বৃহস্পতিবার, অক্টোবর 29, 2020

বীণাপাণির স্পেশ্যাল ভোগ
বীণাপাণির স্পেশ্যাল ভোগ

বীণাপাণির স্পেশ্যাল ভোগ

  • scoopypost.com - Jan 27, 2020
  • বৈভব ও অভিপ্সিতার ছেলে আড়াই বছর হল। বেঙ্গালুরুতে চাকরি করে দুজনেই। ছেলে প্লেস্কুলে যাওয়া শুরু করেছে। কিন্তু বৈভবের মায়ের খুঁতখুতুনি নাতির হাতেখড়ি হবে না? তিনিও বাড়িতে জাঁকজমক করে পুজো করে ছেলে বৈভবের হাতেখড়ি দিয়েছিলেন সরস্বতী ঠাকুরের সামনে।এখন কী দিন কাল এল। আড়াই বছরের বাচ্চা সেও নাকি স্কুল যাচ্ছে। তা যাচ্ছে যাক কিন্তু হাতেখড়ি হবে না সে কী কথা!

    শাশুড়ি মায়ের আবদার ফেলতে পারেনি অভিপ্সিতা।তাছাড়া শুধু শাশুড়ি মা কেন, তার মাওতো ঘ্যানঘ্যান করেছে দাদুভাইয়ের হাতেখড়ি নিয়ে। কিন্তু বেঙ্গালুরুতে বসে কী করে অভিপ্সিতা। দুজনের কারও ছুটি নেই।তাছাড়া এতো কলকাতা নয়, পাড়ায় পাড়ায় পুজো। বাঙালি কমিউনিটির পুজো তাদের থাকার জায়গা থেকে দূরে।কলকাতা যাওয়ার ছুটি পাওয়া যাবে না। শাশুড়ি মা বুদ্ধি দিয়েছেন বাড়িতেই পুজো করতে।অনলাইনে সরস্বতী মূর্তি পাওয়া যাবে। মায়ের চাপে বৈভব মুখোপাধ্যায় ইন্টারনেট খুলে পুজোর আচার, মন্ত্রতন্ত্র উচ্চারণ প্র্যাক্টিস করা শুরু করেছে। শুধু যে করেছে তাই নয়, অভিপ্সিতাকে রীতিমতো চ্যালেঞ্জ করেছে আচার মেনে ভক্তিভরে পুজো করে দেখাবে। যে ল্যাপটপ চালায়, সে মন্ত্রও পড়তে পারে। আর অভিপ্সিতার দায়িত্ব বীণাপাণিকে ভোগ নিবেদনের। চ্যালেঞ্জ নিয়ে সেও হ্যাঁ করেছে। পিছিয়ে তো আসা যায় না।কিন্তু কী করবে এখন হাইটেক গিন্নি!

    স্কুপিপোস্ট সঙ্গে আছে অভিপ্সিতাদের মতো আধুনিকাদের জন্য। যারা অফিস করে, গাড়ি চালায়, সন্তান পালন করে, সংসার সামলায় আর হ্যাঁ পুজোর ভোগও রাঁধতে জানে।চুপি চুপি দেখে নিন। রইল সরস্বতী পুজোর স্পেশ্যাল খিচুড়ি, লাবড়া, আলুরদম, বাঁধাকপি, কুলের চাটনির রেসিপি।

    স্পেশ্যাল ভোগ খিচুড়ি

    লাগবে-গোবিন্দভোগ চাল, সোনামুগ ডাল, ফুলকপি, আলু, কড়াইশুটি, জিরে, তেজপাতা, লবঙ্গ, ঘি, নুন, চিনি, আদা বাটা, কাঁচালঙ্কা বাটা, টমেটো, হলুদ, লঙ্কাগুঁড়ো, শুকনো লঙ্কা সরষের তেল

    রান্নার পদ্ধতি- পরিমাণ মতো গোবিন্দভোগ চাল ভাল করে ধুয়ে জল ঝরিয়ে রাখুন।শুকনো কড়াইতে হালকা করে ভেজে নিন সোনামুগ ডাল। গোবিন্দভোগ চালও ঘিয়ে হালকা করে ভেজে সরিয়ে রাখুন। এবার শুকনো কড়াইতে তেজপাতা, জিরে, শুকনো লঙ্কা, লবঙ্গ হালকা করে ভেজে গুঁড়িয়ে নিন। আলু ও ফুলকপি ছোট ছোট টুকরো করে নুন ও হলুদ মাখিয়ে ভেজে নিন।

