বুধবার, এপ্রিল 14, 2021

কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাতের কেন্দ্র বিশ্বভারতী
কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাতের কেন্দ্র বিশ্বভারতী

কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাতের কেন্দ্র বিশ্বভারতী

  • scoopypost.com - Aug 18, 2020
  • অশান্তি, সমস্যা, কর্মী-ছাত্র আন্দোলন এর আগেও হয়েছে। তবে এবার যা হল তা আগে বোধহয় দেখেনি বিশ্বভারতী। পৌষ মেলার মাঠে পাঁচিল তোলাকে কেন্দ্র করে তীব্র প্রতিবাদ, ভাঙচুর তার মধ্যে ঢুকে পড়া রাজনীতিতে স্পষ্ট হল কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত। সোমবার মিটিং, মিছিল, বিক্ষোভ, স্লোগান, বিশ্বভারতীর গেট-সহ জিনিসপত্র ভাঙচুরের মাধ্যমে জনরোষ আছড়ে পড়ল।যদিও এর মধ্যে শুধু জনতার রোষ নয়, রাজনীতিও দেখছেন রাজনীতিকরা।আর সেই রাজনীতির আঁচ গিয়ে পড়ল রাজভবন থেকে নবান্নে।বিবৃতি দিলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড় থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।ঘটনার পরই রাজ্য পুলিশের তরফে বিশ্বভারতীর উপাচার্যের জন্য যে নিরাপত্তারক্ষী দেওয়া হয় তা তুলে নেওয়া হল।

    পরিবেশ আদালতের নির্দেশে পৌষ মেলার মাঠ ঘেরা শুরু হয়েছিল। গত শনিবার থেকে এ ব্যাপারে আশ্রমিক, পড়ুয়া, সাধারণ মানুষের মধ্যে যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল তাতে ঘৃতাহুতি পড়ে সোমবার। সম্মিলিত বিক্ষোভ রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে রবি ঠাকুরের শান্তিনিকেতন। শান্তির জেরে বিশ্ববিদ্যালয় আপাতত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছএ কর্তৃপক্ষ। তবে তা মানতে নারাজ পড়ুয়ারা। পৌষ মেলার মাঠে পাঁচিল তোলার বিরোধিতা ও বিশ্বভারতী খোলার দাবিতে উপাচার্য বিদ্যুত্ চক্রবর্তীর ঘরের সামনে বিক্ষোভ শুরু করেছিলেন মঙ্গলবার সকাল থেকে। তবে শেষপর্যন্ত বিক্ষোভ বন্ধ করেন ছাত্রছাত্রীরা।

    পৌষমেলার মাঠ ঘেরার প্রতিবাদে সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘পৌষমেলা বাঁচাও কমিটি’-র নামে মিছিলের ডাক দেওয়া হয়েছিল সোমবার। সেখানেই হাজির ছিলেন তৃণমূলের বিধায়ক নরেশ বাউড়ি ও অন্যান্য তৃণমূল নেতারা। ছিলেন অন্যান্য লোকজনও। সঙ্গে ছিল পে লোডার। নরেশবাবু বলেন, মেলার মাঠের দখল তো কেউ নিচ্ছে না তাহলে পাঁচিল দিয়ে তা ঘেরা হচ্ছে কেন।মিছিল শান্তিনিকেতন থানার কাছে আসতে শুরু হয় তাণ্ডব। ভেঙে ফেলা হয় ভুবনডাঙার মাঠের মূল প্রবেশদ্বার। লুঠপাট হয় নির্মাণ সামগ্রী। একদিকে যখন তাণ্ডব, জনরোষ চলছে অন্যদিকে তার খবর পৌঁছয় রাজভবনেও। রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফোন করে বিষয়টি দেখতে বলেন।

    মুখ্যমন্ত্রী বিষয়টি বীরভূমের জেলাশাসককে বিষয়টি সামলাতে বলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমি যা শুনেছি পৌষমেলার আশপাশের মাঠে নির্মাণ কাজ চলছিল। বহিরাগতরা সেখানে ছিলেন।ছাত্র ও বোলপুরের মানুষ তা পছন্দ করেননি”।পাশাপাশি তিনি যে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যায়নের বদলে মাঠে পাঁচিল তোলার বিরোধী তাও স্পষ্ট করেন। বলেন, বিশ্বভারতী বিশ্বকবি যখন তৈরি করেছিলেন তখন তাঁর উদ্দেশ্যই ছিল প্রকৃতির কোলে খোলা পরিবেশে গাছের তলায় পৌষমেলা থেকে সমস্তকিছু হবে। আমি চাই না ওখানে কোনও নির্মাণ হোক”।

    স্বাভাবিকভাবে এ নিয়ে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের বক্তব্য, বিশ্বভারতীর বহু জমি আগে বেহাত হয়েছে। বিশ্বভারতী যদি চায় নিজেদের জায়গায় পাঁচিল দেবে অন্য কেউ কেন বাধা দেবে? ইতিমধ্যেই বিশ্বভারতীর তরফে ভাঙচুরের ছবি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক ও শিক্ষামন্ত্রকের কাছে পাঠানো হয়েছে।

    উপাচার্য গো ব্যাক স্লোগান উঠলেও এ নিয়ে প্রতিক্রিয়া দেননি বিদ্যুত্ চক্রবর্তী।এদিকে বিশ্বভারতীর তরফে অভিযোগ করা হয়, সামনেই দুটো থানা থাকলেও পুলিশ মোতায়েন হয়নি। ১৪৪ ধারা জারির আবেদন করা হলেও প্রশাসন সে কথায় কান দেয়নি। তাই তারা শিক্ষা মন্ত্রককে বিকল্প ব্যবস্থা করতে বলেছে।

    এ বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য বিশ্বভারতী না চাইলে ভেতরে পুলিশ যেতে পারে না।পুলিশ তখনই যায় যখন প্রয়োজন মনে করে। পুলিশ সুপার শ্যাম সিং জানান, ঘটনায় আট জনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়েছে। সোমবারের পর পরিস্থিতি বুঝে মঙ্গলবারও বিশ্বভারতীতে দফায় দফায় বৈঠক চলছে।