রবিবার, এপ্রিল 18, 2021

ক্রিসমাস স্পেশ্যাল কেক বানান বাড়িতেই
ক্রিসমাস স্পেশ্যাল কেক বানান বাড়িতেই

ক্রিসমাস স্পেশ্যাল কেক বানান বাড়িতেই

  • scoopypost.com - Dec 24, 2020
  • ক্রিসমাস  মানেই জমজমাটি ঠান্ডায় কেক খাওয়া। সারা বছর প্যাস্ট্রি, চকোলেট কেকের দিকে মন পড়ে থাকলেও শীতের মরসুমে বড়দিন মানেই ফ্রুট কেক, প্লাম কেক।

    ডিসেম্বর শেষ সপ্তাহ থেকেই কেকের দোকানগুলো পসরা সাজিয়ে বসে। সেই কেক কিনেই হয় বড়দিন উদযাপন। এবার করোনা পরিস্থিতিতে লকডাউনে ঘরেই অনেকে কেক বানাতে শিখে গিয়েছে। কেক বানানোর জন্য এখন আর ওভেনেরও দরকার পড়ে না। প্রেসার কুকার, কড়াতেই হয় কেক। তাহলে বরং নিজেই বানান ক্রিসমাস স্পেশ্যাল রিচ ফ্রুট কেক।

    লাগবে- বিভিন্ন ধরনের শুকনো কিসমিস, খেঁজুর, ক্যানবেরি, আখরোট, কাজু, পেস্তা, আমন্ড, ট্রুটি, ফ্রুটি, মোরব্বা, মাখন বা সাদা তেল,  জায়ফল গুঁড়ো, ডিম, ময়দা, গুঁড়ো দুধ, চিনি, বেকিং পাওডার ও বেকিং সোডা, অরেঞ্জ জুস বা রাম বা ব্র্যান্ডি

    কী করে বানাবেন-প্রথমেই ড্রাই ফ্রুটস কুঁচিয়ে অরেঞ্জ জুস বা অ্যালকোহলে ভিজিয়ে রাখুন। বিদেশে ফ্রুট কেকের ড্রাই ফ্রুটস রাম বা ব্র্যান্ডিতে কয়েক ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখা হয়। যত বেশিক্ষণ ভিজবে অ্যালকোহলে ফ্রুটসগুলো নরম ও জুসি হবে। যদি অ্যালকোহল ব্যবহারে আপত্তি থাকে তাহলে কমলালেবুর রসে ভিজিয়ে রাখুন ড্রাই ফ্রুটস।

    পরের ধাপ মিক্সিং।যদি মাখন ব্যবহার করেন, তাহলে মাখনটা হাল্কা শক্ত হতে হবে। ইলেকট্রিক বিটারে ফ্যাটাতে পারেন নয়তো হাতে করে হুইস্কার দিয়ে ফেটিয়ে নিতে পারেন। এর পর এতে মেশান পরিমাণমতো চিনি। সাধারণত এক কাপ ময়দা দিলে প্রায় এককাপ চিনি লাগবে।চিনি ও মাখন ভালো করে মিশিয়ে নিন। চিনির বদলে গুঁড়ো চিনিও ব্যবহার করতে পারেন। আবার মিক্সারে প্রথমে চিনি গুঁড়ো করে নিয়ে তার সঙ্গে পরিমাণমতো মাখন বা সাদা তেল ব্লেন্ড করে নিন। এরপর দিন ডিম। এককাপ ময়দা হলে একটা ডিম। ডিম ফেটানোর পর ময়দা মেশানোর পালা। মাপমতো ময়দা চালনিতে ঢালুন।এককাপ ময়দা দিলে তার সঙ্গে মেশান হাফ চামচ জায়ফল ও দারচিনি গুঁড়ো, এক চামচ বেকিং পাওডার ও আধ চামচ বেকিং সোডা। এর সঙ্গে দিন বড় চামচের দু-চামচ গুঁড়ো দুধ।এটা অপশনাল। কিন্তু খেতে ভালো হয়।

    এবার সমস্ত উপাদান একসঙ্গে খুব ভালো করে ফ্যাটাতে হবে। মিক্সিতে মিক্সিং করতে পারেন, হ্যান্ড ব্লেন্ডার ব্যবহার করতে পারেন। দেখতে হবে যেন এর মধ্যে কোনও ড্যালা একেবারে না থাকে। যদি সল্টেড মাখন ব্যবহার করে থাকেন তাহলে আলাদা নয়তো ব্যাটারে এক চামচ নুনও দিতে হবে। খুব ভালো করে ব্যাটার তৈরির পর মেশান ভিজিয়ে রাখা ড্রাই ফ্রুটস। ফ্রুটস দিয়ে কিন্তু হাতে করেই মেশাবেন ইলেকট্রিক মিক্সার বা ব্লেন্ডার ব্যবহার করবেন না।

    কেক প্রেসার কুকার, কড়াই, মাইক্রোওয়েভ ওভেন বা ওটিজি যাতে ইচ্ছে করতে পারেন। যে পাত্রে কেক বসাবেন সেই পাত্রের নীচে ও চারপাশে মাখন বা সাদা তেল বুলিয়ে নিন। ওপর থেকে ছড়িয়ে দিন সামান্য ময়দা। তারপর কেক ব্যাটার ঢেলে ওপর থেকে কাজু, চেরি ছড়িয়ে দিন। প্রেসার কুকার বা কড়াই বা ওটিজি যেটাতেই কেক করবেন সেটা আগে থেকে ১০ মিনিট তাতিয়ে রাখুন।

    প্রেসার কুকার বা কড়াইতে প্রথমে দিন নুন বা বালি। তার ওপর পাতলা স্ট্যান্ড বসিয়ে যে পাত্রে কেক বানাবেন সেটা দিন।প্রেসার কুকারের ক্ষেত্রে সিটি খুলে নেবেন নয়তো কুকার ফেটে যেতে পারে। যেহেতু জল দেওয়া হচ্ছে না। কেকের আকারের ওপর নির্ভর করবে বেক হতে কত সময় নেবে।মাঝারি আকারের কেক বানাতে ৩০-৪০ মিনিট সময় লাগে। প্রেসার কুকার বা কড়াইয়ের আঁচ একদম কমিয়ে ওপর থেকে ঢাকা দেবেন। যেন ভেতরের ভাপ কোনওভাবেই বাইরে বের হতে না পারে।

    আর মাইক্রোওয়েভ ওভেনে করলে ১৮০ ডিগ্রিতে মিনিট ২০-৩০ বেক করতে হবে।

     

    আধ ঘণ্টা বাদে গ্যাস বন্ধ করে গরমে আরও দশ মিনিট রাখবেন।তারপর খুলে একটা টুথ পিক বা কাঁটা চামচ ঢুকিয়ে দেখুন কেক হয়েছে কি না! যদি ভালোভাবে কেক বেক হয় তাহলে টুথপিকে কিছু লেগে থাকবে না। যদি দেখেন  বেক হতে আরও বাকি তাহলে চেষ্টা করবেন গ্যাস কমিয়ে রাখতে। পাঁচ মিনিট অন্তর কেকটা দেখতে হবে যাতে বেশি বেক না হয়ে যায়।

    এভাবে করলে খুব সহজেই নরম, তুলতুলে স্বাদু কেক হবে বাড়িতেই। আর দোকানের কেক যত ভালোই হোক, বাড়িতে কেক বানিয়ে সেই কেক খাওয়ার মজাই আলাদা।