শুক্রবার, অক্টোবর 30, 2020

স্বাদ নিন চেটেপুটে...
স্বাদ নিন চেটেপুটে...

স্বাদ নিন চেটেপুটে...

  • scoopypost.com - Jan 13, 2020
  • কফি করতে করতেই শ্বশুরমশাইয়ের গলাটা কানে আসছিল সুদীপ্তার।সুভাষ সমাদ্দার তাঁর বন্ধুকে বলছিলেন, “সে ছিল আমাদের দিনকাল।মকরসংক্রান্তিতে কত রকমের পিঠে হত। আমরা ভাইবোনরা রান্নাঘরের চারপাশে ঘুরঘুর করতাম। পাটিসাপটাটা আমার ঠাকুমা যা বানাতেন না...আর এ সব হবে না। গিন্নির বাতের ব্যাথা। পিঠে, পাটিসাপটা বললে বাক্যবাণের ঠেলায়...।”

    দেখে নিন নানারকম পিঠেপুলির রেসিপি

    অ্যাড এজেন্সিতে কাজ করে সুদীপ্তা।বছর খানেক হয়নি বিয়ে হয়েছে। শ্বশুরমশাই মানুষটিকে বেশ লাগে। শ্বশুর হলেও, কোথাও যেন স্নেহপ্রবণ।শ্বশুরমশাইয়ের বাল্য বন্ধুর সঙ্গে খোসগল্প চলছে ড্রইংরুমে।তাঁদের জন্যই কফি করছিল সুদীপ্তা। কফির কাপটা নিয়ে গিয়ে টেবিল রাখতেই সুভাষবাবু বললেন, “বউমা এ যুগের। পাটিসাপটা সেভাবে খায়ইনি। ওকেও বলতে পারি না তাই...”।

    তবে মনস্থির করে ফেলেছ সুদীপ্তা।মকরসংক্রান্তিতে এ বাড়িতে পাটিসাপটা সে করবেই।ঠাকুমা-দিদিমা নেই তো কি হয়েছে। রেসিপি থাকলে, সমস্ত কিছুই হবে।

    আপনাদেরও এমন কিছু ফান্ডা আছে না কি? তাহলে পাটিসাপটার রেসিপিগুলো বরং ট্রাই করুন। আর দেখিয়ে দিন যে চুল বাঁধে সে ভাল রাঁধেও...

    নলেন গুড়ের পাটিসাপটা

    লাগবে- ময়দা ১ কাপ, চালের গুঁড়ি ২ চা-চামচ, সুজি ২ চা-চামচ, দুধ পরিমাণমতো, নারকেল কোরা, নলেন গুড়ের পাটালি, খোয়া ক্ষীর বা মেওয়া, তরল নলেন গুড়

    রান্নার পদ্ধতি- কড়াইতে নারকেল কোরা ও পাটালি দিয়ে ভাল করে নাড়তে থাকুন যতক্ষণ না পাটালি পুরোপুরি গলে যাচ্ছে। এর মধ্যে দিন হাফ কাপ পরিমাণ ভাল করে জ্বাল দিয়ে রাখা ঘন দুধ। মেশান  খোয়া ক্ষীর। ভাল করে নাড়তে থাকুন। পুরটা হবে মাখামাখা, একেবারে শুকনো নয়।

    এবার তৈরি করতে হবে পাটিসাপটার ব্যাটার। মাপমতো ময়দা, চালের গুঁড়ি, সুজি ভাল করে মিশিয়ে নিন।এর মধ্যে দিন সামান্য নুন।যদি ধবধবে সাদা পাটিসাপটা চান তাহলে চিনি ব্যবহার করুন নয়তো মিশিয়ে দিন তরল নলেন গুড়। তবে খুব বেশি না। স্বাদমতো। কারণ, পুরটা মিষ্টি। পাটিসাপটার বাইরেটাও বেশি মিষ্টি হলে খেতে ভাল হবে না। এবার দুধ দিয়ে মসৃণ করে ব্যাটারটা গুলে নিন।ঘন হবে না। আবার ভীষণ পাতলাও হবে না ব্যাটারটা।

    ননস্টিক প্যানে সাদা তেল বা ঘি ব্রাশ করে নিন।তারপর হাতায় করে ময়দার ব্যাটারটা কড়াইতে দিয়ে হাতার পেছন দিয়ে পাতলা গোল করে দিন। মাঝখান করে নারকেলের পুরটা দিয়ে দু পাশ ভাঁজ করে উলটে ভেজে নিন।এভাবে পাটিসাপটা বানিয়ে ওপর থেকে তরল নলেন গুড় ছড়িয়ে পরিবেশন করুন।

    মালাই পাটিসাপটা

    লাগবে- ময়দা ১ কাপ, চালের গুঁড়ি ২ চা-চামচ, সুজি ২ চা-চামচ, দুধ পরিমাণমতো, নারকেল কোরা, নলেন গুড়ের পাটালি, খোয়া ক্ষীর বা মেওয়া, তরল নলেন গুড়, কনডেনসড মিল্ক

    কীভাবে করবেন- কড়াইতে নারকেল কোরা, পাটালি, দুধ, ক্ষোয়া ক্ষীর দিয়ে ভাল করে মিশিয়ে নারকেলের পুর বানিয়ে নিন।

    তারপর ময়দা, চালের গুঁড়ি, সুজি, স্বাদমতো নুন ও গুড় মিশিয়ে দুধ দিয়ে পাতলা ব্যাটার বানান। ননস্টিক কড়াইতে ঘি দিয়ে তৈরি করে ফেলুন পাটিসাপটি।

