মঙ্গলবার, নভেম্বর 24, 2020

কী চিবোচ্ছেন? সাবধান
কী চিবোচ্ছেন? সাবধান

কী চিবোচ্ছেন? সাবধান

  • scoopypost.com - Aug 19, 2020
  • সাত বছরে তিন গুণ বেড়েছে। তার সত্তর শতাংশই আবার ভারতে। সারা বিশ্বে গত সাত বছরে ধোঁয়াহীন তামাক সেবনের কারণে মৃত্যূর হার বেড়েছে তিন গুণ। সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। সমীক্ষায় বলা হয়েছে এই মৃত্যুহারে সবচেয়ে এগিয়ে ভারত। সমীক্ষায় উঠে আসা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে সরকার এবং বিভিন্ন জনস্বাস্থ্য সংস্থাগুলির কাছে অনুরোধ করা হয়েছে, তারা যেন এই ধোঁয়াহীন তামাক উৎপাদন এবং বিক্রি নিয়ন্ত্রণ করে। এই সমীক্ষা করেছে ইউ কের ইয়র্ক  ইউনিভার্সিটি। তাদের সমীক্ষা রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে বিএমসি মেডিক্যাল জার্নালে।

    তামাক সাধারণত জ্বালিয়ে অর্থাৎ সিগারেটের মাধ্যমে, বা গুটকা, খৈনি, জর্দার মাধ্যমে সেবন করা হয়। সিগারেট ছাড়া অন্য যে উপায়ে তামাক সেবন করা হয় তাকেই সমীক্ষক্রা ধোঁয়াহীন তামাক বলে চিহ্নিত করেছেন।

    সমীক্ষার তথ্য অনুযায়ী বিশ্বে ধোঁয়াহীন তামাক সেবনের কারণে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে সাড়ে তিন লাখ। এই সমীক্ষায় আরও একটি বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে যা বিশ্বব্যাপী এই কোভিড পরিস্থিতিতে খুব জরুরি। সমীক্ষকরা বলছেন, যাঁরা এই তামাক সেবন করেন তাঁদের এক স্বাভাবিক প্রবণতাই হল বার বার থুতু ফেলা। এই  মুহূর্তে যা কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ। কারণ বিশেষজ্ঞ্ররা বলছেন এই থুতু থেকে করোনা সংক্রমণ হয়। সমীক্ষার সহকারী লেখক কামরান সিদ্দিকি বলেছেন, এই তামাক সেবন করলে মুখে থুতু আসে, ফলে তা ফেলতে হয়। তাই থুতু ফেলার ওপর সম্পুর্ন নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলে এই অতিমারি সংক্রমণেও কিছুটা রাশ টানা যাবে।  

    সমীক্ষকরা বলছেন, ২০১৭ সালে এই তামাক সেবনের কারণে বিশ্বব্যাপী ৯০,০০০ মানুষের প্রাণ গিয়েছিল। তাছাড়া আরও অসংখ্য মানুষের আয়ু কমে যায় বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার কারণে। তাঁরা বলছেন, এই তামাক থেকে ক্যান্সার, হৃদরোগ ছাড়াও গলা, মুখ, ফুসফুসেরও অসুখ করে।

    কামরান সিদ্দিকি বলছেন, দক্ষিণ এবং দক্ষিণ পশ্চিম এশিয়াই এই তামাক সেবনের হটস্পট। বিশেষ করে ভারত। ভারতে এই তামাক সেবন জনিত অসুস্থতার হার ৭০ শতাংশ , পাকিস্তানে ৭ শতাংশ এবং বাংলাদেশে ৫ শতাংশ। সারা বিশ্বের নিরিখে এই ধোঁয়াহীন তামাক সেবনকারীর এক তৃতীয়াংশই ভারত, পাকিস্তান এবং বাংলাদশের। এর মধ্যে ভারতে এই হার আবার সবচেয়ে বেশি। সিদ্দিকি বলছেন, লন্ডনেও এশিয়ানদের মধ্যেই এই তামাক সেবনের হার সবচেয়ে বেশি। সেই কারণেই সিগারেটের মতোই এই তামাক ব্যবহারের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা অত্যন্ত জরুরি।তিনি বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তামাক নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে এক গাইড লাইন আছে। ধোঁয়াহীন তামাকের ক্ষেত্রেও সেই গাইডলাইন প্রয়োগ করা দরকার।