বুধবার, মে 12, 2021

ছেলে-মেয়ের সামনে দুশ্চিন্তা প্রকাশ করবেন না
ছেলে-মেয়ের সামনে দুশ্চিন্তা প্রকাশ করবেন না

ছেলে-মেয়ের সামনে দুশ্চিন্তা প্রকাশ করবেন না

  • scoopypost.com - Aug 01, 2020
  • জানিস তো আমি আর এই স্কুলে আর পড়তে পারব না। ক্লাস টু এর সোহম তার বন্ধুদের এই কথা বলেছে। ক্রমে কথাটা কানে যায় টিচারদের। দেরি না করে তাঁরা ডেকে পাঠান সোহমের বাবা-মাকে। সব কথা জনতে চান। এরপরই পুরো বিষয়টা স্পষ্ট হয় টিচারদের কাছে।

    সোহমের বাবা-মা দুজনেই চাকরি করেন। এই কোভিডের কারণে তার মায়ের চাকরি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। সে কথাই তারা দুজনে আলোচনা করছিলেন। তখনই তাঁরা বলেছিলেন তেমন হলে সোহমকে এই স্কুল থেকে ছাড়িয়ে তুলনায় কম খরচের স্কুলে ভর্তি করে দেবেন। কোনও ভাবে কথাটা শুনে ফেলে সোহম। সে কথাটা বলে বন্ধুদের। সেখান থেকেই জানাজানি হয়।

    আসলে এই কোভিড-১৯ কোটি কোটি মানুষের জীবনে ভীষণ প্রভাব ফেলেছে। কাজের পরিসর ক্রমেই কমছে। তার ফলে মানসিক চাপ বাড়ছে বাবা-মায়েদের ওপর। বিশেষ করে অল্প বয়সী বাবা-মায়েদের পরিস্থিতি কিছুটা জটিল।

    এই পরিস্থিতিতে কলকাতার বেশ কিছু নামী স্কুল বাবা-মায়েদের নিয়ে কর্মশালার আয়োজন করে। সেখানে একাধিক মনোবিদ বাবা-মায়েদের সঙ্গে বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে কথা বলেন। এই পরিস্থিতিতেও কীভাবে ভাল বাবা-মা হওয়া যায় সে পরামর্শও দেন।

    অল্প বয়সী অভিভাবকদের কাছে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় সমস্যা হল তাঁদের কর্মক্ষেত্র। এক দারূন অনিশ্চয়তা সেখানে প্রতিদিনই চেপে বসছে। কাল কী হবে কেউ বলতে পারছেন না। এই মানসিক চাপ সমালানো সহজ নয়। সমস্যা নিয়ে তাঁরা স্বামী-স্ত্রীতে কথা বলেন। এই সময় তাঁদের খেয়াল থাকে না যে সেই কথা তাঁদের সন্তানদের কানেও যাচ্ছে। অনেক বাবা-মা মনে করেন, ওরা ছোট কিছু বুঝবে না। তা কিন্তু ঠিক নয়।বাবা-মায়ের দুশ্চিন্তা খুব সহজেই সন্তানদের ওপর প্রভাব ফেলে।  

    মনোবিদরা বলছেন পরিস্থিতি যতই খারাপ হোক না কেন তা সন্তানের সামনে প্রকাশ করা যাবে না। তাদের সামনে সব সময়ই –'সব ঠিক হ্যায়' এই ভাব বজায় রাখতে হবে। যাতে শিশু মনে কোনও রকম বিরূপ প্রভাব না পড়ে।

    বাবা-মায়েরা বলছেন, এই কথাটা তাঁরা যে জানেন না তা নয়। অনেক সময় চাপ নিতে না পেরে তাঁরা নিজেদের মধ্যে কথা বলে একটু হাল্কা হতে চান। সেই ফাঁক গলেই শিশু মনেও সেঁধিয়ে যাচ্ছে নানা দুশ্চিন্তা । যা প্রভাব ফেলছে তার পড়াশোনা থেকে শুরু করে রোজকার জীবন যাত্রায়।

    মনোবিদরা বলছেন সব সময় নিজেকে বোঝাতে হবে- এই সময় কেটে যাবে।  তাহলে নিজের মনে শক্তি পাওয়া যাবে এবং প্রতিকূল পরিস্থিতির সঙ্গে লড়াই করা যাবে। তাহলেই একজন ভাল বাবা-মা হয়ে ওঠা যাবে।