বুধবার, মে 12, 2021

বন্ধু হোক বই
 বন্ধু হোক বই

বন্ধু হোক বই

  • scoopypost.com - May 04, 2020
  • দেখতে দেখতে পেরিয়ে এসেছি ৪০ দিন। মেয়াদ বাড়িয়ে আরও ১৪ দিন লকডাউন থাকবে দেশে। কী করবেন? ভালোভাবে সময় কাটাতে এবং মানসিকভাবে সতেজ থাকতে মনোবিদ, মনোবিজ্ঞানীরা পরামর্শ দিচ্ছেন বই পড়ার। এ কথা শুনে যারা বলছেন গত ৪০ দিনে যা বই পড়েছি ছাত্র জীবনেও এত বই পড়িনি। হাতের কাছে আর কোনও বই নেই। এতে হতাশ হওয়ার কিছু নেই।এই সমস্যার সমাধান ই-বুক। স্মার্ট ফোন, ট্যাব, ল্যাপটপে ডাউনলোড করে নিলেই আপনার সমস্যার সমাধান।এই লকডাউনে আপনার জ্ঞানের ভান্ডার আনলক করে দিন।দেখবেন  ঠিক যেন শংকরের সেই বিখ্যাত বই- ‘কত অজানারে’ আপনার সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। তাকে সাদরে গ্রহণ করে নিন। কোথা দিয়ে আপনার লকডাউনের মেয়াদ ফুরিয়ে যাবে টেরও পাবেন না।

    একবার ভেবে বলুন তো টিপু সুলতান আর হলিউডের নায়িকা অড্রে হেপবার্নের মধ্যে মিল কোথায়? টিপু সুলতান যে দিন মারা যান সেদিনই জন্মেছিলেন হেপবার্ন।

    জানেন হয়ত, গঙ্গারাম শুধু সুকুমারি কবিতায় নেই বাস্তবেও আছে। সত্যি বলছি আছে। আর তিনি যে সে ব্যক্তি নন, নিজের রাজ্য তো বটেই সারা দেশই তাঁকে একডাকে চেনে। তিনি তামিল রাজনীতির প্রবাদ প্রতিম পুরুষ এম করুণানিধি। নাম তো শুনেছেন- জানেন কি, তিন তিন বার ম্যাট্রিকে ফেল মেরে বাড়ি থেকে পালিয়ে ছিলেন তিনি। জানতে ইচ্ছে করছে  তো?কিছুটা বলছি বাকিটা আপনি পড়ে নেবেন। কেটে যাবে লকডাউনের  মেয়াদ।

     তখন বছর পনের বয়স। একবার নয় , দুবার নয়, তিন তিন বার বোর্ডের পরীক্ষায় ফেল মেরে লজ্জায় পড়ে যান তিনি। উপায় না দেখে পালিয়ে যান বাড়ি থেকে। হাজার হোক বাড়ির ছেলে তো। বুঝিয়ে-সুঝিয়ে তাকে ফিরিয়ে আনা হয় বাড়িতে।

    পরীক্ষায় পাশ করতে না পারলেও ততদিনে তিনি হাত পাকিয়ে ফেলেছেন তামিল ভাষায়, তাঁ লেখা উদ্বুদ্ধ করছিল যুব সম্প্রদায়কে। বাবা-মা চাইছিলেন তিনি ফের পড়াশোনা শুরু করুন। করূণানিধির চোখে তখন অন্য স্বপ্ন। ছাপার অক্ষরে নিজের লেখা দেখার বাসনা তখন তাঁকে পেয়ে বসেছে।

    ১৯৪২ সালে আন্নাদুরাই এক ম্যাগাজিন শুরু করেন। নাম দ্রাবিড়নাড়ু।করুনণানিধি ভহাবলেন  এই ম্যাগাজিনে তাঁর লেখা ছাপা হলে বহু মানুষের কাছে তা পৌঁছবে।ম্যাগাজিনের ঠিকানা ঠিকমতো জানা ছিল না। তাই শুধু ম্যাগাজিনের নাম এবং কাঞ্চিপুরম লিখে পাঠিয়ে  দেন।

    করুণানিধি আনন্দে লাফিয়ে উঠাছিলেন যখন দেখেন  তাঁর লেখা ‘ইলামাইবালি’ বাংলায় যার মানে যুব সমাজের ত্যাগ, ছেপে বেরিয়েছে।সেই ম্যাগাজিন বগলে  নিয়ে করুণানিধি সারা তিরুভারারুর ঘুরে বেড়িয়েছেন এবং কায়দা করে সকলকে পড়িয়েছেন।

     সপ্তাহ দুয়েক পর এক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আন্নদুরাই তিরুভারারুর  আসেন।সেই অনুষ্ঠানে করুণানিধিও ছিলেন। মঞ্চ থেকেই আন্নাদুরাই জানতে চান কে করুণানিধি, সামনে এস? আনন্দে আটখানা হয়ে উঠে দাঁড়ান করুণানিধি। মনে মনে ভাবছেন বোধহয় তাঁকে আরও লেখা দিতে বলবেন। আন্নাদুরাই জিঙ্গেস করলেন তুমি পড়াশোনা কর? কোনও মতে মাথা নেড়ে করুণানিধি বললেন হ্যাঁ, শুনে আন্নাদুরাই বললেন আর লেখা পাঠাবে না। এখন পড়াশোনায় মন দাও। একেবারে ভেঙ্গে পড়লেন করুণানিধি।তবে শুনলেন না সেই পরামর্শ। লেখা চালিয়ে গেলেন। এবার লিখলেন নাটক। মঞ্চস্থ করলেন, প্রেমে পড়লেন, জাতপাতের আচার-বিচারের ঠেলায় সে প্রেমও গেল ভেঙে। করুণানিধি কিন্তু এগিয়ে চললেন। করুণানিধির পরের জীবন, রাজনীতি সচেতন মানুষের আজ আর অজানা নয়।