বুধবার, এপ্রিল 14, 2021

লাক্ষাদ্বীপের প্রবালে লুকিয়ে জলবায়ুর অজানা তথ্য
লাক্ষাদ্বীপের প্রবালে লুকিয়ে জলবায়ুর অজানা তথ্য

লাক্ষাদ্বীপের প্রবালে লুকিয়ে জলবায়ুর অজানা তথ্য

  • scoopypost.com - Aug 13, 2020
  • জটাশঙ্কর লাহিড়ী

    সমুদ্রের অতলে কত কিছুই না লুকিয়ে আছে। সমুদ্রের এই অজানা কথা নিয়ে কতই না বিস্ময়।সেই বিস্ময় কখনও জন্ম দিয়েছে কবিতার কখনও বা রূপকথার। তবে আজ কবিতা বা রূপকথা নয়, একেবারে বৈজ্ঞানিক সমীক্ষার কথা তুলে ধরব। যে সমীক্ষা বলছে সমুদ্রের নীচে থাকা এই প্রবাল আমাদের কয়েকশ বছরের জলবায়ু সম্পর্কে অনেক কিছু জানাতে পারে।এই সমীক্ষা করেছে পুণের ইন্ডিয়ান ইন্সস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল মেটেরোলজি বা আই আই টি এম।

    সমুদ্র গবেষকরা বলছেন লাক্ষাদ্বীপ এবং মালদ্বীপের এই প্রবাল আমাদের দেশের কয়েকশ বছরের জলবায়ু সম্পর্কে অনেক কিছু জানাতে পারে। বৃষ্টিপাত, চারিপার্শ্বিক জলস্তরের তাপমাত্রা সম্পর্কে এই প্রবালের জগত আমাদের বহি অজানা তথ্য দিতে সক্ষম।   

    আই আই টি এমের গবেষকরা তাঁদের সাম্প্রতিক গবেষণা বা সমীক্ষা থেকে জানতে পেরেছেন যে সমুদ্রগর্ভের এই প্রবাল প্রাচীর আমাদের গত কয়েকশ বছরের মৌসুমী বায়ু সম্পর্কেও অনেক তথ্য দিতে পারে। তাঁরা বলছেন সি সার্ফেস টেম্পারেচার বা সমুদ্রের উপরিতলের তাপমাত্রা মৌসুমী বায়ুকে গভীর ভাবে প্রভাবিত করে। সমুদ্রে জলীয় বাষ্প তৈরি নিয়ন্ত্রণ থেকে বাতাসের গতি প্রকৃতিও তার দ্বারা প্রভাবিত হয় এবং বর্ষাকালে বৃষ্টিপাতের কমা বা বাড়া নির্ভর করে এই সি সার্ফেস টেম্পারেচার বা এসএসটি-র উপর। বিজ্ঞানীরা বলছেন পৃথিবীর বিভিন্ন সমুদ্রের জলের লবণের মাত্রা নির্ভর করে এই এস এস টির কমা-বাড়ার ওপর। তার মানে গরম বাড়লে বেশি মাত্রায় জল বাষ্পীভূত হয়। তবে উত্তর ভারত মহাসাগরে এই রীতি খাটে না। বিশেষ করে লাক্ষাদ্বীপ এলাকায়।

    জুনের শুরুতে মৌসুমী বায়ুর প্রভাব শুরু হলেই সমুদ্র নিজে থেকেই ঠান্ডা হতে থাকে।  

    আই আই টি এমের প্রবীণ বিজ্ঞানী সুপ্রিয় চক্রবর্তী বলেছেন,এই কারণে লাক্ষাদ্বীপ এলাকার প্রবাল আন্দামান এলাকার প্রবালের চেয়ে ভালভাবে সমুদ্র পৃষ্ঠের তাপমাত্রা রেকর্ড করে রাখতে পারে। সাধারণত এই প্রবালের আয়ু হয় ৩০০ থেকে ৪০০ বছর। গাছের গুঁড়ির ভেতরের দাগ দেখে যেমন তার বয়স বোঝা যায় তেমনই প্রবালগুচ্ছ দেখে তাদেরও বয়স বোঝা যায়।

    প্রবালগুচ্ছের ওপর এর আগে যে সমীক্ষা হয়েছিল তা থেকে পশ্চিমঘাট পর্বতের বৃষ্টিপাতের হিসেব পাওয়া গেছিল।বিজ্ঞানীরা বলছেন জলবায়ু পরিবর্তন এই প্রবালের আয়ুর ওপর ভয়ঙ্কর প্রভাব ফেলছে। শুধু জলবায়ু পরিবর্তনই নয়, সমুদ্রের গভীরের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারও এই প্রবালের অপর কু প্রভাব ফেলছে। যার ফলে এরা হারিয়ে যাচ্ছে। সুপ্রিয় চক্রবর্তী বলছেন যদি খুব দ্রুত কোনও ব্যবস্থা না নেওয়া হয় তাহলে অচিরেই শেষ হয়ে যাবে এই প্রবাল। প্রবাল না থাকলে জলবায়ু সংক্রান্ত বহু ভবিষ্যত গবেষণা করার সুযোগও  আর থাকবে না। অনেক কিছুই আমরা হারিয়ে ফেলব। প্রকৃতি হারিয়ে ফেলবে অমূল্য এক সম্পদ।