বুধবার, মে 12, 2021

পরীক্ষা দেওয়া নিয়ে দ্বিধায় অভিভাবকরা
পরীক্ষা দেওয়া  নিয়ে দ্বিধায় অভিভাবকরা

পরীক্ষা দেওয়া নিয়ে দ্বিধায় অভিভাবকরা

  • scoopypost.com - Jun 19, 2020
  • সাফল্যের ইঁদুর দৌড়ে সবাই চায় এগিয়ে যেতে। সকলের নজর তাই পরীক্ষার দিকে। প্রস্তুতিতে যেন কোনও খামতি থেকে না যায়। সকাল থেকে রাত, ছেলে-মেয়েদের ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তার অন্ত নেই অভিভাবকদের। সব চলছিল আপন নিয়মে। মুহূর্তেই সব কিছু গোল পাকিয়ে দিল কোভিড-১৯। সারা বিশ্বেই এক সন্দেহের বাতাবরণ ছড়িয়ে দিয়েছে এই ক্ষুদ্রাতি ক্ষুদ্র ভাইরাস। সব কিছুতেই এখন সন্দেহ। এই রে, ওটা ছোঁব না যদি সংক্রমণ হয়ে যায়, এটা খাব না যদি কিছু হয়। এখন কাউকে বাড়িতে ডাকব না, কি জানি কার কী আছে? এই এক সর্বগ্রাসী সন্দেহের বাতাবরনের মধ্যে বাস করতে হচ্ছে আমাদের। এর থেকে বাদ পড়ছে না ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনাও। অথচ তা বাদ দেওয়ার কোনও প্রশ্নই ওঠেনা।

    সেই পড়াশোনা নিয়েই এবার চিন্তা বাড়ছে বাবা-মায়েদের।  এই চিন্তা বেশি করে গ্রাস করেছে যাঁদের ছেলে-মেয়েরা আইসিএসই ও আইএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে তাঁদের।

    বোর্ড বলেছে যদি কেউ মনে করে তাদের বাকি পরীক্ষা দেবে তাও করতে পারে, নয়তো তাদের ইন্টারনাল অ্যাসেসমেন্টের ওপর ভিত্তি করে রেজাল্ট দেওয়া হবে।আর এই নিয়েই চিন্তায় পড়েছেন অভিভাবকরা। একবার যদি ছেলে-মেয়েরা পরীক্ষায় বসে তাহলে তা শেষ না হওয়া পর্যন্ত পরীক্ষা দিতেই হবে। সেক্ষেত্রে কোভিড সংক্রমণ থেকে তাদের কীভাবে দূরে রাখবেন সে চিন্তাও রয়েছে।

    আইএসসির ৮টি পেপার ও আইসিএসই-র ৬টি পেপারের পরীক্ষা বাকি রয়েছে। মার্চ মাসে যখন কোভিড সংক্রমণের জন্য সমস্ত স্কুল বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয় তখন এই ছিল পরিস্থিতি। এখন দেশ আবার অনলক পর্যায়ে রয়েছে। স্কুল-কলেজ খোলা নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা। তাই বকেয়া পরীক্ষার বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি। বোর্ড তাদের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়ায় এখন দায় বর্তাচ্ছে অভিভাবকদের ওপর। আর সে কারণেই তাঁরা পড়েছেন দ্বিধায়। কী করবেন?

    একাধিক স্কুলের প্রিন্সিপালরা এখন নিয়মিত অভিভাবকদের ফোন পাচ্ছেন। তাঁরা জানতে চাইছেন, কী করবেন? অনেক ছাত্রই তাদের বাবা-মাকে জানিয়েছে, তারা ইন্টারনাল অ্যাসেসমেন্টের ভিত্তিতেই রেজাল্ট নিতে চায়। কেউ আবার বাকি পরীক্ষা দিতে চাইছে। চাপ বাড়ছে বাবা-মায়েদের। একদিকে পরীক্ষার ফলাফলের প্রশ্ন অন্যদিকে তাদের স্বাস্থ্যের চিন্তা।

    চিন্তা শুধুই যে ছেলে-মেয়েদের নিয়ে, তাই নয়। বাড়ির বয়স্কদের নিয়েও চিন্তা রয়েছে। এক অভিভাবক সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, আমার মায়ের বয়স ৭০। ছেলে আইএসসি দিচ্ছে। যদি সে পরীক্ষা দিতে স্কুলে যায় ও সেখান থেকে কোনও রকম সংক্রমণ হয় তাহলে মায়ের কী হবে? বাড়িতে অন্য সকলেরই বা কী হবে? আবার পরীক্ষার সঙ্গে ছেলের ভবিষ্যতও জড়িয়ে রয়েছে। সব মিলিয়ে এক ভয়ঙ্কর মানসিক চাপে রয়েছেন অভিভাবকরা।