সোমবার, অক্টোবর 26, 2020

ছেলেমেয়ের যৌন শিক্ষার পাঠ বাড়িতেই ?
ছেলেমেয়ের যৌন শিক্ষার পাঠ বাড়িতেই ?

ছেলেমেয়ের যৌন শিক্ষার পাঠ বাড়িতেই ?

  • scoopypost.com - Jan 02, 2020
  • এই জন্মায় শিশু। চোখের পলকে বড় হয়ে ওঠে। বাচ্চারা কখন যে বড় হয়ে ওঠে বাবা, মায়েরা বুঝতেও পারেন না। আসলে বাচ্চার কথা বলা, হাঁটতে শেখা সমস্ত কিছু নিয়ে তাঁরা এতটাই ব্যস্ত থাকেন নিমেষে সময় কেটে যায়।

    বাচ্চা বড় হলেই বাড়ে বাবা-মায়ের দায়িত্ব। শুধু পড়াশোনা, আচার-আচরণ শেখানোই নয়, সেইসঙ্গে অত্যন্ত জরুরি যৌনশিক্ষাও। বলছেন, পেরেন্টিং কনসালটেন্ট পায়েল ঘোষ। বিদেশে যৌন শিক্ষার জন্য স্কুলে কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা থাকলেও, এদেশে নেই। আর বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বাবা-মায়েরা বুঝতেই পারেন না তাঁরা কীভাবে ছেলে, মেয়ের সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলবেন।

    এক্ষেত্রে বাবা-মায়েদের কী করণীয়, কোন বয়স থেকে বাচ্চাদের যৌন শিক্ষা বা সেক্স এডুকেশন শুরু হওয়া উচিত জানালেন পায়েল ঘোষ।

    যৌন শিক্ষার বিষয়টাকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। প্রথম, শিক্ষা শুরু করা দরকার বছর তিন থেকেই যখন শিশু প্রথম কিন্ডারগার্টেন বা প্রি-স্কুলে যাচ্ছে। দ্বিতীয় ধাপটা শুরু হওয়া উচিত কৈশোরের শুরুতে। তবে এখনকার পরিস্থিতি অনুযায়ী ১০-১২ বয়স থেকেই। আর তৃতীয় ধাপটা হওয়া দরকার, ১৬-১৭ বছরে।

     প্রথম ধাপ১. বাচ্চা যখন বড় হতে থাকে, তখন বাবা, মা তাকে শরীরে বিভিন্ন অঙ্গ প্রত্যঙ্গ চেনান।কিন্তু এক্ষেত্রে অভিভাবকদের বাচ্চার প্রাইভেট পার্টস নানা রকম নামে শেখানোর প্রবণতা দেখা যায়। সেটা ঠিক নয়। শরীরের প্রতিটা অঙ্গ ও প্রত্যঙ্গ সঠিক নামে চেনানো দরকার। ব্রেস্ট, জেনিটাল অরগ্যান সমস্তটাই।

    ২. প্রি স্কুলে যাওয়ার সময় থেকেই শিশুকে বোঝানো দরকার তার প্রাইভেট পার্টস সম্পর্কে। ছেলে ও মেয়ে দু’জনের প্রাইভেট পার্টস আলাদা। সেগুলো ঢেকে রাখতে হয়। অন্য কারও প্রাইভেট পার্টসে হাত দিতে নেই। বিশেষত টয়লেট ব্যবহারের সময় সচেতনতা দরকার।

    ৩.অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ গুড টাচ, ব্যাড টাচ সম্পর্কে ধারণা দেওয়া।বাচ্চাকে বোঝাতে হবে তার প্রাইভেট পার্টস যেমন বুকে, হিসু ও পটি করার জায়গায় কেউ যেন হাত না-দেয়। কোন আদরটা ভাল, কোনটা ঠিক নয়। বাবা, মা, দাদু, ঠাকুমা বা খুব কাছের কেউ ছাড়া যেন অন্য কেউ তার প্রাইভেট পার্টসে হাত দিলে সে বাধা দেয়। দরকারে চিৎকার করে। বাড়িতে এসে বাবা-মাকে জানায়। প্রয়োজনে কার্টুন চরিত্র দিয়ে গল্পের ছলে সেটা তাদের বোঝাতে হবে।

    তথ্য, পরিসংখ্যান বলছে স্কুল থেকে বাস এমনকী বাড়িতেও অনেক সময় যৌন হেনস্থার শিকার শিশুরা। বিভিন্ন ভাবে বিষয়টি তুলে তাকে বোঝাতে হবে কেউ যদি খারাপভাবে প্রাইভেট পার্টস হাত দেয়, তারপর ভয় দেখায় যে কাউকে বলবে না। সে কথা যেন সে না শোনে। আর বাচ্চা যদি কখনও এমন কথা বলে বাবা-মাকে কিন্তু তৎপর হতে হবে।

    কখনও এমন হতে পারে বাচ্চা কোনও আত্মীয় বা পরিচিতের কোলে যেতে চাইছে না। কখনও বেশি জড়িয়ে ধরে চুমু খাওয়া বা আদর পছন্দ করছে না। সেক্ষেত্রে তাকে জোর না করে সে কি বলতে চাইছে বুঝতে হবে।

