সোমবার, অক্টোবর 26, 2020

ভীতুরা সন্তোষপুরের মন্ডপে ঢোকার আগে দুবার ভাবুন !
ভীতুরা সন্তোষপুরের মন্ডপে ঢোকার আগে দুবার ভাবুন !

ভীতুরা সন্তোষপুরের মন্ডপে ঢোকার আগে দুবার ভাবুন !

  • scoopypost.com - Oct 06, 2019
  • থিমের চমক তো অনেকেই দেখান। তা বলে দুর্গামণ্ডপে ঢোকার আগে আস্ত ‘হরর শো’! আজ্ঞে হ্যাঁ। সেটাই করে দেখিয়েছে সন্তোষপুর সর্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটি। এবার পুজোয় তাঁদের থিম ‘আহিরীটোলার পুতুলবাড়ি’। পুজোর বয়স ঠিক সাতটি দশক। বয়স বাড়লেও রকমারির রসে টইটম্বুর।

    গতে বাঁধা ঠাকুর দেখায় একটু যেন রকমফের। সৌজন্যে সন্তোষপুর সর্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটি। তবে বুকে যাঁদের সাহস কম, তাঁদের কিন্তু এখানে আসতে মানা। সন্তোষ সর্বজনীনে মাতৃমূর্তির দর্শনের আগে আপনাকে ঢুকতে হবে আহিরীটোলা পুতুলবাড়ির অন্দরে। রোমান স্থাপত্যে তৈরি এই বিখ্যাত জমিদারবাড়ি(বলা ভালো কুখ্যাত) একটি বিশেষ কারণে। শোনা যায়, বাড়ির মহিলাদের উপর অকথ্য অত্যাচার করতেন বাড়ি পুরুষরা। সেই সময় বহু মহিলাকেই নাকি খুন করে জমিদার বাড়ির পিছনের কবরস্থানে পুঁতে ফেলা হত। অনেকেরই দাবি, সেদিন যাঁদের খুন হতে হয়েছিল, আজও জমিদারবাড়ির আনাচকানাচে ঘুরে বেড়ায় তাঁদের অতৃপ্ত আত্মারা। অশরীরীদের মাঝে কেমন সে অনুভূতি? তারই আঁচ মিলবে সন্তোষপুর সর্বজনীনের পুজোমণ্ডপে এলে। মূল মণ্ডপে ঢোকার আগে আলাদা একটি অস্থায়ী ঘরে দর্শনার্থীদের দেখানো হবে ‘হরর শো’। সেখানে পুতুলবাড়ির সঙ্গে দর্শকদের প্রথম পরিচয় হবে এলইডি স্ক্রিনে। তারপর একে একে ভয় দেখাবে ভূতের দল। তাতে ভয় যেমন আছে, তেমনই আছে মুখ বুজে সহ্য করা যন্ত্রণা।

    হরর-শো শেষ হবে দেবী দশভূজার আবাহনে। এরপর আপনি ঢুকবেন মূল মণ্ডপে। সেখানেও পুতুল বাড়ির অন্দরের সাজ। মূলত, বাঁশ, কাঠ, কাপড়, থার্মোকলে তৈরি হয়েছে মণ্ডপ। প্রতিমার অধিষ্ঠান সাবেকি সাজে।

    পুজো কমিটির সম্পাদক অরিন্দম ঘোষ জানান, প্রতি বছরই দর্শনার্থীদের জন্য নতুন কিছু করার কথা ভাবেন তাঁরা। এবারের হরর শো-ও তেমনই একটি ব্যতিক্রমী প্রয়াস। দর্শনার্থীরা উপভোগও করছেন। ভূত দেখতে ক্রমশ বাড়ছে বর্তমানদের ভিড়! ভিড় সামলাতে পুলিশের সঙ্গে রয়েছেন ৪০ জন স্বেচ্ছাসেবক ও বেশ কয়েকজন বেসরকারি নিরাপত্তারক্ষী। রয়েছে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাও। প্রথা মেনে এখানে অষ্টমীতে মায়ের ভোগ বিলি হয়। এবছরের মেনু ফ্রায়েড রাইস, আলুরদম, চাটনি, পায়েস আর মিষ্টি। সন্ধিপুজোর পর নবমী নিশি কাটিয়ে দশমীতে সিঁদুর খেলার পরই হবে মায়ের নিরঞ্জন।