    কড়াইতে সরষের তেল দিয়ে জিরে, শুকনো লঙ্কা, তেজপাতা ফোড়ন দিন। কড়াইতে দিয়ে দিন একসঙ্গে বাটা আদা ও কাঁচালঙ্কা, একটু কষিয়ে দিয়ে দিন ছোট ছোট করে কাটা টমেটো। নুন, হলুদ, সামান্য চিনি ও লঙ্কাগুঁড়ো দিয়ে নাড়তে থাকুন। একটু চাপা দিয়ে রাখুন যতক্ষণ না টমটো গলছে। মশলা, টমেটো কষানো হলে দিয়ে দিল ভেজে রাখা চাল ও ডাল। নাড়তে থাকুন।দিয়ে দিন ভেজে রাখা আলু। আর একটি পাত্রে গরম জল করে রাখুন। রান্না হবে গরম জল দিয়ে।চাল, ডাল ভাল করে নাড়িয়ে মাপমতো জল দিন। খুব বেশি একসঙ্গে দেবেন না। স্বাদ নষ্ট হয়ে যাবে। ঢাকা দিয়ে চাল, ডাল সেদ্ধ হতে দিন। বেশ কিছুক্ষণ পর চাল, ডাল মোটামুটি সেদ্ধ হয়ে গেলে জল কমে এলে একবার খুন্তি দিয়ে নাড়িয়ে মিশিয়ে দিন ভেজে রাখা ফুলকপি ও কড়াইশুটি।আবার একটু গরম জল দিয়ে ঢাকা দিয়ে দিন।খিচুড়িতে জল টানে। তাই একটু জল থাকা অবস্থাতেই খিচুড়ি নামানো ভাল। নামানোর আগে ওপর থেকে ছড়িয়ে দিন ঘি ও তৈরি করা মশলা গুঁড়ো।বিদ্যার অধিষ্ঠাত্রীকে নিবেদনের জন্য খিচুড়ি রেডি।

     লাবড়া

    নামটা যেমনই লাগুক, সরস্বতীর পুজোর ভোগের খিচুড়ি লাবড়া ছাড়া ঠিক জমে না।

    লাগবে-আলু, রাঙা আলু, কুমড়ো, মূলো, বেগুন, সিম, পালং শাক, নটে শাক,পাঁচ ফোড়ান, আদা ও কাঁচা লঙ্কা বাটা, শুকনো লঙ্কা, হলুদ গুঁড়ো, লঙ্কা গুঁড়ো, ধনে, জিরে গুঁড়ো, দারচিনি, এলাচ, লবঙ্গ, তেজপাতা

    রান্নার পদ্ধতি-সমস্ত সবজি ডুমো ডুমো করে কেটে ধুয়ে নিন। শাকও ধুয়ে কেটে রাখুন।এবার শুকনো কড়াইতে জিরে, শুকনো লঙ্কা, পাঁচ ফোড়ন, দারচিনি, এলাচ, তেজপাতা হালকা ভেজে গুঁড়ো করে মশলা তৈরি করে নিন। কড়াইতে সরষের তেল দিয়ে শুকনো লঙ্কা ও পাঁচ ফোড়ন দিন। সমস্ত সবজি ভাল করে ভেজে নিন। তার মধ্যে দিয়ে দিন শাক। নুন, হলুদ, আদা ও কাঁচালঙ্কা বাটা, ধনে ও জিরে গুঁড়ো, স্বাদমতো চিনি দিয়ে কষিয়ে ঢাকা দিয়ে রাখুন। সবজি ও শাকের জলেই ভাপে সমস্তটা সেদ্ধ হয়ে যাবে। প্রয়োজন হলে সামান্য গরম জল দিতে পারেন।সবজি ভালভাবে সেদ্ধ হয়ে গেলে ওপর থেকে ভাজা মশলা ও ঘি ছড়িয়ে মিশিয়ে নিন।লাবড়ার সবজি কিন্তু গলতে হবে, তবে খেয়াল রাখতে হবে সমস্তটা গলে ঘ্যাঁট হয়ে যাবে না।

     আলুর দম

    লাগবে-আলু, চাল মগজ, পোস্ত, কাজু বাদাম আদা, কাঁচালঙ্কা, জিরে, কাশ্মীরি লঙ্কা গুঁড়ো, শুকনো লঙ্কা, হলুদ, নুন, চিনি, ঘি, লবঙ্গ, গোল মরিচ, এলাচ, তেজপাতা

    রান্না-সরস্বতীপুজোর সময় নতুন আলু বাজারে আসে। তাই ভোগে নতুন আলু দিয়েই দম করতে পারেন।আলু নুন দিয়ে সেদ্ধ করে নিন। ৭০%-এর মতো সেদ্ধ করবেন।তার আগে কাঁটা চামচ দিয়ে আলুর গায়ে গর্ত করে নিন। যাতে ভেতরে নুন, মশলা ঢুকতে পারে।সেদ্ধ আলু ছাড়িয়ে নুন, লঙ্কা গুঁড়ো দিয়ে ভেজে নিন।