    ৪. অনেক সময় ৫, ৬ বছরের বাচ্চারা বাবা-মায়ের ছবি দেখে প্রশ্ন করে আমি কোথায়? আমার ছবি নেই কেন? সাধারণত, তাদের বলা হয় তুমি গডের কাছে ছিলে।মামাবাড়িতে ছিলে। কিন্তু তার বদলে বাচ্চাকে সঠিক ধারণা দেওয়া দরকার।তাকে বলা যেতে পারে বাবার শরীরের অংশ আর মায়ের শরীরের অংশ মিশে গিয়ে তুমি হয়েছ। মায়ের পেটে ছিলে।তুমি যখন বড় হয়ে গিয়েছিলে, তখন পেটের মধ্যে আর ধরছিল না। তাই ডাক্তারকাকুরা হাসপাতালে অপারেশন করে তোমায় মায়ের পেট থেকে বের করেছে।

    দ্বিতীয় ধাপ (প্রাক কৈশোর)

    ১. এই সময়টা সেক্স এডুকেশনের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, ১২-১৩ এর পর থেকেই শরীর, মনে বদল আসতে থাকে। বিপরীত লিঙ্গের প্রতি ভাললাগা কাজ করে। আকর্ষণ বাড়ে।তাছাড়া, মেয়েদের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল পিরিয়ড সাইকেল। ছেলেদের ক্ষেত্রে যেমন গলার স্বর ভেঙে যাওয়া আরও নানা বদল।

    ২. পিরিয়ড সাইকেল শুরু হওয়ার আগেই মেয়েদের যেমন বিষয়টা জানাতে হবে, তেমনই ছেলেদেরকেও ধারণা দিতে হবে। কো-এড স্কুল হলে বা বাড়িতে ভাই-বোন একসঙ্গে থাকলে বোঝাতে হবে এই সময় বোন বা বান্ধবীকে হেল্প করা দরকার। বাড়তি কৌতূহল না দেখিয়ে তার পাশে থাকা জরুরি।

    ৩. মেয়েদের ক্ষেত্রে যেমন মায়েরা শেখাবেন, ছেলেদের ক্ষেত্রে বাবা বা পিতৃস্থানীয় কারও এই বিষয়গুলো নিয়ে খোলাখুলি কথা বলা দরকার। কারণ, ছেলেদের শারীরিক বদল, কিন্তু একজন পুরুষই ভাল বোঝাতে পারবেন।

    ৪.পর্নোগ্রাফি ভিডিও নিয়েও ধারণা দেওয়া দরকার। কারণ, স্মার্ট ফোনের যুগে ইউটিউবে কার্টুন বা মুভি দেখতে দেখতে যে কোনও সময় এ ধরনের সেক্সুয়াল ভিডিও সামনে চলে আসতে পারে।কোনও ধারণা ছাড়া, এই ধরনের ভিডিওগুলো কৈশোরে মনের ওপর যথেষ্ট প্রভাব ফেলে।তাছাড়া একটা বয়সের পর ছেলেদের ক্ষেত্রে স্বপ্নদোষ বা নাইট ফলসও হয়। তাই কথার ছলে বোঝাতে হবে এগুলো। সেক্স নিয়েও হালকা ধারণা দিয়ে রাখা ভাল। বোঝাতে হবে, এই ভিডিওগুলো ব্যবসার জন্য তৈরি। আসলে বিষয়টা ততটাও খারাপ নয়।

    ৫.টিনএজে এ ধরনের ক্লিপিংস, ভিডিও দেখার প্রবণতা তৈরি হয়। সেক্ষেত্রে ছেলে বা মেয়ে হাতেনাতে ধরা পড়লেও বকাবকি, সিনক্রিয়েট করা চলবে না। বরং তাকে বোঝাতে হবে বিষয়টা।স্পষ্ট ধারণা দিয়ে বলতে হবে এগুলো, শরীর, মনে চাপ বাড়াবে।এগুলো সুস্থভাবে তৈরি নয়।

    তৃতীয় ধাপ

    ১৭-১৮ বছরে অত্যন্ত গুরুত্বপূ্র্ণ হল সন্তানকে সুরক্ষিত যৌন সংসর্গ সম্পর্কে জানানো। যেহেতু চারপাশে অনেক কিছু দ্রুত বদলে যাচ্ছে, তাই এই বয়সের চাহিদা মাথায় রেখেই বিষয়গুলো জানানো দরকার। অসুরক্ষিত যৌনতা কত রকমের বিপদ ডেকে আনতে পারে সেগুলো বুঝিয়ে বলা প্রয়োজন। অনেক সময়ই কৌতূহলের বশে, প্রথম এক্সপিরিয়েন্স করতে গিয়ে ছেলেমেয়েরা এ সময় ভুল করে ফেলে। অবাঞ্ছিত গর্ভধারণের মতো বিষয়গুলো স্পষ্ট করা দরকার।

    সেক্স শব্দটা সামনে এলেই, সকলে কেমন গুটিয়ে যান। কিন্তু সেক্সকে খুব স্বাভাবিক একটা জৈবিক প্রক্রিয়া ভেবে খোলাখুলি আলোচনা করলে অনেক সমস্যারই সহজ সমাধান সম্ভব।