বুধবার, মে 12, 2021

এ শহরের স্ট্রিট-ফুড, 'ফুডকা'র চোখে!
এ শহরের স্ট্রিট-ফুড, 'ফুডকা'র চোখে!

এ শহরের স্ট্রিট-ফুড, 'ফুডকা'র চোখে!

  • scoopypost.com - Sep 04, 2020
  • কলকাতা, দ্য সিটি অফ প্যাশন, সিটি অফ জয়। তবে কলকাতার আরও একটা অন্য নাম আছে। 'কলকাতা ইজ দ্য সিটি অফ টেস্ট'। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন রকম খাবার পাওয়া যায়। তবে কলকাতার স্ট্রিট ফুড সব দেশকেই হার মানাতে পারে। বলছেন বাঙালি ফুড ব্লগারদের অন্যতম সেরা টিম ‘ফুডকা’র অন্যতম কর্ণধার ইন্দ্রজিৎ লাহিড়ি। স্কুপি পোস্টের এক আড্ডায় মুখোমুখি হয়েছিলেন খাদ্যরসিক বাঙালির সোশ্যাল মিডিয়ার অন্যতম আকর্ষণ ফুডকার ইন্দ্রজিৎ লাহিড়ি। সেখানেই নিজের ভাষায় তুলে ধরলেন এ শহরের 'জিভে প্রেম'-এর কথা।

    "স্বাদের দিক থেকে কলকাতার স্ট্রিট ফুড পৃথিবীর অন্যতম সেরা। এটা আমরা বলতেই পারি। কারণ, এত কম দামে এত সুস্বাদু খাবার আমার জানা নেই অন্য কোনও দেশে পাওয়া যায় কিনা। তবে কলকাতার স্ট্রিট ফুডকে আমি অবশ্যই দুটি ভাগে ভাগ করতে চাই। প্রথমত, আমি মনে করি কলকাতার স্ট্রিট ফুড ভারতবর্ষে তো বটেই, কার্যত বিশ্বের অন্য যে কোনও জায়গার থেকে সস্তা। আমাদের এখানে যে পরিমাণ টাকায় দুপুরে বা রাতে একটা মানুষ খাবার খেতে পারবে, আশা করিনা অন্য কোথাও সেটা পাবে। দ্বিতীয়ত, কলকাতার একটা বিশেষ ব্যাপার হল এখানের খাবারের রকমারিতা। আমরা খুব কম টাকায় কলকাতার রাস্তায় অনেক রকমের খাবার খেতে পারি। দই-চিড়ে, খিচুড়ি, ডিম টোস্ট থেকে বিরিয়ানি, রোল, চাউমিন, কলকাতার রাস্তায় সবচেয়ে কম দামে এত দারুণ স্বাদের খাবার কোথাও পাওয়া যাবে না। তাই বলা যেতেই পারে, এমন স্বাদটি কোথাও খুজে পাবে না কো তুমি, সকল স্বাদের রাণী সে যে আমার জন্মভূমি..."

    বলে চলেন ইন্দ্রজিৎ..."কলকাতার স্ট্রিট ফুড স্বাদের দিক থেকে এগিয়ে থাকলেও, আমার মতে কলকাতার স্ট্রিট ফুড আজও কিছুটা পিছিয়ে প্যাকেজিংয়ের দিক থেকে। ব্যাঙ্ককও স্ট্রিট ফুডের দিক থেকে গ্লোবালি অন্যতম এক সেরা আকর্ষণ। তবে সেখানে কলকাতার মত স্বাদের বাহার না থাকলেও তাদের আসল ইউএসপি প্যাকেজিংয়ে।কারণ ব্যাঙ্ককে ইতিমধ্যেই ফুড টুরিজম চালু হয়ে গেছে। থাই ফুডের প্যাকেজিং টুরিস্টদের নজর কাড়ে। কিন্তু কলকাতায় এখনও সেই প্যাকেজিং সব জায়গায় চালু করা সম্ভব হয়নি। নিউটাউনের দিকে যেমন স্ট্রিট ফুড জোন তৈরি করা সম্ভব হয়েছে সেটা কিন্তু এখনও কলকাতার আর কোনও জায়গায় দেখা যায় না। এই মোড়ক বা প্যাকেজিংয়েই কলকাতার স্ট্রিট ফুড অনেকটা পিছিয়ে যাচ্ছে বলে আমার মনে হয়।" 

    স্বাদে বাঙালি জগৎ সভায় শ্রেষ্ঠ আসন লবে...

