শুক্রবার, অক্টোবর 30, 2020

মাছ খেলে কমবে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি?
মাছ খেলে কমবে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি?

মাছ খেলে কমবে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি?

  • scoopypost.com - Dec 23, 2019
  • মাছ খান? কী মাছ? কাতলার কালিয়া, পাবদার ঝাল, ইলিশের ভাপা?

    গুণপনায় কেউই কম যায় না। সমস্ত মাছেই রয়েছে প্রোটিন, খনিজ ও নানা পুষ্টিগুণ। তবে মাছ খেয়ে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমাতে গেলে বেছে নিতে হবে সামুদ্রিক মাছ। যেমন পমফ্রেট, সার্ডিন, টুনা, স্যামন।

    সম্প্রতি মাছ আর ওমেগা থ্রি, ফ্যাটি অ্যাসিড নিয়ে চলছে গবেষণা। মাছের তেলে থাকা এই উপাদানগুলো কি হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমাতে পারে?  এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই দেশে-বিদেশে চলছে নানা সমীক্ষা। সিদ্ধান্তে উপনীত না-হওয়া গেলেও, চিকিৎসক থেকে বিজ্ঞানী সকলেই একমত ওমেগা থ্রি ও ফ্যাটি অ্যাসিড শরীরে পক্ষে খুবই উপযোগী। আর্থারাইটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে, হার্ট ভালো রাখতে এর জুড়ি মেলা ভার।

    ১৯৭১, ড্যানিশ গবেষণা- গ্রিনল্যান্ডে সামুদ্রিক মাছ খাওয়ার চল যথেষ্ট। সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে এ দেশের মানুষের হার্ট অ্যাটাক কম হয়। পাশাপাশি খারাপ কোলেস্টরলের মাত্রাও শরীরে কম থাকে।গবেষণার তথ্য বলছে, এখানকার মানুষের সামুদ্রিক মাছ খাওয়ার প্রবণতাই সুস্বাস্থ্যের অন্যতম কারণ।

    যদিও তথ্য বলছে ফিস অয়েলের দুই গুরুত্বপূর্ণ উপাদান ওমেগা থ্রি ও ফ্যাটি অ্যাসিডের অনেক উপকারিতা আছে।তবে প্রশ্ন, সত্যি কি ফিস অয়েল হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমাতে পারে? রোজ কি ফিস অয়েল খাওয়ার প্রয়োজনীয়তা আছে?

    এ নিয়ে গবেষণাকারীদের মতভেদ আছে।কারও মতে, একজন সুস্থ মানুষের প্রতিদিন ফিস অয়েল ক্যাপসুলের প্রয়োজন নেই।তবে রোজের খাদ্যতালিকায় ওমেগা থ্রি ও ফ্যাটি অ্যাসিডে সমৃদ্ধ মাছ বা অন্যান্য থাবার রাখলে তাতে বেশি ভালো কাজ হবে।

    হাভার্ড মেডিক্যাল স্কুল অনুমোদিত ব্রিগহ্যাম ও ওমেন’স হসপিটাল এ নিয়ে সমীক্ষা চালিয়েছে ২৫ হাজার মানুষের ওপর। তাতে দেখা গিয়েছে প্রতিদিন ভিটামিন ডি ও ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ ক্যাপসুল খাওয়ায় শরীর ভালো থাকছে। তা শুধু হৃদরোগের সম্ভাবনা কমাচ্ছে তাই নয়, ক্যানসার প্রতিরোধেরও সহায়ক হচ্ছে।সুতরাং কারও পরিবারে যদি হার্ট অ্যাটাকের হিস্ট্রি থাকে, কোলেস্টরল বাড়ার দিকে থাকে তাঁরা অবশ্যই ফিস অয়েল রোজের ডায়েটে রাখতে পারেন।

    আবার হাভার্ড মেডিক্যালের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর চিকিৎসক পিটার কোহেন মনে করেন, ফিস অয়েল ক্যাপসুল কিনে খাওয়ার চেয়ে এই সমস্ত উপাদান রয়েছে এমন খাবার রোজের খাবার তালিকায় রাখা ভাল। কারণ, ফিস অয়েল দামি। সেই টাকা সবজি, মাছ খাওয়ায় ব্যবহার করা যেতে পারে।

    ফিস অয়েল ক্যাপসুল ছাড়া কীভাবে খাবারে ওমেগা থ্রি পাওয়া যাবে?

    স্যামন, টুনা, সার্ডিন, হেরিং এই সমস্ত মাছে প্রচুর ওমেগা থ্রি ও ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে। ভারতের জনপ্রিয় পমফ্রেট এক্ষেত্রে খুব উপকারি

    ফ্ল্যাক্স সিড স্যালাডে ছড়িয়ে বা আটায় মিশিয়ে রুটি করে খাওয়া যায়। এটাও ওমেগা থ্রিতে ভরপুর

    তবে হ্যাঁ, তেলে গরগরে, মশলা দিয়ে লাল করে ঝাল কালিয়া খেলে কিন্তু কাজ হবে না। হার্ট ভাল রাখার জন্য মাছ খেতে গেলে বাছতে হবে সামুদ্রিক মাছ। আর রান্না হবে যথাসম্ভব কম তেলে। কম তাপমাত্রায়। যাতে মাছের পুষ্টিগুণ চলে না যায়।