মঙ্গলবার, অক্টোবর 20, 2020

সন্তোষপুর ত্রিকোণপার্কে ‘বিস্মৃতি’র আড়াল সরালো সাবেকিয়ানা
সন্তোষপুর ত্রিকোণপার্কে ‘বিস্মৃতি’র আড়াল সরালো সাবেকিয়ানা

সন্তোষপুর ত্রিকোণপার্কে ‘বিস্মৃতি’র আড়াল সরালো সাবেকিয়ানা

  • scoopypost.com - Oct 06, 2019
  • আজও বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের গলায় মহালয়া শুনে শারদীয়া শুরু হয় বাঙালির। কটা দিনের জন্য হলেও বাঁধ ভাঙে সাবেকিয়ানার আবেগের। তবে বদল এসেছে তাতেও। কেউ কেউ রেডিওর ঐতিহ্য ধরে রাখলেও বাকিদের কিন্তু মহালয়া শুনতে স্মার্টফোনই ভরসা। শিল-নোড়া থেকে মিক্সার গ্রাইন্ডার, টাইপ রাইটার থেকে ল্যাপটপ। নতুনের আড়ালে মুখ ঢেকেছে পুরনো। পুজোর ৭০তম বছরে এই বিস্মৃতিই এবারের থিম সন্তোষপুর ত্রিকোণপার্ক দুর্গোৎসব কমিটির। বিষয় ভাবনা ও রূপায়ণে শিল্পী অসীম পাল। প্রতিমা তৈরি করেছেন শিল্পী নবকুমার পাল। স্কুপিপোস্ট ডট কমের সঙ্গে কথা বলার সময় নস্ট্যালজিক পুজো কমিটির সহ-সভাপতি দেবাশিস সরকার। ফিরে গেলেন ছোটবেলায়। নতুনত্বের বিরোধী নন তাঁরা। তবুও আজকের প্রজন্মের সঙ্গে সাবেকিয়ানার দূরত্বে মন খারাপ হয় প্রবীণদের। দূরত্ব ঘোচানোর মাধ্যম হিসাবে দুর্গাপুজোর থেকে বড় আর কীই বা হতে পারে? সেটাকেই কাজে লাগিয়েছেন তাঁরা।

    মণ্ডপের মূল কাঠামো তৈরি করতে ব্যবহার হয়েছে লোহা আর কাঠ। ইটের গাঁথনি তুলে খাড়া হয়েছে দেওয়াল। সেই দেওয়াল খোদাই করে তৈরি হয়েছে ঈপ্সিত নকশা। সাজ-সজ্জায় ব্যবহার করা হয়েছে শিল-নোড়া, আদ্দিকালের রেডিও, গ্রামোফোন, রেকর্ড, পুরনো দিনের পেপার কাটিং, ডায়াল ঘোরানো ফোন, সুইচ, টাইপ রাইটার। এমনকি, আনা হয়েছে প্রায় ১০০ বছরের পুরনো একটি মাইক্রোস্কোপ! অভিনবত্বের এখানেই শেষ নয়। গোটা মণ্ডপটাই কিন্তু ছাদবিহীন। যদিও হঠাৎ দেখলে চাঁদোয়া বলে ভ্রম হয়। কাগজের চড়কি পাখা পরপর সাজিয়ে এমন চাঁদোয়ার আদল দিয়েছেন শিল্পী।

    মণ্ডপসজ্জায় যেমন সাবেকিয়ানার হাত ধরেছে অ্যাবস্ট্রাক্ট আর্ট। তেমনই মাতৃমূর্তির রূপায়ণে একচালার ভাবনার সঙ্গে মিশে গিয়েছে আধুনিকতা। তাতে চালচিত্র আর ডাকের সাজের রেশ যেমন আছে, তেমনই আছে নতুনত্বের বৈচিত্রের আস্বাদ।

    সন্তোষপুর ত্রিকোণপার্কের এই আয়োজন মন কেড়েছে দর্শনার্থীদের। ঠাকুর দেখতে সন্ধে থেকেই উপচে পড়ছে ভিড়। ভিড় সামলাতে পুলিশের পাশাপাশি দায়িত্বে রয়েছেন বেসরকারি নিরাপত্তারক্ষীরা। আটটি সিসি ক্যামেরায় ২৪ ঘণ্টা নজরদারিও চলছে। অগ্নিকাণ্ডের মতো দুর্ঘটনা রুখতে রয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। একটি কাচের ঘরে আগুন নেভানোর সরঞ্জাম ছাড়াও রাখা হয়েছে প্রাথমিক চিকিৎসার যাবতীয় উপকরণ।