    "আমরা সত্যি পারি জগৎ সভায় কলকাতার দারণ স্বাদের খাবার দাবারকে একটা ভালো জায়গা দিতে।তার জন্য যেমন আমাদের বিশেষ কিছু দিকে নজর দিতে হবে তেমনই খাদ্যরসিক বাঙালিকেও কিছু 'স্যাক্রিফাইস' বা বলিদান দিতে হবে। পশ্চিমবঙ্গ সরকার যে ভাবে কলকাতার ঐতিহ্যবাহী এই স্ট্রিট ফুডকে টুরিস্টদের কাছে তুলে ধরার জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে তা সত্যি অতুলনীয়। যেমন ফুড ফেস্টিভ্যালগুলো। একটি ফুড ফেস্টিভ্যালে এক ছাদের তলায় কলকাতার বিভিন্ন স্ট্রিট ফুড চেখে দেখা সম্ভব। এটা সত্যি উৎসাহ যোগানোর প্ল্যাটফর্ম বলেই আমার মনে হয়।"

    কলকাতার স্ট্রিট ফুডকে নতুন আঙ্গিকে তুলে ধরতে গেলে কী কী প্রয়োজন: 

    • এত কম দামে স্ট্রাকচারাল চেঞ্জ করা সম্ভব নয়। যদি কেউ মনে করেন ৮ টাকায় ডিম টোস্টের সঙ্গে ডিম সেদ্ধ খাবো সেটা সম্ভব হবে না। সেক্ষেত্রে দাম বাড়াতে হবে। গঠনগত পরিবর্তনের জন্য দাম বাড়ানোই হবে প্রথম পদক্ষেপ।
    • দামের মধ্যে সামঞ্জস্য আনতে হবে। একই কচুরি শ্যামবাজারে একরকম দাম আবার ডালহৌসিতে অন্যরকম দাম। এটা চলবে না। পুরো কলকাতা জুড়ে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে সব স্ট্রিট ফুড বিক্রেতাদের নিয়ে বৈঠক করে আইটেমপিছু একটা নির্দিষ্ট দাম নির্ধারণ করতে হবে।
    • হাইজিন ফ্যাক্টর কিন্তু একটা বড় বিষয়। বিশেষ করে পোস্ট কোভিড সিনারিওতে হাইজিন খুব বড় ফ্যাক্টর স্ট্রিট ফুডের দিক থেকে। এটার মান চুড়ান্ত পর্যায় বাড়াতে হবে। রাজ্য সরকারের কাছে অনুরোধ যে সমস্ত খাবার বিক্রেতারা সঠিকভাবে কোভিড পরবর্তী সময় হাইজিন মেনে চলছে তাঁদের সন্মান জানানো হোক। তাহলে তাদের দেখে অন্যরাও সরকারি সম্মান পাওয়ার আশায় স্বাস্থ্যকরভাবে খাবার পরিবেশনে উদ্যোগী হবেন। আর যারা করছে না তাদের নিয়ে একটা ওয়ার্কশপ করানো উচিত।
    • আমাদের স্ট্রিট ফুডের কোনও ব্র্যান্ডিং নিয়ে কেউ ভাবেনি। তবে কলকাতার স্ট্রিট ফুডকে অন্যমাত্রায় নিয়ে যেতে গেলে ব্র্যান্ডিং খুব প্রয়োজন। মুম্বইয়ের যেমন বড়াপাওয়ের একটা ব্র্যান্ডিং আছে তেমনই আমাদের কলকাতার স্ট্রিট ফুডের একটা ব্র্যান্ডিং হলে খুব ভালো হয়।

    ইন্দ্রজিৎবাবুর কথায়,কলকাতার স্ট্রিট ফুড সেরা ছিল, সেরা আছে, সেরা থাকবে। সেক্ষেত্রে রাজ্য সরকার যেভাবে এই স্ট্রিট ফুডকে তুলে ধরার পরিকল্পনা করছে তাতে আগামী পাঁচ বছরে কলকাতার নামও স্ট্রিট ফুড টুরিস্ট ডেস্টিনেশনের তালিকায় থাকবে। একদিন হয়তো বিদেশে গিয়েও শোনা যাবে কলকাতার স্ট্রিট ফুডের পঞ্চমুখে প্রশংসা।