মঙ্গলবার, নভেম্বর 24, 2020

ঋতুকালীন ছুটি মঞ্জুর, দ্বিমত মহিলা মহলেই
ঋতুকালীন ছুটি মঞ্জুর, দ্বিমত মহিলা মহলেই

ঋতুকালীন ছুটি মঞ্জুর, দ্বিমত মহিলা মহলেই

  • scoopypost.com - Aug 16, 2020
  • জোমাটোর পর সুরাতের এক সংস্থাও পিরিয়ড লিভ অনুমোদন করল। সমাজের বিভিন্ন মহল থেকে এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানানো হয়েছে। বিশেষ করে মহিলা সংগঠনগুলি এই সিদ্ধান্তকে সমাজের পক্ষে মঙ্গলজনক বলে উল্লেখ করেছে।যদিও মহিলাদের মধ্যে এই ছুটি নিয়ে দ্বিমত আছে।  

    সম্প্রতি ফুড ডেলিভারি সংস্থা জোমাটো, তাদের মহিলা কর্মীদের জন্য  ঋতুকালীন ছুটি ঘোষণা করে। তারা জানিয়ে দেয় সংস্থার মহিলা কর্মীরা এখন থেকে বছরে ১০ দিন এই ছুটি পাবেন। জোমাটোর এই সিদ্ধান্তকে সমাজের বিভিন্ন মহল থেকে স্বাগত জাননো হয়েছে। মহিলা সংঠনগুলি এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি সরকারকে এই বিষয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে বহু মহিলা এই ছুটি নিয়ে ভিন্ন মত পোষণ করছেন।

    বিশ্বের নিরিখে দেখতে গেলে বলতে হয় জাপানে বহু আগে থেকে এই ছুটি অনুমোদিত হয়েছে। ১৯২০ সাল থেকে জাপানের কর্মী সংগঠনগুলি এই ছুটির দাবি জানাতে থাকে। অবশেষে ১৯৪৭ সালে এই নিয়ে আইন পাশ হয়ে। ভারতের কেরালাতেও কোনও কোনও স্কুলে ছাত্রীদের এই ছুটি দেওয়া হয়। সেই ১৯১২ সাল থেকেই সেখানে এই ছুটি অনুমোদিত হয়েছে।

    বিহার সরকার তাদের মহিলা কর্মীদের জন্য এই ছুটি অনুমোদন করে ১৯৯২ সালে। লালু প্রসাদ যাদব মুখ্যমন্ত্রী থাকার সময়ই বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন এই ছুটির দাবি জানায়। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সেই দাবি অনুমোদন করেন লালুপ্রসাদ যাদব।

    বেসরকারি ক্ষেত্রেও এখন বহু সংস্থা এই ছুটি অনুমোদন করছে। জোমাটো এই ছুটি ঘোষণা করার পর সুরাতের এক ডিজিটাল সংস্থা তার মহিলা কর্মীদের জন্য বছরে ১২ দিন এই ঋতুকালীন ছুটি অনুমোদন করেছে। ২০১৭ সালে মুম্বইয়ের এক মিডিয়া সংস্থা তাদের মহিলা কর্মীদের জন্য ছুটি ঘোষণা করেছিল ।যদিও সেই ঘোষণায় সংস্থার কিছু মহিলা সহমত পোষণ করেননি। এমনকী সমাজের বহু মহিলাও এই ছুটিকে স্বাগত জানাননি। তাঁরা মনে করেন, এই ছুটি কর্মক্ষেত্রে মহিলাদের অনেক পিছিয়ে দেবে। শুধু তাই নয় এর এক সুদূর প্রসারি প্রভাব পড়তে পারে মহিলাদের কর্মসংস্থানের ওপর। তাঁরা মনে করেন এই ছুটি নেওয়া মানেই পুরুষ কর্মীদের চেয়ে একধাপ পিছিয়ে যাওয়া। তার সঙ্গে কর্মক্ষেত্রে যৌন লাঞ্ছনার শিকারও হতে হবে। কারণ এই ছুটি নিলে পুরুষ সহকর্মীরা তাঁদের নিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ কটাক্ষ করতে পারেন। এর পাশাপাশি বহু মালিক শুধু মাত্র এই কারণে মহিলা কর্মী নিয়োগ করতে চাইবেন না।পুরুষ সহকর্মীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়বেন মহিলারা।

    পিরিয়ড লিভ নিয়ে মহিলাদের মধ্যে দ্বিমত থাকলেও অধিকাংশ মহিলাই একে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁরা মনে করেন সমাজে সর্বস্ত্ররে যখন এই ছুটি স্বীকৃতি  পেয়ে যাবে তখন এই নিয়ে মহিলাদের আর আলাদা করে কোনও হয়রানির শিকার হতে হবে না।