    এবার একটি পাত্রে দুধ জ্বাল দিয়ে ঘন করে নিন।যত ঘন হবে দুধ ততই স্বাদ বাড়বে। এর মধ্যে মিশিয়ে দিন পাটালি। এক চিমটে নুন দিলে স্বাদ ভাল হবে।এতে দিয়ে দিন কনডেনসড মিল্ক। যেহেতু গুড় ব্যবহার হচ্ছে তাই কনডেনসড মিল্কটা বুঝে দেবেন। কারণ, ওটাও বেশ মিষ্টি। দুধ ঘন হয়ে গেলে পাটিসাপটাগুলো তার মধ্যে দিয়ে ফুটিয়ে নিন।ওপর থেকে পেস্তা ছড়িয়ে পরিবেশন করুন।ট্র্যাডিশনাল টাচ আনতে মাটির সরায়, কলাপাতা রেখে তারওপর পাটিসাপটা রাখুন। গ্রাম গ্রাম ফিল আসবে।

    চকলেট পাটিসাপটা

    বাচ্চাদের জন্য একটু চকলেট টাচ কিন্তু দিতেই পারেন পাটিসাপটায়

    লাগবে- ময়দা ১ কাপ, চালের গুঁড়ি ২ চা-চামচ, সুজি ২ চা-চামচ, কোকো পাওডার, দুধ পরিমাণমতো, সুজি, খোয়া ক্ষীর বা মেওয়া, তরল নলেন গুড়

    কীভাবে করবেন- কড়াইতে ঘি দিয়ে সুজি ভাল করে ভেজে নিন। তারপর দুধ দিয়ে সেদ্ধ হতে দিন। শেষে দিয়ে দিন ক্ষোয়া ক্ষীর ও লিকুইড চকলেট। (চকলেটের বার জলের ওপর টিফিন বক্সে রেখে গলিয়ে নিন)

    এরপর ব্যাটারের জন্য ওপরে লেখা মাপ মতো ময়দা, চালের গুঁড়ি, সুজি মেশান। এর মধ্যে দিয়ে দিন স্বাদ মতো নুন ও চিনি। তারপর দুধ দিয়ে পাতলা ও মসৃণ করে গুলে নিন।এবার মিশ্রন থেকে কিছুটা তুলে একটি বাটিতে  নিয়ে তার মধ্যে ভাল করে কোকো পাওডার মিশিয়ে নিন।

    ননস্টিক কড়াইতে ঘি দিন। চকলেটের মিশ্রনটা একটা কেচাপের কৌটো বা প্লাস্টিকের প্যাকেটে ভরে মেহেন্দি কুপির মতো করে নিন। যাতে পছন্দসই ডিজাইন করতে পারেন। এরপর গরম কড়াইতে ইচ্ছমতো চকলেটের নকশা করুন। গোল গোল বা ফুল-পাতা যা ইচ্ছে। ঢাকা দিয়ে এক মিনিট রেখে দিন। চকলেটের নকশা গরমে একটু শক্ত হলে ওপর থেকে পাটি সাপটার সাদা ব্যাটারটা দিন। হাতা দিয়ে সাবধানে গোল করে চাড়িয়ে দিন। মাঝখানে দিন করে রাখা পুর। এরপর পাটিসাপটি দুপাশ থেকে ভাঁজ করলেই দেখা যাবে সাদা পাটিসাপটায় চকলেটের নকশা। চাইলে ওপর থেকে হট চকলেট ছড়িয়ে দিতে পারেন।

    চিজ পাটিসাপটা

    ওল্ড ইজ গোল্ড ঠিক আছে। তবে নতুনত্বকেও স্বাগত জানান। করে ফেলুন ফিউশন

    লাগবে- ময়দা ১ কাপ, চালের গুঁড়ি ২ চা-চামচ, সুজি ২ চা-চামচ, দুধ পরিমাণমতো, ছানা, খোয়া ক্ষীর বা মেওয়া, চিজ, ডিম

    কীভাবে করবেন- প্রথমে ছানা হাত দিয়ে ভাল করে মেখে নিন। কড়াইতে ঘি দয়ে ছানাটা দিয়ে দিন। সামান্য ঘন দুধ মিশিয়ে নিন। দিন স্বাদমতো চিনি। পুরটা যেন একদম মসৃণ ও মাখামাখা হয়।গ্যাস বন্ধ করা পর ওপর থেকে চিজ গ্রেট করে দিয়ে কড়াই ঢাকনা দিয়ে রাখুন। গরম ভাপেই চিজ হালকা গলে যাবে। অন্য দিকে, ময়দা, চালের গুঁড়ি, দুধ, সুজি, নুন, চিনি ও ডিম দিয়ে পাতলা ব্যাটার বানান পাটিসাপটার বাইরের সাদা অংশটার জন্য।

    এবার ননস্টিক কড়াইতে মাখন ব্রাশ করে নিন।সাদা ব্যাটার দিয়ে হাতার সাহায্যে ঘুরিয়ে পাতলা রুটির মতো করে নিন। ওপর থেকে দিয়ে দিন ছানা ও চিজের পুর।তারপর কড়াইতে, উলটে-পালটে ভেজে তুলে নিন।চিজ সরাসরি আগুনে না-দেওয়াই ভাল।ভাপেই সুন্দর ভাবে চিজ গললে তার স্বাদ ভাল হবে।