বুধবার, নভেম্বর 25, 2020

যে দিন গেছে, তা কি একেবারেই গেছে?
যে দিন গেছে, তা কি একেবারেই গেছে?

যে দিন গেছে, তা কি একেবারেই গেছে?

  • scoopypost.com - Sep 13, 2020
  • ওই যে সকালে টুক করে বাইক নিয়ে বেরিয়ে চলে যেতেন দোকানে। তারপর গরমগরম কচুরি ছোলার ডাল বা আলুর তরকারি দিয়ে। সঙ্গে গরম গরম কচুরি। সব শেষে ঢেঁকুড় তুলে গরম চায়ে চুমুক। কিম্বা ধরুন গাড়ি নিয়ে বেড়াতে বেরিয়েছেন। পথের ধারে গরম কচুরিতে জলযোগ। কিম্বা বাড়ির মহিলার উপোস। নিরামিষ কচুরিতে তো না নেই। তাতে ভগবান অসন্তুষ্ট হন না।
    করোনা এসে বাঙালির নস্টালজিয়া, প্রেম, ভালোবাসার কচুরিতেও ভয় ধরিয়েছে। তবে এই ফাঁকে বলে রাখি কচুরির জন্য বিখ্যাত হয়ে ওঠা কিছু দোকানের গল্প।
    কলকাতার কচুরির সাহকাহন
    শ্যামবাজার মোড় থেকে ট্রাম যখন বিধান সরনীর দিকে বাঁক নিচ্ছে, সকাল সকাল সেখানে পৌঁছলেই দূর থেকে দেখা যাবে ভিড়। সেদিকে বেশ খানিকটা এগোলে ঘ্রাণশক্তি একটু যদি বেশি হয় তবে গন্ধ নাকে আসবে ঠিকই। সকাল সকাল কচুরির সুঘ্রান। কচুরির আদি নাম কী ছিল জানেন? কর্চরিকা। তার খোঁজ করতে হলে উত্তরের কলকাতায় পা না রাখলেই নয়।

    হরিদাস মোদক


    শ্যামবাজার মোড়েই পাশাপাশি দু’টি দোকান। দু’টিই হরিদাস মোদকের। তার মধ্যে যেটা একটু পুরনো, ভেতরে কাঠের বেঞ্চ-টেবিল সেখানে ঢুকতে পারেন। রঙচটা দেয়ালে মহাপুরুষদের ছবি শোভা পাচ্ছে। পুরনো কলকাতার মেজাজ এখনও এখানে থমকে। খানিক অপেক্ষা করলেই দেখবেন ঝুড়ি হাতে একজন এগিয়ে আসছেন। সবুজ কলাপাতায় দু’টি কচুরি পড়বে আপনার সামনে। সঙ্গে তার হাতা ভরা ছোলার ডাল। নাহলে খোসা সমেত আলুর তরকারি। কচুরির সঙ্গে ডাল বা তরকারির সম্পর্কও ঠিক কত গভীর তা কচুরি প্রেমী মাত্রই জানেন। এই দোকানে কচুরি মিলবে শুধু সকালে। তারপর লুচি। পাশের দোকানে বিকেলবেলাতেও মিলবে কচুরি।
    অভিধান বলছে, ডালের পুর দেয়া ভাজা খাবারই হল কচুরি। তবে খাঁটি কচুরিতে কাঁচা বিউলির ডাল আর হিঙের পুর মাস্ট। তবে শীতের ব্যাপারটা আলাদা, তখন কড়াইশুটির পালা।

