বুধবার, নভেম্বর 25, 2020

সেক্সই মাথাব্যথা !
সেক্সই মাথাব্যথা !

সেক্সই মাথাব্যথা !

ফটো ক্রেডিট : প্রতিকী ছবি

  • scoopypost.com - Sep 04, 2020
  • সঙ্গমে সুখ নেই, মিলনে প্রশান্তি নেই ! যৌনমিলনে অনীহা ! যন্ত্রণায় কি মাথা ফেটে যায়? সেক্স বা যৌনমিলনকালে মাথা যন্ত্রণা ! মিলনের সুখানুভূতিটুকুও একেবারে উধাও হয়ে যায় এমন মাথা ব‍্যথায়। শুনতে হাস‍্যকর মনে হলেও বহু পুরুষের মধ্যে এরকম মাথা ব‍্যথা দেখা যায় যা ' সেক্স হেডেক ' নামে পরিচিত। চিকিৎসাশাস্ত্রে এর নাম 'কয়টাল সেফালালজিয়া।' এধরনের সেক্স হেডেক যৌনমিলনের ঠিক আগে অথবা পরে শুরু হতে পারে এমনকী চরম সুখের মুহূর্তেও তা শুরু হতে পারে। তবে কিছু ক্ষেত্রে মহিলাদেরও সেক্স হেডেকের শিকার হতে দেখা যায়।
    এমনিতে মাথা ব‍্যথা বা যন্ত্রণা একদম হয়না এমন মানুষ বিরল। কম ঘুম, অতিরিক্ত পরিশ্রম, উদ্বেগ এমনকী বিকট শব্দে মাথার যন্ত্রণা হতে শুরু করে। কিন্তু যৌনমিলনকালে মাথা ধরলেও বিশেষ গুরুত্ব দেন না অনেকেই। এধরনের মাথাব‍্যথার লক্ষণ হল, প্রাক মুহুর্তে যন্ত্রণা প্রথমে মাথায় শুরু হয়ে ঘাড়েও ছড়িয়ে পড়ে। তারপর উত্তেজনা বৃদ্ধির সঙ্গে মাথায় যন্ত্রণা আরও বাড়তে থাকে। অনেকসময় মিলনের মাঝেই আচমকা সেক্স হেডেক শুরু হয় এবং চরম মুহূর্ত পর্যন্ত স্থায়ী হয়। কোনও কোনও ক্ষেত্রে সেক্স হেডেক শুরু হয় চরম মুহূর্ত শেষে। এধরনের মাথাব্যথা মাত্র কয়েক মিনিট থাকতে পারে। বেশি হলে কয়েক ঘণ্টা আর খুব বেশি হলে দু' তিনদিন। যেসমস্ত পুরুষ মাইগ্রেনের যন্ত্রণায় ভোগেন সহবাসকালে তাঁদের এধরনের মাথাব‍্যথা হতে পারে। অনেকেই এধরনের মাথাব‍্যথার কারণ বুঝে উঠতে না পেরে বিষয়টি অবহেলা করে থাকেন। কিন্তু সেক্স হেডেক থেকে যৌনক্ষমতা কমে যাওয়া, মিলনে অনাগ্রহ এমনকী চরম মুহূর্তে পৌঁছনোয় ভীতি তৈরি হতে পারে। সবথেকে গুরুতর যা, তা হল স্নায়বিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। সেক্স হেডেকের ফলে স্নায়বিক পীড়ার লক্ষণ হল ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া, বমিভাব, উচ্চ রক্তচাপ, চেতনা থাকা সত্বেও আচ্ছন্ন ভাব, দোনামনা ভাব এমনকী পক্ষঘাতও হতে পারে।
    সেক্স হেডেকের নির্দিষ্ট কোনও কারণ এখনও চিকিৎসাশাস্ত্রে অমিল। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আচমকাই এধরনের মাথাব‍্যথা শুরু হয় এবং তা তেমন ক্ষতিকর নয়। তবে সেক্স হেডেকের সঙ্গে স্নায়বিক সমস্যা দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট ব‍্যক্তির স্বাস্থ্য সংক্রান্ত আরও কিছু সমস্যা আছে ধরে নেওয়া যায়।
    সেক্স হেডেকের ফলে ধমনীর অভ‍্যন্তরস্থ দেওয়াল ফুলতে থাকে। মস্তিষ্কেও ফোলাভাব দেখা দিতে পারে যার থেকে স্ট্রোক অথবা হৃদরোগের সম্ভাবনা থাকে। দীর্ঘদিন জন্মনিরোধক বড়ি এবং অ্যামিওডরোন ওষুধ খেলে এজাতীয় সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। কাজেই যৌনমিলনকালের মাথাব‍্যথা অবহেলা করে উড়িয়ে না দেওয়াই ভালো। অনেক পুরুষ এধরনের সমস্যার শিকার হলেও লোকলজ্জার ভয়ে চেপে রাখেন। কারণ সেক্স নিয়ে ভারতীয় সমাজে ট‍্যাবু রয়েছে। তবে সমস্যা না পুষে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। এক্ষেত্রে সেক্স হেডেক উপষমে চিকিৎসকরা প্রোপ্রানোলল হাইড্রোক্লোরাইড, নারট্রিপটান, এরগটস, বেঞ্জোডায়াজেপাইনস অথবা ইন্ডোমেথাসিন জাতীয় ওষুধ দিতে পারেন। যৌনমিলনের আগে এজাতীয় ওষুধ খাওয়ার পরামর্শ দিতে পারেন তাঁরা। অনেকক্ষেত্রে রোগীর যৌনজীবনে কিছু পরিবর্তন এনে সেক্স হেডেকের চিকিৎসা করে থাকেন চিকিৎসকরা। যৌনসঙ্গমের আগে ঘাড়, কাঁধের ব‍্যায়াম করে শরীর হালকা নমনীয় করার পরামর্শ দেওয়া হয়। ঘাড় এমনকী চোয়াল শক্ত হলেও সেক্স হেডেক দেখা দেয়। এক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট ব‍্যায়াম শিখিয়ে দেন চিকিৎসকরা। পাশাপাশি যৌনমিলনকালে যে সমস্ত মুদ্রা সুখানুভূতিকে ছাপিয়ে শারীরিক কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায় তা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। কাজেই সেক্স হেডেক থাকলে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। কষ্টকর যৌনমিলনের অতৃপ্তি থেকে সমস্যা চার দেওয়ালের চৌহদ্দি পেরিয়ে চলে যেতে পারে বহুদূর।