রবিবার, নভেম্বর 29, 2020

ওনাম থেকে শিক্ষা নিক বাংলা
ওনাম থেকে শিক্ষা নিক বাংলা

ওনাম থেকে শিক্ষা নিক বাংলা

  • scoopypost.com - Oct 10, 2020
  • রমরমিয় চলছে পুজোর বাজার। ভিড়ের চাপ দেখে খুশি ব্যবসায়ীরা। তাঁদের মুখে হাসি ফুটেছে। বহুদিন পর আবার সচল হয়েছে কারবার। স্বাভাবিক ভাবেই তাঁরা চাইছেন এই ভীড় যেন আগামি দিনেও বজায় থাকে। মানুষ যেভাবে বেরিয়ে পড়ছেন তাতে তাঁরা আশাবাদী এই ভীড় তাঁদের দীর্ঘ মন্দার কিছুটা হলেও কাটাতে পারবে। এদিকে বাজার যt ভী বাড়ছে ততই রক্তচাপ বাড়ছে রাজ্যের চিকিৎসক মহল থেকে স্বাস্থ্য মন্ত্রকের। তাঁর প্রমাদ গুণছেন এই ভীড়ের ফল রাজ্যের কোভিড পরিস্থিতিকে কোথায় নিয়ে যাবে তা বলা যাচ্ছে না। আশঙ্কা এতটাই যে এখন থেকে তাঁরা বার বার মানুষকে সতর্ক করতে চাইছেন, সতর্ক থাকতে অনুরোধ করছেন। তাঁদের উদ্বেগের বড় কারণ হল কেরলের সাম্প্রতিক ওনাম উৎসব।পরিসংখ্যান বলছে, কেরলে সাড়ম্বরে ওনাম পালিত হওয়ার পর থেকে কোভিড পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। দৈনিক সংক্রমণের সংখ্যা হু হু করে বাড়ছে। এই কারণেই রাজ্যের চিকিৎসক মহলের এখন রাতের ঘুম নেই আগামি দিনের ভয়াবহতার কথা ভেবে।

    পুজো এখনও কয়েক দিন বাকি। এখন চলছে কেনাকাটা। সেই কেনাকাটা করতে গিয়ে বহু ক্ষেত্রেই মানুষ কোভিড বিধি উপেক্ষা করছেন। যা দেখে শিউরে উঠছেন ডাক্তাররা। মানুষের সচেতনতার অভাব দেখে ডাক্তাররা যথেষ্ট উদ্বিগ্ন। কেনাকাটা করতে গিয়ে মানুষ মুখে মাস্ক টুকুও দিচ্ছেন না। সামাজিক দূরত্ব তো শিকেয় উঠেছে। ছ-ফুটের তফাৎ রাখার কথা কেউ ভেবেও দেখছেন না। মাস্ক হাতে নিয়ে বা পকেটে রেখে দিব্যি কেনাকাটায় মেতে রয়েছেন তাঁরা। নিজেদের অসাবধানতার  কথা হাসি মুখে সংবাদ মাধ্যমের কাছে জানাতেও দ্বিধা করছেন না। মাস্ক না পরা, সামাজিক দূরতে বিধি না মানার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে স্ট্রিট ফুড খাওয়ার ধুম।

    সাধারণ মানুষের এই প্রবণতা দেখে হতবম্ব হয়ে যাচ্ছেন পুলিশ প্রশাসনের বড় কর্তা থেকে রাস্তায় ডিউটি করা সাধারণ পুলিশ কর্মচারীরা। শুক্রবারই কলকাতার পুলিশ কমিশনার অনুজ শর্মা সকলকে অনুরোধ করেছেন পুজোর সময় কোভিড বিধি মেনে চলতে।

    নিউ মার্কেট এলাকায় কর্তব্যরত পুলিশ কর্মীরা  অত রাখঢাক না করে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন সাধারণ মানুষের ওপর। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ কর্মী জানালেন, সবাই মিলে এতবার করে মাস্ক পরার কথা বলা হচ্ছে, নিজেদের মধ্যে একটু দূরত্ব বজায় রখতে বলে হচ্ছে, কিন্তু কে শোনে কার কথা। তাঁর অভিযোগ, মজার কথা হল এঁরাই আবার প্রশাসনের সমালোচনায় মুখর হন। অথচ নিজেদের দায়িত্ব পালনে সামান্য যত্নবান হন না।  

    পুজোর কেনাকাটায় মফস্বলের অনেক বড় দোকানে কিন্তু কোভিড বিধি ভাল ভাবে মেনে চলার চেষ্টা করা হচ্ছে। মাস্ক ছাড়া কাউকে ভিতের ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না।দোকানে আসার সঙ্গে সঙ্গে দেওয়া হচ্ছে স্যানিটাইজার। একসঙ্গে অনেককে ভিতরে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। কেনাকাটা হয়ে গেলে সমস্ত সামগ্রী ব্যাগে পুরে ভাল করে স্যানিটাইজ করে ক্রেতার হাতে দেওয়া হচ্ছে। দোকান মালিকরা বলছেন, কোভিড পরিস্থিতির কথা ভেবেই এই সব করা হচ্ছে। এতে দোকানে হয়ত একটু কম মানুষ কেনাকাটা করতে পারছেন, তাহলেও আগে স্বাস্থ্য বিধি মানা দরকার।তবেই হয়ত আমরা সবাই মিলে নিশ্চিন্তে পুজোর আনন্দে মেতে উঠতে পারব, না হলে কিন্তু এই পুজো আমাদের যে বিপদ ডেকে আনবে মায়ের আর্শীবাদেও তা দূর হবে না।

এছাড়াও পড়ুন: ওনাম শিক্ষা বাংলা পুজোর