বুধবার, মে 12, 2021

কেন্দ্রীয় শিক্ষানীতি পর্যালোচনায় রাজ্যের কমিটি
কেন্দ্রীয় শিক্ষানীতি পর্যালোচনায় রাজ্যের কমিটি

কেন্দ্রীয় শিক্ষানীতি পর্যালোচনায় রাজ্যের কমিটি

  • scoopypost.com - Aug 03, 2020
  • কেন্দ্রীয় সরকার সম্প্রতি নতুন শিক্ষানীতি ঘোষণা করে চলতি শিক্ষা ব্যবস্থার পরিকাঠামো বদলে দিয়েছে। প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক, স্নাতক, স্নাতকোত্তরের শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল বদল এনেছে। এ নিয় পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল সরকার প্রকাশ্যে সরব না-হলেও এ নিয়ে নীতিগত বিরোধিতার কথা এবার জানিয়ে দিলেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়।

    তিনি সোমবার রাখি বন্ধনের একটি অনুষ্ঠানে স্পষ্ট করে দেন, কেন্দ্রীয় শিক্ষানীতি পর্যালোচনার জন্য রাজ্য নতুন কমিটি করছে। তাতে থাকছেন শিক্ষাবিদ সৌগত রায়, নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ি, অভীক মজুমদার, সব্যসাচী বসু রায়চৌধুরী,পবিত্র সরকার, সুরঞ্জন দাস। শিক্ষাবিদদের নিয়ে গঠিত কমিটি ১৫ অগস্ট নতুন শিক্ষানীতি পর্যালোচনা করে রিপোর্ট দেবে। তারপরই রাজ্য সরকার পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করবে।

    তৃণমূলের মহাসচিব তথা শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, নয়া শিক্ষানীতিতে আপত্তির কথা তাঁরা আগেই জানিয়েছিলেন।শিক্ষা ব্যবস্থার যে আমূল বদল কেন্দ্র চাইছে তা পাঁচ বছরে সম্ভব নয়। নতুন পরিকাঠামোর খরচ বিপুল। সেগুলো কোথা থেকে আসবে? তাছাড়া রাজ্যের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা ছাড়া কীভাবে শিক্ষানীতি তৈরি হতে পারে তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মন্ত্রী।

    কেন্দ্রীয় সরকারের শিক্ষানীতি নিয়ে ইতোমধ্যেই আপত্তি জানিয়েছে তামিলনাড়ু। তবে তাদের আপত্তি মূলত হিন্দি ভাষা নিয়ে।সেখানকার মুখ্যমন্ত্রী একে পালানিস্বামী মূলত তিন ভাষার ফর্মূলা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন।সরকার চায়, ইংরেজি, হিন্দি ও স্থানীয় ভাষা শিক্ষা দেওয়া হবে। এ নিয়েই আপত্তি তামিলনাড়ুর। আগে কংগ্রেস সরকার হিন্দি বাধ্যতামূলক করতে গেলে উত্তাল হয়েছিল তামিলনাড়ু।মোদি সরকারের হিন্দি ভাষা বাধ্যতামূলক করতে চাওয়ার ইচ্ছেতেও জল ঢেলে দিয়েছিল তামিলনাড়ু। চাপের মুখে পিছু হঠেছিল মোদি সরকার। এবারও তামিলনাড়ু সেই আপত্তি জানিয়ে বলেছে কেন্দ্রীয় শিক্ষানীতি সে রাজ্যে বলবত্ হবে না।

    নয়া নীতি নিয়ে অনেকে সদর্খক মত প্রকাশ করেছেন এ রাজ্যে। অনেকের মতে শিক্ষা ব্যবস্থার নতুন নীতিতে বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে এদেশের ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার পথ সুগম হবে।চার বছরের মাল্টি ডিসিপ্লিনারি কোর্সে বিষয় চয়নে স্বাধীনতা বাড়বে।তবে এর বিরোধিতাও হয়েছে প্রচুর। বেশিরভাগই নয়া পরিকাঠামো স্পষ্টভাবে বুঝতে পারছেন না। তাছাড়া সমস্ত খোলনলচে একবারে বদলাতে গেলে বই ছাপানো থেকে শিক্ষরদের প্রস্তুতি সমস্তটাই জটিল হয়ে দাঁড়াবে। রয়েছে আরও হাজারও সমস্যা। তাই শিক্ষাবিদদের নিয়ে তৈরি কমিটির কাছে সুবিধে-অসুবিধের বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়েছে রাজ্য।