখুন। আস্তে আস্তে ছেড়ে দিন।

    উপকারঃ
    বজ্রাসন ব্রেনের অক্সিজেন প্রবাহ ভালো করে। পেটের জন্যও এই আসন খুব কার্যকর। তাছাড়া শরীরের রক্ত চাপ ও ব্লাড সুগারও নিয়ন্ত্রণে রাখে।

    হলাসন

    এই আসন হৃদপিণ্ডে রক্তসঞ্চালন ভালো করে। স্ট্রেস কমায়। ভুঁড়ি কমাতেও সাহায্য করে।

    পদ্ধতিঃ মেঝেতে টান টান হয়ে শুয়ে গভীর শ্বাস নিন। এরপর হাত দুটি লম্বা ভাবে ছড়িয়ে দিন। আস্তে আস্তে পা দুটো লম্বা করে উপরে তুলুন। একইভাবে পা জোড়া করে মাথার দিকে নিয়ে যান। যাতে মাথা ও পিঠ মাটি ছুঁয়ে খাকবে। এইভাবে ২০-৪০ সেকেন্ড  করুন। এরকম করে ৩ থেকে ৪ রিপিট করতে পারেন।

    ধনুরাসন

    ভুঁড়ি কমাতে এই আসনের জুড়ি মেলা ভার। তার পাশাপাশি শরীরে রক্তসঞ্চালন ভালো হয়। মানসিক, অবসাদ ক্লান্তিও চলে যাবে নিয়মিত অভ্যেসে।

    পদ্ধতিঃ ফ্লোরের দিকে মুখ করে শুয়ে পায়ের গোড়ালিতে হাত দিয়ে টেনে উপরে তুলে ৩০- ৫০ সেকেন্ড রাখুন।
    এছাড়াও ১০ -১৫ মিনিট প্রানায়ম করলে শরীর ও মন ভালো থাকে। দুশ্চিন্তা থেকে মুক্ত হওয়া যায়। তবে এবিষয়ে আরও বেশি কিছু জানতে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

    তবে শরীরে ব্যাথা-বেদনা থাকলে বা অ্যান্যান্য সমস্যা থাকলে চিকিত্সকের পরামর্শ নিয়ে ব্যায়াম করুন। বজ্রাসন, পদ্মাসন-সহ কয়েকটি সহজ আসনে অবশ্য কারও বাধা থাকে না।