বুধবার, মে 12, 2021

রাজ্যকে তোপ রাজ্যপালের
রাজ্যকে তোপ রাজ্যপালের

রাজ্যকে তোপ রাজ্যপালের

  • scoopypost.com - Dec 04, 2019
  • আবার প্রকাশ্যে রাজ্য-রাজ্যপাল সংঘাত। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় এসে ক্ষোভের সুর রাজ্যপালের গলায়। অভিযোগ, তাঁকে অভ্যর্থনা জানানো হয়নি। তালাবন্ধ ছিল উপাচার্যর ঘর। ঘরের বাইরে বসে থাকলেন দীর্ঘক্ষণ। খুঁজে পাওয়া গেলও না উপাচার্যের ঘরের চাবিও। ফাঁকা বিশ্ববিদ্যালয় ঘুরে দেখলেন তিনি। আর তারপরই রাজ্যের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকর। তোপ দাগলেন শিক্ষা মন্ত্রীর বিরুদ্ধে।

    পদাধিকারে রাজ্যপাল প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিদর্শনে এসে যথাযথ সম্মান না-পেয়ে ক্ষুব্ধ তিনি।রাজ্যপাল আসার কথা জানানো হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ে ছিলেন না উপাচার্য বা কোনও উচ্চপদস্থ আধিকারিক।

    ঘটনার সূত্রপাত ২৯ নভেম্বর। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেনেট বৈঠকে সভাপতিত্ব করতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল রাজ্যপাল জগদীপ ধনকরকে। তিনি সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন বলেও জানানো হয়। এরপরেই ঘটনার মোর নেয় অন্য দিকে। গতকাল রাজ্যপালের দফতরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে মেল পাঠিয়ে জানানো হয় অনিবার্য কারণবসত বুধবারের বৈঠক বাতিল করা হয়েছে। আর তার পরেই বুধবার সকালে রাজ্যপাল উপাচার্যকে জানান তিনি দুপুর ২টোয় বিশ্ববিদ্যলয়ের লাইব্রেরি পরিদর্শনে আসবেন। কথা অনুযায়ী তিনি এলেও দেখা পাননি কারও সঙ্গে।

    সূত্রের খবর, এদিন বিশ্ববিদ্যালয়েই আসেননি উপাচার্য সোনালী চক্রবর্তী। সহ উপাচার্য এসেও চলে যান।

    সাংবাদিক সন্মেলন করে রাজ্যপাল জানান, ‘আমায় একটা আবেদন করা হয়েছিল ৪ তারিখ দুপুর ৩টের সময় সেনেট বৈঠকে থেকে সভাপতিত্ব করতে। শিক্ষার পরিবেশকে উন্নত করতে ভেবেছিলাম এটা উপযুক্ত সুযোগ। তাই ২৯ তারিখ উপস্থিত থাকব এই মর্মে বার্তাও পাঠানো হয়। গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের চিঠি পেয়ে আমার দফতর অবাক হয়ে যায়, কারণ যেখানে আচার্য উপস্থিত থাকতে রাজি সেখানে একটা ক্রিপ্টিক মেসেজ পাঠিয়ে অনুষ্ঠান বাতিল করে দেওয়া হয়।’ বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আজকের এই সময়টা আমি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বরাদ্দ করেছিলাম। তাই বৈঠক বাতিলের পরে সিদ্ধান্ত নিই আজ বিশ্ববিদ্যালয় এবং লাইব্রেরি পরিদর্শন করব। যাঁরা আমার সঙ্গে কথা বলতে চান তাঁদের সঙ্গে কথা বলব। এখানে এসে আমি অবাক। আমি অভ্যর্থনার আশা করি না। কিন্তু উপাচার্যের ঘর বন্ধ, তার চাবি কোথায় কেউ জানে না। এটাই আমাকে অবাক করে।’

    উপাচার্যের না থাকা পুরোপুরি রাজ্য সরকারের একটি পরিকল্পনা বলে দাবি করেন রাজ্যপাল। তিনি বলেন, ‘বুধবার উপাচার্যের দেখা করতে বললে আমি উত্তর পাই রাজ্য সরকারের শিক্ষা দফতর উপাচার্যকে রাজ্যপালের সাথে দেখা করতে নিষেধ করেছে। আমি নিশ্চিত এটা ইতিহাসে প্রথম ঘটনা যেখানে দেশের কোনও সরকারি দফতর, মানে মন্ত্রী উপাচার্য নির্দেশ দিয়েছেন আচার্যর সঙ্গে না দেখা করতে।’ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসাবে তাঁর অধিকার আছে এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পদক্ষেপ গ্রহন করার। তবে সেই পথে তিনি হাঁটবেন না বলেই প্রকাশ্য বলেন তিনি। তাঁর কথায় ‘আমার কাছে আচার্য হওয়ার সুবাদে অধিকার আছে উপাচার্যের বিরুদ্ধে ডিসিপ্লিনারি অ্যাকশন নেওয়ার, তবে আমি তা করব না। কেউ আমার শত্রু নয়। আমার মনে হয় এখন শিক্ষা কেন্দ্রে রাজনীতিকরণ চলছে। আমি রাজ্য সরকারকে হাত জোর করে অনুরোধ করছি শিক্ষা কেন্দ্রে রাজনীতিকরণ করবেন না। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় মন্দির। উপাচার্যকে আইন মেনে কাজ করতে দিন।’ সাংবাদিক সন্মেলন শেষে লাইব্রেরি পরিদর্শন করেন রাজ্যপাল। দেখা করে কথাও বলেন কিছু কর্মচারীদের সঙ্গেও। তবে সপ্তাহের তৃতীয় দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে রাজ্যপালকে যেভাবে প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেলও তাতে রাজ্য-রাজ্যপাল সংঘাত যে দিনে দিনে বাড়বে তা বোঝা গেল।