সোমবার, অক্টোবর 26, 2020

‘ওরে নবমী নিশি, না হইও রে অবসান’
‘ওরে নবমী নিশি, না হইও রে অবসান’

‘ওরে নবমী নিশি, না হইও রে অবসান’

  • scoopypost.com - Oct 07, 2019
  • পরের বছর কবে দুর্গাপুজো সেটা এক বছর আগে থেকেই দেখে নেওয়া জরুরী। বাঙালি মাত্রই এই কাজটা করে না এমনটা কেউ নেই বললেই চলে। আর হবে নাই বা কেন, বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব। মহালয়ার ভোরে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কন্ঠস্বর শোনার পরই যেন ছুটির আমেজ গায়ে লেগে যায়। তারপর থেকে দিনগোনা শুরু। প্রথমা দ্বিতীয়া থেকে দশমী। কিন্তু নবমী এলেই যেন মনে হয় পুজোটা শেষ হয়ে গেল। বিষাদ গ্রাস করে। তবে এই নবমীর পূণ্য তিথিতে অশুভ শক্তির বিনাশ ঘটিয়ে ধরণীতে শুভ শক্তির প্রকাশ ঘটান দুর্গতিনাশিনী দেবী দুর্গা। এই তিথি শুরুই হয় সন্ধিপুজো দিয়ে। অষ্টমীর শেষ ২৪ মিনিট আর নবমীর প্রথম ২৪ মিনিট নিয়েই ৪৮ মিনিটের সন্ধিপুজো। দেবীকে এখানে চামুণ্ডারূপে পুজো করা হয়। এই লগ্নেই দেবী অশুভ শক্তির বিনাশ ঘটান। মহিষাসুরকে এই লগ্নেই বধ করেছিলেন মহিষমর্দিনী দেবী দুর্গা। আর অকাল বোধনের পর মায়ের আশীর্বাদ নিয়ে এই সময়েই রাবণ বধ করেছিলেন শ্রীরামচন্দ্র। তাই নবমী তিথির মাহাত্ম্য দুর্গাপুজোয় এক বিশেষ রূপেই প্রতিভাত। অধিকাংশ মণ্ডপেই এদিন কুমারী পুজো হয়। তারপর হোমযজ্ঞের পরেই ইতি ঘটে নবমীবিহিত পুজোর। এবং সূচিত হয় মায়ের বিদায় বার্তা। পরদিন দশমী বিহিত পুজোর পরই বিসর্জনের বাদ্যি বেজে ওঠে। মণ্ডপে মণ্ডপে তখন বেজে ওঠে বিষাদের সুর।

    মন খারাপের পালা শুরু হয়, আবারও একটা বছরের অপেক্ষা। মা মাত্র চারদিনের জন্য এসে মায়াটা যেন আরও বাড়িয়ে দিয়ে যায়। 'ঠাকুর থাকবে কতক্ষণ/ঠাকুর যাবে বিসর্জন'-- এই বাজনা মনে বাজতেই থাকে। যতই বাঙালি আর্তি জানাক যেও না নবমী নিশি, তা যাবেই। তবু মন বলে ওঠে বারবার- 'ওরে নবমী নিশি, না হইও রে অবসান।'