রবিবার, অক্টোবর 25, 2020

বিয়ের পর সাজাবেন কী করে ‘স্বপ্নের ঘর’
বিয়ের পর সাজাবেন কী করে ‘স্বপ্নের ঘর’

বিয়ের পর সাজাবেন কী করে ‘স্বপ্নের ঘর’

  • scoopypost.com - Jan 17, 2020
  • মার্চে বিয়ে শৌর্যর। তানিয়ার সঙ্গে প্রেম চার বছরের। ফাইনালি বিয়ে। দুজনেই একসঙ্গে পড়াশোনা করত। চিন্তা অন্যখানে।বড্ড খুঁতখুঁতে তানিয়া। এই পছন্দ হয় না, সেই না। দোতলায় নতুন ঘর হয়েছে। সেই ঘর কী রং করবে, কী করে সাজাবে তা নিয়ে চিন্তায় ঘুম উড়েছে শৌর্যর।না-পছন্দ হলেই তো ঝগড়া শুরু করে দেবেন তিনি। তার জের পড়বে বিয়ের পর প্রেম-ভালবাসায়।

    অফিসের কাজকর্ম সেরে আজকাল নেট ঘেঁটে চলেছে ঋদ্ধিমা।প্রাঞ্জলের সঙ্গে বিয়ে ১৪ ফেব্রুয়ারি।নতুন বাড়ি, নতুন ঘর, নতুন আসবাব। অনেক স্বপ্ন। আর সেই স্বপ্নের ছোঁয়া দিয়েই শ্বশুরবাড়ির নতুন ঘর সাজাতে চায় আইটি প্রফেশনাল ঋদ্ধিমা। অ্যারেঞ্জ কাম লাভ। বছর খানেক ধরে ফোনে কথা, সিনেমা দেখা সবই চলছে প্রাঞ্জলের সঙ্গে।সম্পর্কটা অনেকটা সহজ হয়ে গিয়েছে। সেই ঋদ্ধিমাকে বলেছে ঘর সাজানোর ব্যাপারে হবু গিন্নির ইচ্ছেই শেষ কথা। তাতে মনে মনে খুশি হয়েছে ঋদ্ধিমা। তবে বেড়েছে চিন্তাও। কাজের ব্যস্ততা সামলে ভেবেই চলেছে কীভাবে ঘর সাজালে ভাল হয়।

    এই সব নিয়ে যারা চিন্তায় পড়েছেন, সেই সমস্ত হবু ও নবদম্পতির  জন্য রইল ঘর সাজানোর জন্য স্কুপিপোস্টের টিপস।

    ঘরের রং

    বিয়ে মানে নব দম্পতির জন্য একখানা ঘর বরাদ্দ হবে। কখনও নতুন ঘর তো আবার কখনও পুরনো ঘরই সাজাতে হবে। ঘর যদি নতুন করে তৈরি করা হয় বিয়ের আগে তাহলে অনেক পরিকল্পনা করা যায়। কিন্তু পুরনো ঘর সাজাতে গেলে, মাথা খাটিয়ে ঠিকঠাক করতে হয়। এক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হল রং।

    নতুন বাড়িতে প্যারিস করা থাকে বলে ফিনিশিং ভাল হয়। কিন্তু পুরনো বাড়িতে তা থাকে না। কিন্তু আজকাল রংয়ের ক্ষেত্রে অনেক কিছু করা যায়। পুরনো বাড়ি হলে রংয়ের আগে দেওয়ালে পুট্টি করে নিতে পারেন।এতে ফিনিশিং ভাল হবে। আর এমন রং পছন্দ করুন যা ঘর বেশি আলোকজ্জ্বল হয়। এক্ষেত্রে হলুদ, পানা ফুল, গোলাপি, আকাশির কোনও শেড ব্যবহার করা যেতে পারে। এখন ঘরের একটা দেওয়ার হাইলাইট করার ট্রেন্ড রয়েছে। সেক্ষেত্রে দেওয়ালে যে রং ব্যবহার হচ্ছে তার চেয়ে কয়েক শেড গাঢ় রং হাইলাইটিংয়ে ব্যবহার হতে পারে।অনেক ক্ষেত্রেই ভীষণ গাঢ় রংয়ের ব্যবহার দেওয়াল হাইলাইট করতে। এক্ষেত্রে মাথায় রাখুন তার সঙ্গে উপযুক্ত আলোর ব্যবস্থা করতে হবে। না-হলে রংয়ের জন্য ঘর অন্ধকার দেখাতে পারে।

    এছাড়া ওয়াল পেপারও ব্যবহার করতে পারেন।বিভিন্ন ধরনের থ্রিডি ওয়াল পেপারও আজকাল পাওয়া যায়।যেটা ঘরকে একটা বিশেষ মাত্রা দেবে।

    টেক্সচার কালারও আজকাল চলে। সেটাও করতে পারেন।

    পর্দা

    নব দম্পতির ঘর মানেই প্রাইভেসি দরকার। সেখানে একটা জিনিস খুব গুরুত্বপূর্ণ পর্দা। ঘরের রংয়ের সঙ্গে মানানসই বা কনট্রাস্ট পর্দা আপনার বেডরুমকে যেমন সুন্দর করে তুলবে, তেমনই আড়ালও দেবে। ব্যবহার করতে পারেন লম্বা পর্দা।যদি নতুন করে ঘর করেন তাহলে জানলার নীচে স্টোরেজ রাখুন। আর লম্বা পর্দা ঝুলিয়ে দিন। এতে স্টোরেজ ইউনিট ঢাকা পড়ে যাবে।

