শুক্রবার, মার্চ 05, 2021

শুভেন্দু আর কী চান?
শুভেন্দু আর কী চান?

শুভেন্দু আর কী চান?

  • scoopypost.com - Dec 20, 2020
  • দলে তিন মর্যাদা পাচ্ছিলেন না, সম্মান নিয়ে কাজ করতে পারছিলেন না। তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিতে গিয়ে এই মন্তব্য করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। অমিত শাহের উপস্থিতিতে তিনি স্বীকার করেছেন তাঁর সঙ্গে  নাকি ছ বছরের যোগাযোগ। অর্থাৎ তিনি স্বীকার করলেন তৃণমূলে থেকেও তিনি দীর্ঘদিন ধরেই বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ রেখে গিয়েছেন। যে নেতা দলে থেকেও বিরোধী দলের সঙ্গে এইভাবে যোগাযোগ রেখে চলেন তাঁকে কী বলা উচিত? সে প্রশ্নের জবাব তো তাঁকে দিতে হবে।

    জবাব আরও দেওয়ার আছে। তৃণমূল কংগ্রেসে আর কোন নেতার পরিবার থেকে এতজন সাংসদ, বিধায়ক, পুরসভার চেয়ারম্যান হয়েছেন? শুভেন্দু অধিকারীর বাবা শিশির অধিকারী পূর্ব মেদিনীপুর জেলার তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি। সাংসদও বটে। কেন্দ্রের মন্ত্রীও ছিলেন। তাঁর এক ভাই সাংসদ, আর এক ভাইও পুরচেয়ারম্যান। এমনকি তাঁর পরিবারের মহিলারাও পুরসভার কাউন্সিলর। শুভেন্দু কি জবাব দেবেন তাঁর জেলায় যত জন তৃণমূল কর্মী আছেন তাঁদেরও কি জনপ্রতিনিধি হওয়ার  আশা থাকতে পারে না? তাহলে কি ধরে নিতে হবে তাঁর পরিবারের সদস্যরাই জনপ্রতিনিধি হওয়ার যোগ্য? এই সহজ প্রশ্নের জবাব তিনি তাঁর অনুগামীদের দেবেন তো?

    এর পাশাপাশি শুভেন্দুর নিজের প্রাপ্তির তালিকাটাও একটু খতিয়ে দেখা উচিত নয়কি? তিনি সাংসদ ছিলেন, পরে বিধায়ক হয়ে দুটি গুরুত্বপূর্ণ দফতরের মন্ত্রী। বিভিন্ন   কর্পোরেশন, উন্নয়ন বোর্ডের মাথায় তিনি। এর পাশাপাশি এক সময় সাতটি জেলার পর্যবেক্ষক। এরপরেও তিনি অভিযোগ করছেন তিনি দলে মর্যাদা পাননি। এ বোধহয় তাঁর পক্ষেই সম্ভব।

    মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, শুভেন্দু এবং তাঁর পরিবারকে যে রাজনৈতিক গুরুত্ব দিয়েছেন তাঁর দলের আর কোনও নেতার পরিবারকে সেই গুরুত্ব দেন নি। তাই হয়ত এখনও শুভেন্দুর পরিবারের আর কেউ দল ছাড়ার কথা জানা্ন নি । তঁরা হয়ত চাইছেন দল তাঁদে্র বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিক। তাহলে হয়ত তাঁদের বিজেপিতে যোগ দেওয়া সম্ভব হবে। লোকলজ্জার ভয়ে হয়ত তাই তাঁরা সময় নিচ্ছেন। তাঁদের রাজনৈতিক ভবিষ্যত নির্ধারণের দায়ভার তাঁরা দলের ওপরই ছেড়ে দিতে চাইছেন। এটা আসলে এক ধরণের কৌশল। নিজেদের সমর্থকদের বোঝানোর পথ।  