    এবার তৈরি করতে হবে মশলা। প্রথমে শুকনো কড়াইতে তেজপাতা, শুকনো লঙ্কা, জিরে, এলাচ, গোলমরিচ, লবঙ্গ একটু ভেজে গুঁড়ো করে নিন। এবার মিক্সিতে বা সিলে চালমগজ, কাজুবাদাম, আদা, কাঁচালঙ্কা, পোস্ত একটু জল ও সরষের তেল দিয়ে বেটে নিন। আর একটি পাত্রে টক দইয়ের সঙ্গে হলুদ, কাশ্মীরি লঙ্কা গুঁড়ো, ধনে গুঁড়ো, নুন ও চিনি ভাল করে ফেটিয়ে নিন। কড়াইতে শুকনো লঙ্কা ও জিরে ফোড়ন দিয়ে প্রথমে দইয়ের পেস্ট ও পরে চালমগজের পেস্ট দিয়ে ভাল করে কষিয়ে নিন। অবশ্যই মিডিয়াম আঁচে কষাবেন।মশলা কষানো হয়ে গেলে দিয়ে দিন ভেজে রাখা আলু। মশলার সঙ্গে ভালভাবে নাড়াচাড়া করে দিয়ে দিন মাপমতো গরমজল। যেহেতু আলু আগেই সেদ্ধ করে ভেজে রাখা তাই বেশি জল দেওয়ার দরকার নেই।এবার আর একটি কড়াইতে ঘি নিয়ে তাতে জিরে, শুকনো লঙ্কা ও তেজপাতা ফোড়ন দিন। আঁচ কমিয়ে নাড়িয়ে নিন। তারপর আলুর দমে ওপর থেকে মিশিয়ে দিন। ছড়িয়ে দিন ভেজে রাখা মশলা।

    বাঁধাকপি

    লাগবে- নতুন আলু, বাঁধাকপি, কড়াইশুটি, টমেটো, আদা, লঙ্কা বাটা, ধনে-জিরে গুঁড়ো, শুকনো লঙ্কা, জিরে, ঘি, গরম মশলা গুঁড়ো

    রান্নার পদ্ধতি-বাঁধাকপি কুঁচিয়ে ধুয়ে জল ঝরিয়ে রাখুন।কড়াইতে সরষের তেলে শুকনো লঙ্কা, তেজপাতা, জিরে ফোড়ন দিন।তার মধ্যে দিয়ে দিন ভাল করে ধুয়ে রাখা খোসা-সহ আলু ও ছাড়িয়ে রাখা কড়াইশুটি। ভাল করে ভেজে তার মধ্যে দিয়ে দিন আদা-লঙ্কা বাটা, হলুদ, লঙ্কা গুঁড়ো, জিরে, ধনে গুঁড়ো, স্বাদমতো চিনি। এবার দিয়ে দিন কেটে রাখা টমেটো। ভাল করে কষাতে থাকুন যতক্ষণ না টমেটো গলে যাচ্ছে। তারপর বাঁধাকপি দিয়ে কষতে থাকুন ঢাকা দিয়ে। কিছুক্ষণের মধ্যেই বাঁধাকপি থেকে জল ছাড়তে শুরু করবে। ওই জলেই সেদ্ধ হবে বাঁধাকপি। পুরো রান্নাটাই হবে মিডিয়াম আঁচে, ঢাকা দিয়ে। তাতেই বাড়বে স্বাদ। শেষে ঘি ও গরম মশলা দিয়ে নামিয়ে নিন।

    কুলের চাটনি

    লাল লাল টোপা কুল সরস্বতীপুজোর স্পেশ্যালিটি। মা সরস্বতীর ভোগ-প্রসাদ কি কুল ছাড়া হয়। ফলে থাকে নারকেল কুল। আর খিচুড়ি ভোগের সঙ্গে টোপা কুলের অম্বল নয়তো চাটনি।

    লাগবে-টোপা কুল, শুকনো লঙ্কা, সরষে, নুন, চিনি বা গুড়, হলুদ

    রান্নার পদ্ধতি-কড়াইতে সরষের তেল দিয়ে শুকনো লঙ্কা ও সরষে ফোড়ন দিন। তারপর দিয়ে দিন কুল।ভাল করে নাড়তে থাকুন। এর মধ্যে দিয়ে দিন সামান্য হলুদ ও স্বাদমতো নুন। ভাল করে মিশিয়ে দিয়ে দিন গরম জল। কুলের চাটনি বা অম্বল কিন্তু একটু পাতলাই হবে। কুল সেদ্ধ হয়ে গেলে মিশিয়ে দিন স্বাদমতো গুড় বা চিনি। গুড় দিলে স্বাদটা বেশ অন্যরকম হয়।আরও কিছুক্ষণ ফুটিয়ে নামিয়ে নিন।