বুধবার, অক্টোবর 21, 2020

স্কুপি পোস্ট শারদ সম্মান ২০১৯
স্কুপি পোস্ট শারদ সম্মান ২০১৯

স্কুপি পোস্ট শারদ সম্মান ২০১৯

  • scoopypost.com - Oct 09, 2019
  • ব্যতিক্রমী অথচ একটু অন্য রকমের খবর পরিবেশনের শপথ নিয়ে মহালয়ার পুণ্য প্রভাতে যাঁর শুভসূচনা সেই স্কুপি পোস্ট ডট কম শুধু সংবাদ মাধ্যমেরই দায়িত্ব নয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নেও সামিল হয়ে এগিয়ে এলো সেইসব প্রচারের আলোর বৃত্তের বাইরে থাকা সৃজনশীল পুজো কমিটিগুলোর পাশে। বিশিষ্ট জুরিগণের সুচিন্তিত বিচারে এবারের পাঁচটি বিশেষ ক্ষেত্রে পুরস্কৃত করা হল পাঁচটি বিশেষ পুজো কমিটিকে। স্কুপি পোস্ট ডট কমের শারদ সম্মান ২০১৯ –এ সেরা পাঁচ হল-

     ১) সেরা পরিবেশ বান্ধব পুজোর শিরোপা জুটলো হাওড়ার শতাব্দি প্রাচীন সর্বপ্রথম বারোয়ারি পুজো হাওড়া সেবা সংঘ। ১৯২৩ সালে প্রতিষ্ঠিত ১৯২৭ সাল থেকে পুজো শুরু। স্বদেশী আমলে ১৯৪২, ১৯৪৩ ও ১৯৪৪ এই তিন বছর ব্রিটিশরা সেবার ষষ্ঠীপুজোর দিনে দুর্গাপুজো করতে দেয়নি। যথারীতি ১৯৪৭ সালেই ব্রিটিশদের ষষ্ঠীপুজো করে দেশ স্বাধীন হয়। তারপর সেই ধারা আজও বজায় রয়েছে। শুদ্ধাচারে সকল বিধি মেনেই স্বাধীনতা সংগ্রামীদের ইচ্ছানুযায়ী এই পুজোর বিশেষ উপাচার বীরাষ্টমী পুজো। শোলা ও কাপড়ের সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপাদানে সজ্জিত ছিমছাম মন্ডপ তাই সেরা পরিবেশ বান্ধবের স্বীকৃতি আদায় করে নিল। অভিনন্দন হাওড়া সেবা সংঘ।

     ২) মা দুর্গার রূপের মহিমা কে করতে পারে ? তব অচিন্ত্যরূপচরিত মহিমা...! কিন্তু এমন শিল্পীও আছেন যাঁরা অন্তর দিয়ে শিল্পভাবনাকে মায়ের বন্দনার সাথে মিলিয়ে দেন। এবার পুজোয় তাঁদের থিম ছিল আহিরীটোলার বিখ্যাত পুতুলবাড়ি। পাপের ইতিহাসকে স্মরণ করে শুদ্ধমনে মায়ের শরণাপন্ন হবার উদ্দেশ্যেই এই ভাবনা। ভৌতিক পরিবেশ থেকে আধ্যাত্মিক পরিমন্ডলে গিয়ে প্রাণ ভরে মাকে দেখা। যেন মাগো তুমি এই অপরূপ রূপে বাহির হলে জননী, ওগো মা তোমায় দেখে দেখে আঁখি না ফিরে! এই কারণেই সেরা প্রতিমার পুজোর তকমা পেল সন্তোষপুর সার্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটি।

     ৩) দুর্গাপুজো মানেই আলোকমালার ঝলকানি। তিলোত্ত্মা কলকাতার সৌন্দর্যে নতুন পালক হল এর লাইটিংয়ের অভিনবত্ব। তারই উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করল সল্টলেকের এ.কে. ব্লকের সার্বজনীন দুর্গাপুজো কমিটি। বিচিত্র জটিল জীবনের পরিচায়ক মাকড়সার জালে জর্জরিত পরিবেশে আলো আঁধারির মায়াবি খেলা। তাই বিচারকদের বিচারে শ্রেষ্ঠ আলোকসজ্জার শিরোপার পুরস্কার অর্জন করল তাঁরা এবছর। সামনে থিম প্যান্ডেল হলেও পিছনে সাবেকি শুদ্ধাচারে প্রচলিত প্রতিমায় পুজো বিশেষ ভাবের পরিচয় বহন করে।

     ৪) “এ লড়াই বাঁচার লড়াই, এ লড়াই লড়তে হবে!” এই মানসিকতায় আজ মানুষ যেন রেসের ঘোড়া হয়ে প্রতিযোগিতার ঘোড়দৌড়ে ছুটে চলেছে। ভীষণ প্রাসঙ্গিক সামাজিক সমস্যাকে সুন্দর করে পটের চিত্র এবং হাতের কাজে ফুটিয়ে তুলেছেন মন্ডপ শিল্পী। সঙ্গে অসাধারণ প্রতিমা যেন পূর্ণতার প্রকাশ। ষড়রিপুর তাড়না থেকে মানুষ তখনই মুক্তি পায় যখন মা মহামায়ার শরণে আসেন। মানুষকে এই শারদোৎসবে সেই অমোঘ কথাটিই স্মরণ করালেন কেষ্টপুর মাস্টারদা স্মৃতি সংঘ। স্বভাবতই সেরা মন্ডপের শিরোপার ফলকটি সানন্দে তুলে দিতে হল ওদেরই সুযোগ্য হাতে।

     ৫) কসবা পূর্বাচল শক্তিসংঘের পুজোটা এবার যেন স্কুপি পোস্ট ডট কমের সাথে একাত্ম ভাবনার শরীক হয়ে উঠেছে। কারণ সবাই চিরাচরিত ভাবনায় বিশ্বাসী হলেও স্কুপি পোস্ট তা নয়, বরং একটু অন্য রকমের চিন্তাই ভাবতে ভালোবাসে। শক্তিসংঘের উদ্যোক্তাদেরও সেই ভাবনায় ভাবিত দেখা গেল। মানুষ রুজির সন্ধানে টাকার টানে দেশ ছেড়ে বিদেশে পাড়ি দেয়। কিন্তু মন পড়ে থাকে শিকড়ের কাছে। এই শুন্যতাকে অনুভব করেই মহা উৎসাহে ঝাঁপিয়ে পড়া। তাতে যে অপ্রতুলতা ও সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় আমাদের সেটাকেই সার্বিকভাবে ফুটিয়ে তুলেছে শক্তিসংঘের সেনানীরা। এই বার্তা একদিন দেশের গন্ডি ছাড়িয়ে বিদেশের সমাজেও মন্দ্রিত হবে বলেই তাঁদের অটুট বিশ্বাস। সেই বিশ্বাসের মর্যাদায় স্বীকৃতি দিতেই বিশেষ জুরিগণের মনোনয়নে উঠে এলো শক্তিসংঘের নাম। অভিনন্দন কসবা পূর্বাচল শক্তিসংঘের প্রতিটি সদস্যকে। আগামী বছরে আরো আকর্ষণীয় পুরস্কার ও স্বীকৃতির ডালি নিয়ে হাজির হবে স্কুপি পোস্ট ডট কম। শুভ বিজয়ার প্রীতি ও শুভেচ্ছা রইলো সকলে ভালো থাকবেন। সুস্থ ও আনন্দে থাকবেন।