    পর্দার রং হবে ঘরের রংয়ের সঙ্গে মানানসই। ধরুন হলুদ রংয়ের দেওয়াল সেখানে সাদা হলুদ ফ্লোরাল পর্দা ব্যবহার করতে পারেন। আবার ম্যাজেন্টা, ডার্ক পিংক, ব্লু সলিড রংয়ের পর্দায় লাগাতে পারেন। চাইলে হাইলাইটেড ওয়ালের জন্য পর্দার রং বদলাতে পারেন।সেখানে ব্যবহার করতে পারেন হালকা রংয়ের পর্দা। আবার দুটো একই রংয়ের পর্দার মাঝে একটা আলাদা রংয়ের পর্দা লাগাতে পারেন।

    ফার্নিচার

    নতুন ঘর, নতুন ফার্নিচার। সেটা ঠিকঠাক হওয়া খুব জরুরি। না-হলে ঘরের রং, পর্দার জন্য টাকা খরচ বেকার হয়ে যাবে।সাধারণত, দেখা যায় খাট হল কাঠের, ড্রেসিং টেবিল প্লাইউডের আর আলমারি স্টিলের।কিন্তু ফার্নিচার কেনার আগে একটু ভাবলেই এই মিসম্যাচ থাকে না। ফার্নিচার কিনতে যেমন পারেন, তেমন কিন্তু ঘরের মাপের সঙ্গে বুঝে বানিয়েও নিতে পারেন।

    ফার্নিচারের সেট রাখুন একই ধরনের। সাধারণত, কাপল রুমে দরকার হয় খাট, সাইড টেবিল, ওয়ারড্রোব, ড্রেসিং টেবিল।কাঠ, প্লাইউড, রট আয়রণ ইচ্ছেমতো ফার্নিচার কিনতে পারেন। এখন অবশ্য বেশি চলে প্লাইউডের ফার্নিচার। অত্যাধুনিক নানা রকমের খাট থেকে ওয়ারড্রোব হয়।বড় বড় মলে ফার্নিচারের সেট পাওয়া যায়। যদি বানান, তাহলেও সেট হিসবে বানান। যেন নকশা, প্যাটার্নে সিমিলারিটি থাকে।

    নতুন ফ্ল্যাট বা ঘরেও কিন্তু এখনও সাবেকি আমলের কাঠের ফার্নিচার ফ্যাশনে ইন। কাঠের ফার্নিচারে খরচ বেশি, তবে স্থায়িত্বও বেশি।ফার্নিচারে আনতেই পারেন অ্যান্টিক লুক।

    ড্রেসিং টেবিল

    নতুন বউ, মনের মতো করে সাজবে সেটাই তো স্বাভাবিক। তাছাড়া মেয়েদের ড্রেসিং টেবিলের ওপর ফ্যাশিনেশন থাকে।এখন যেহেতু ঘর ছোট তাই আয়নার পেছনেই স্টোরেজ ইউনিট থাকে। ড্রেসিং টেবিল কেনা বা বানানোর সময় স্টোরেজ ইউনিট গুলো দেখে নিন। যতবেশি স্টোরেজ ইউনিট ততই সুবিধে। কারণ, কসমেটিক্স থেকে গয়না, এই সমস্ত জিনিস রোজই বাড়বে।তাই রাখার জায়গার ব্যবস্থাটা আগে করুন। আর হ্যাঁ ড্রেসিং টেবিলের ওপর সাজিয়ে রাখুন পারফিউমের সুন্দর বোতল, একপাশে রাখতে পারেন ফুলদানি। তাতে টাটকা ফুল দিন।চাইলে বিয়ের ভাল ছবি সুন্দর ফ্রেমে ভরে ড্রেসিং টেবিল সাজাতে পারেন।

     নজর দিন কোণে

     বেড রুমের কর্নার গুলো সুন্দরভাবে ঘর সাজানোর জন্য ব্যবহার করুন।বিভিন্ন ধরনের কর্নার সেলফ হয়। সেগুলো লাগিয়ে তাতে ছোটখাটো গিফট আইটেম সাজাতে পারেন। বা একটা সেলফে বই, নীচের সেলফে আর্টিফিসিয়াল বনসাই রাখতে পারেন।

    আবার বড় বড় ফুলদানি বসিয়ে দিতে পারেন।আবার গাছ দিয়েও সাজাতে পারেন। অনেক ভাবেই সাজিয়ে ফেলা যায় এখন ঘরের কোণটাও।

    কার্পেট 

     সমস্ত সাজসজ্জার পর ঘরের এলিগেন্সি বাড়াতে পারে সুন্দর কার্পেট ও নরম পাপোস।শীতের দিনে বিয়ে হলে অবশ্যই ব্যবহার করুন কার্পেট। ঘরের সঙ্গে মানানসই কার্পেট কিনে রাখুন খাটের ঠিক সামনে। এখন নরম ও দারুন দেখতে পাপোস পাওয়া যায়। এতে পা মুছতেও পারবেন। ঘরের বাড়িত সৌন্দর্যও দেবে।

    এরপর কীভাবে ঘর সাজাবেন সেটা আপনারা ভেবে ঠিক করুন। তবে কয়েকটা জিনিস মাথায় রাখুন, ঘর ছিমছামভাবে সাজানোর চেষ্টা করুন। একগাদা জিনিস ঘরে ভরে দিলে, জায়গাও কমবে আবার দেখেও ঘিঞ্জি লাগবে।