বুধবার, এপ্রিল 14, 2021

জাতীয় শিক্ষানীতি না (অ) শিক্ষানীতি ?
জাতীয় শিক্ষানীতি না (অ) শিক্ষানীতি ?

জাতীয় শিক্ষানীতি না (অ) শিক্ষানীতি ?

  • scoopypost.com - Aug 07, 2020
  • মাটিতে পা রেখেই বিশ্বের সঙ্গে মেল বন্ধন । জাতীয় শিক্ষানীতির এই হল মূল উদ্দেশ্য। শুক্রবার ইউ জি সি আয়োজিত, ‘কনক্লেভ অন ট্রান্সফরমেশনাল রিফর্মস ইন হায়ার এডুকেশন আন্ডার ন্যাশানাল এডুকেশন পলিসি’ শীর্ষক  এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এ কথা বলেন।

    প্রধানমন্ত্রী এদিন তাঁর বক্তব্যে নতুন জাতীয় শিক্ষানীতির গুরত্ব তার প্রয়োজনীয়তা এবং বৈশিষ্ট তুলে ধরেন। কেন এই নয়া শিক্ষা নীতির দরকার ছিল তা বোঝাতে গিয়ে তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি এ পি যে আব্দুল কালামের উদ্ধৃতি তুলে ধরেন। মোদি বলেন, রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন, শিক্ষা শুধু জ্ঞান দেয় না, নিজেকে চিনতে সাহায্য করে।

    নয়া শিক্ষা নীতির পক্ষে সওওয়াল করে তিনি দাবি করেন দেশের মানষ নতুন শিক্ষা নীতি চাইছিলেন।  মোদি বলেন এই নতুন নীতি দেশের তরুণ প্রজন্মকে সারা বিশ্বের কাছে তুলে ধরার সুযোগ এনে দেবে।

    এদিকে মোদি এদিনের বক্তব্যে নয়া  শিক্ষা নীতকে সমর্থন করতে গিয়ে এতদিন ধরে চলে আসা শিক্ষা ব্যবস্থার সমালোচনা করেন। তিনি বলেন এতদিন স্ট্রিম ভিত্তিক শিক্ষা চালু ছিল। কখনও ডাক্তার, কখনও এঞ্জিনিয়ার  কখনও বা উকিল বানানোর চেষ্টা হয়েছে। নয়া ব্যবস্থায় একজন শিক্ষার্থী নিজে যা হতে চান তাই হওয়ার সুযোগ পাবে বলেও দাবি করেন তিনি। তিনি বলেন নয়া ব্যবস্থায় মাল্টিপল এন্ট্রি-এক্সিটের সুযোগ থাকবে। অর্থাৎ কোনও ছাত্র তার পড়াশোনার মাঝপথে নতুন বিষয় নিয়ে পড়াশোনার সুযোগ পাবে। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন শিক্ষার ভিত্তি হবে ইন্টারেস্ট, এবিলিটি এবং ডিমান্ড। দেখতে হবে কোনও পাঠক্রমের জব রিকোয়ারমেন্ট কী আছে?

    পুরনো শিক্ষা ব্যবস্থার সংগে নয়া নীতির পার্থক্য বোঝাতে গিয়ে তিনি বলেন, এতদিন শিক্ষার ভিত্তি ছিল হোয়াট টু থিঙ্ক। এখন জোর দেওয়া হবে হাউ টু থিঙ্ক।

    এদিকে মোদির এই মন্তব্য নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক। অনেকেই বলছেন আসলে এই হাউ টু থিঙ্কের মাধ্যমে বিজেপি  শিক্ষার গৈরিকীকরণের ব্যবস্থা করবে। দেশের ইতিহাসকেও বদলে  দেওয়ার চেষ্টা হবে। দেশের স্বাধীনতা আন্দোলন এবং তাতে কাদের কী অবদান ছিল তাও নতুন করে বলা হবে।

    শুধু এই নয় সমালোচনা রয়েছে গবেষণা করার নতুন ব্যবস্থা নিয়েও। এখন থেকে গবেষণার অনুমোদন দেবে একটি মাত্র সংস্থা। অভিযোগ এর অর্থ,  সেই সব বিষয়েই ছড়পত্র দেওয়া হবে যা সংঘ পরিবারের অনুমোদন করবে।

    শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বাধীতা নিয়েও মোদি নয়া ব্যবস্থার ইঙ্গিত দেন। তিনি দাবি করেন এই নিয়ে ইতিমধ্যেই দুটি মত রয়েছে। অনেকে মনে করেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠাঙ্গুলির সম্পুর্ন স্বাধীনতা অর্থাৎ অটোনমি থাকা প্রয়োজন। আবার কেউ মনে করেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওপর সরকারি নিয়ন্ত্রণ থাকা জরুরি। মোদি  বলেন, শিক্ষা ক্ষেত্রে আসলে দরকার এই দূয়ের মিলন। যার ভিত্তি হবে  প্রতিষ্ঠান গুলির পারফর্ম্যান্স। যারা যত ভাল কাজ করবে তাদের তত বেশি স্বাধীনতা দেওয়া হবে। অনেকে বলছেন এ কথা  বলে মোদি আসলে ঘুরিয়ে শিক্ষা ক্ষেত্রে সরকারি নিয়ন্ত্রণেই নিজের অনুমোদন দিয়ে দিলেন।

    মোদি এদিন তাঁর বক্তব্যে শিক্ষকদের গুণগত মান বাড়ানোর ওপরও জোর দেন। তিনি বলেন, যখন একজন শিক্ষক নতুন কিছু শেখেন, তখনি দেশ এগিয়ে যায়। দেশের ভবিষ্যতকে তাঁরাই পথ দেখান।