    অধিকারী পরিবারের শুভেন্দু থাকবেন বিজেপিতে আর অন্যরা তৃণমূলে এ টা কতজন বিশ্বাস করবেন তা নিয়ে সন্দেহ আছে। এই প্রসঙ্গেই তৃণমূলের একাংশ বলছেন, মুকুল রায় দল ছাড়ার পর তাঁর ছেলেও বেশ কিছুদিন পর্যন্ত বলেছেন তিনি তৃণমূলেই আছেন এবং থাকবেন। তারপর এক সময় ভিড়ে গেছেন বিজেপিতে। ততদিনে দলের যা ক্ষতি হওয়ার তা হয়ে গেছে। এবারও তাই প্রশ্ন উঠছে অধিকারী পরিবারের ক্ষেত্রেও সেই ঘটনারই পুনরাবৃত্তি হবে নাতো?

    তৃণমূলে শুভেন্দু যা পেয়েছেন, বিজেপিতেও তিনি তাই পাবেন তো? নিজের পরিবারের এতজনকে জনপ্রতিনিধি পদে বসাতে এবং নিজের অনুগামীদের চাহিদা মেটাতে পারবেন তো? সূত্রের খবর বিজেপি এ রাজ্যে ক্ষমতায় এলে শুভেন্দু অধিকারীকে উপমুখ্যমন্ত্রী করা হতে পারে। বিজেপিতে বিভিন্ন দল থেকে যত বড় নেতাই যোগ দিন না কেন, আজ পর্যন্ত তাঁদের কাউকেই কোনও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পদে বসায় নি তারা। যেমন অসমে, যেমন মধ্যপ্রদেশে। সংঘ যোগ না থাকলে কোনও নেতার পক্ষে মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসা সম্ভব নয়। ফলে বিজেপি জিতলে শুভেন্দুকে ওই উপমুখ্যমন্ত্রীর পদ নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হবে।

    এখন প্রশ্ন, সেই সম্ভাবনা কি তৃণমূলে ছিল না? স্বয়ং দলনেত্রী তাঁর উত্তরসূরি হিসেবে দলের যে দুজন নেতার নাম উল্লেখ করেছিলেন, তার একজন শুভেন্দু অধিকারী অন্যজন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপরেও শুভেন্দুর অভিযোগ তিনি যথেষ্ঠ মর্যাদা পান নি। রাজনৈতিক নেতাদের উচ্চাশা থাকে, কিন্তু তাঁদের সেই উচ্চাশা যদি বাস্তবের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হয় তাহলে তা কোনও দিন পূরণ হয় না। যেমন রাজস্থানের কংগ্রেস  নেতা শচিন পাইলট । তিনিও মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার লক্ষ্যে দলের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছিলেন। সে বিদ্রোহ সফল হয়নি। শুভেন্দুর জন্য  আগামি দিনে কী অপেক্ষা করছে তা সময়ই বলবে।

    প্রশ্ন আরও আছে, যে সাধারণ মানুষ এতদিন শুভেন্দুর কথা শুনে বিজেপি বিরোধিতা করেছেন আজ রাতারাতি তাঁরা শুভেন্দুর কথায় সেই বিজেপির হয়ে পতাকা কাঁধে দৌড়বেন কেন? তাঁরা তো এটুকু বোঝেন বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পিছনে শুভেন্দু অধিকারীর গোপন বোঝাপড়া রয়েছে । যে বোঝাপড়ার অংশীদার তাঁরা নন। মানুষ তো শুভেন্দু অধিকারীর কেনা নয়, তাঁরা তো এতটা অবিবেচকও নন যে তাঁরা কিছুই বুঝতে পারছেন না। তাহলে যে জনতা ওপরে মমত এবং নাগালের মধ্যে শুভেন্দু অধিকারীকে দেখে বিজেপি বিরোধিতা করেছেন তাঁরাও এত তাড়াতাড়ি পতাকা বদল করে ফেলবেন তা মেনে নেওয়া বা বিশ্বাস করা একটু কষ্টকর বটে।