    ভালো কচুরির হদশি পেতে পাঁচমাথার মোড় ছেড়ে যেতে হবে বাগবাজারে, পটলার ঘাটে। এখানে রাস্তার দু’পাশে শুধু কচুরি.... দেখে মনে হতে পারে এক কচুরি? উত্তর পাওয়ার আগে নিমেষে খালি হয়ে যায় ঝুড়ির পর ঝুড়ি। কিন্তু, এই ভিড়েও পটলার কচুরির স্বমহিমায় উজ্জ্বল। ছোট্ট দোকান শতবর্ষ পার করবে আর কটা বছরেইষ কাচের শো কেসের ওপারে, বাবু হয়ে বসে থাকেন দিব্যেন্দু সেন। এখনকার মালিক। চোখে কালো ফ্রেমের চশমা। প্রশ্ন করে জানা যায় এই দোকান তাঁর ঠাকুরদা শশীভূষণ সেনের।
    পটলা তিনি নন, তাঁর ছেলে। যাঁর ভালো নাম কার্তিক সেন।এখানে মিলবে কচুরির সঙ্গে ছোট আলুর তরকারি, শালপাতার বাটিতে। বিকেলে আবার রাধাবল্লভী। সঙ্গে দু’টুকরো আলুর দম।


    কচুরির খোঁজে এবার ঢুঁ মারতে মারেন সুকিয়া স্ট্রিটে। মোড় থেকে কয়েক পা এগোলেই, গীতিকা।

    ছোট্ট দোকানে, কাঠের পাটাতনে বসে একটানা কচুরি বেলে চলেছেন একজন। পাশেই ময়দার তাল ঠাসা চলছে। এখানে কচুরি পাওয়া যায় যে কোনও সময়। হিঙের কচুরি। আলুর তরকারি আর চাটনি মাখিয়ে মুখে দিলে অমৃত। দোকান শুরু করেছিলেন গনেশ দলুই। দোকান অন্তত ১০০ বছরের পুরনো।
    কচুরির খোঁজে কলেজ স্ট্রিট পাড়ি না দিলে বোধ হয় খোঁজই অসম্পূর্ণ।

     

    পুঁটিরামের দোকান

    দশটার পর এখানে রাধাবল্লভীর পালা। সঙ্গে ছোলার ডাল। বিজয়কৃষ্ণ গোস্বামীর শিষ্য কুলদানন্দ ব্রহ্মচারীর ভক্ত ছিলেন জিতেন্দ্রনাথ মোদক। পুঁটিরাম মোদক তাঁর পিসেমশাই। নিজের হাতে ভিত খুঁড়ে, জিতেন্দ্রনাথের জন্য এই দোকান চালু করেন কুলদানন্দ। ‘সেই যে চালালেন, আজো চলছে’, হেসে জানান দোকানের বর্তমান মালিকের একজন ইন্দ্রজিৎবাবু।

    কচুরি নিয়ে নামডাক রয়েছে এমন একটা দোকান হল ভবানীপুরের শ্রীহরি।

    মিষ্টি নানারকম থাকলেও ক্রেজ কচুরি আর রাধাবল্লভীর। এর ইউএসপি বোধহয় ছোলার ডাল। ১৯১২ সালে এই দোকান শুরু করেছিলেন সন্তোষকুমার গুঁই। এছাড়াও আছে শ্যামবাজারের দ্বারিক, দেশপ্রিয় পার্কের কাছে মহারানি, খিদিরপুরের বহু পুরনো অবাঙালি কচুরির দোকান।
    বিউলি ডাল, হিং আর শীতের কড়াইশুটির পরেও একটা বিষয় বাকি থাকে। মাছের কচুরি। কিশোর সাহিত্যিক হেমেন্দ্র কুমার রায়ের দুই বিখ্যাত নায়ক বিমল আর কুমারকে, চাকর রামহরি মাছের কচুরি বানিয়ে খাওয়াতো। বাগবাজারের দু’একটা দোকানে এখনো মাছের কচুরির খোঁজ মিলবে। কলকাতায় ফুচকার মতো ক্লাব কচুরিও দেদার বিকোচ্ছে।
    করোনা পরিস্থিতিকে একটু সময় দিন। তারপর আবার বেরিয়ে পড়ুন কচুরির খোঁজে।শুধু কলকাতা কেন, শহর ছেড়ে শহরতলির পথ ঢুঁ মারলেও পেয়ে যাবেন এমন সব মহার্ঘ কচুরির দোকানের সন্ধান, হলফ করে বলতে পারি।


    তথ্যসূত্র: ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত