সোমবার, অক্টোবর 26, 2020

বেলুড় মঠের জ্যান্ত দুর্গাপুজো !
বেলুড় মঠের জ্যান্ত দুর্গাপুজো !

বেলুড় মঠের জ্যান্ত দুর্গাপুজো !

  • scoopypost.com - Oct 06, 2019
  • জয়ন্ত ঘোষ

    ১৯০১ সাল।বিশ্ববন্দিত স্বামী বিবেকানন্দ তখন সশরীরে আছেন। তাঁর স্বপ্নের বেলুড় মঠ সবে তৈরি হয়েছে। ১৯৯৭ সালে। সেখানে হবে জগজ্জননী দেবী দুর্গার বোধন! সে বোধন হবে মা সারদাকে দিয়ে। সংঘজননী তিনি। প্রস্তুতি হিসাবে দেখতে পাই যে ১৮৯৪ সালে গুরুভাই স্বামী শিবানন্দ অর্থাৎ তারক দাদাকে আমেরিকা থেকে একখানি চিঠি লিখে পাঠালেন। তাঁর বক্তব্যটি ছিল ভীষণ জোরাল- “মা-ঠাকরুন কি বস্তু বুঝতে পারনি, এখনও কেহই পার না, ক্রমে পারবে। ভায়া, শক্তি বিনা জগতের উদ্ধার হবে না। আমাদের দেশ সকলের অধম কেন, শক্তিহীন কেন? শক্তির অবমাননা সেখানে বলে। মা-ঠাকুরাণী ভারতে পুণরায় সেই মহাশক্তি জাগাতে এসেছেন, তাঁকে অবলম্বণ করে আবার সব গার্গী, মৈত্রেয়ী জগতে জন্মাবে। দেখছ কি ভায়া, ক্রমে সব বুঝবে। এই জন্য তাঁর মঠ প্রথমে চাই।...আমার চোখ খুলে যাচ্ছে, দিন দিন সব বুঝতে পারছি। ...তোমরা এখনও কেউ মাকে বোঝনি।... বাবুরামের মার বুড়োবয়সে বুদ্ধির হানি হয়েছে। জ্যান্ত দুর্গা ছেড়ে মাটির দুর্গা পুজো করতে বসেছে। দাদা, বিশ্বাস বড় ধন, দাদা, জ্যান্ত দুর্গার পুজা দেখাবো তবে আমার নাম! তুমি জমি কিনে জ্যান্ত দুর্গা মাকে যে দিন বসিয়ে দেবে, সেই দিন আমি হাঁফ ছেড়ে বাঁচব। তোমরা যোগাড় করে এই আমার দুর্গোৎসবটি করে দাও দেখি। গিরিশ ঘোষ মায়ের পুজা খুব করছে, ধন্য সে, তাঁর কুল ধন্য! দাদা, মায়ের কথা মনে পড়লে সময় সময় বলি, কো রামঃ দাদা, ঐযে বলছি। ওই খানটায় আমার গোঁড়ামি।”

    শ্রীমা সারদাদেবীকেই জগন্মাতা জ্ঞানে জ্যান্ত দুর্গা কল্পে পুজো করার সংকল্প সত্যিই রোমাঞ্চকর। স্বামীজী তাঁর সাধের বেলুড় মঠের বেলতলায় বসে গান ধরেছেন- “গিরি গণেশ আমার শুভকারী / পূজে গণপতি পেলাম হৈমবতী / চাঁদের মালা য্নে চাঁদ সারি সারি / বিল্ববৃক্ষ মূলে পাতিয়া বোধন / গণেশের কল্যাণে গৌরীর আগমন / ঘরে আনব চণ্ডী কর্ণে শুনবো চণ্ডী / আসবে কত দণ্ডী জটাজুটধারী।” দিন পনেরো আগে স্বামীজীর মনে হল এবার মঠে দুর্গাপুজো করব। আবার স্বামী ব্রহ্মানন্দজীও তার কিছুদিন পরে ভাব চক্ষে দেখলেন মা দুর্গা নৌকা চেপে দক্ষিণেশ্বর থেকে বেলুড়ে এসে উঠলেন। এসে দেবী স্বয়ং বিল্ববৃক্ষমূলে অধিষ্ঠিত হলেন। স্বামীজী কলকাতা থেকে ফিরেই রাজা মহারাজের কাছে এই কথা জানতেই মঠে হই চই পড়ে গেল। মজার ঘটনা ব্রহ্মানন্দজী ব্রহ্মচারী কৃষ্ণলাল মহারাজকে প্রতিমার খোঁজে কুমারটুলিতে পাঠালে পঞ্চমীর দিনেই একটি সুন্দর দুর্গা প্রতিমা আশ্চর্যজনক ভাবে পেয়ে গেলেন। ১৯০১ সালের সেই শুরু। বাবুরাম মহারাজ মানে স্বামী প্রেমানন্দজী বাগবাজারে মায়ের কাছে অনুমতি চাইলে শ্রীশ্রীমা সানন্দে অনুমতি দিলেন তবে নবমীতে স্বামীজীর বলি দেবার প্রস্তাব তিনি অনুমোদন করেননি। কারণ তিনি বলেছিলেন-সন্ন্যাসীর জীবন সর্বভূতে অভয় প্রদানের জন্য তাই শশা, চালকুমড়ো আর আখ বলিতেই ব্যাপারটা সীমাবদ্ধ থাকল। এই দুর্গাপুজোতেই নয়টি বালিকাকে কুমারীপুজো করা হয়েছিল যার জ্বলন্ত সাক্ষী ছিলেন জগজ্জননী মা সারদা স্বয়ং। বোধনের পর সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী এবং দশমী পুজো সহ বিসর্জনের প্রতিটি কাজই খুব ভক্তি সহকারে করা হয়েছিল।