রবিবার, অক্টোবর 25, 2020

শাবককে নিয়ে ঘুরছে বাঘিনী!
শাবককে নিয়ে ঘুরছে বাঘিনী!

শাবককে নিয়ে ঘুরছে বাঘিনী!

  • scoopypost.com - Jan 06, 2020
  • থরহরিকম্প ঝাড়গ্রামের জঙ্গলমহলে। শীতের কনকনানি তো আছেই।কিন্তু কাদামাটিতে পায়ের ছাপ দেখে বন দফতর বাঘ বলে একপ্রকার নিশ্চিত হওয়ার পর থেকেই ঘরে সেঁধিয়েছেন ঝাড়গ্রামের বিনপুরের জঙ্গল এলাকার বাসিন্দারা।

    ছাপ পরীক্ষা করে বনাধিকারিকরা দেখেছেন তা লম্বায় ৬ ইঞ্চি। গভীরতায় দেড় ইঞ্চি। এই ছাপ রয়্যালবেঙ্গলের বলেই প্রাথমিকভাবে সন্দেহ। শুধু তাই নয়, মিলেছে অপেক্ষাকৃত ছোট ছাপও। আর সেই ছাপের আনাগোনায় অনুমান, বিনপুর সংলগ্ন মালাবতীর জঙ্গল এলাকায় বাঘেরা ঘুরঘুর করছে। আশপাশের গ্রামগুলোতেও বাঘের যাতায়াতের প্রমাণ মিলেছে। আপাতত মনে করা হচ্ছে তাদের পেট ভরা আছে। হয়তো কোনও বন্যপ্রাণী মেরে খেয়েছে। পেট খালি হলেই গ্রামের দিকে হানা দিতে পারে। ছাপ দেখে অনুমান, শাবক নিয়ে বাঘিনীও হতে পারে। নিশ্চিত হওয়ার জন্য ক্যামেরা বসাচ্ছে বন দফতর। ইতিমধ্যে বাঘ ধরতে খাঁচা পাতাও হয়েছে বিনপুরে।এসেছে সুন্দরবন থেকে ব্যাঘ্র প্রকল্পে কাজ করা বিশেষ দল।

    ২০১৮ সালে লালগড়ের জঙ্গলে চলে এসেছিল একটি বাঘ। প্রথম দিকে, পায়ের ছাপ দেখে বনাধিকারিকরা বলেছিলেন হায়না হতে পারে। কারণ, লালগড়ের শালের জঙ্গলে বাঘ আসার নজির নেই। তবে শেষ পর্যন্ত বনকর্তাদের অনুমান ভ্রান্ত প্রমাণ করে ক্যামেরাবন্দি হয় রয়্যাল বেঙ্গলের ছবি। তারপর বাঘ ধরতে সে এক কাণ্ড! ড্রোন উড়িয়ে বাঘের হদিশ পেতে গিয়ে ছবিতে শুধু পাল পাল হাতির দর্শন মিলেছিল। শেষপর্যন্ত শিকার উৎসবের সময় বাঘঘরার জঙ্গলে সেই বাঘকে পিটিয়ে মেরেছিলেন আদিবাসীরা।যার জেরে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছিল বনকর্তাদের।

    সিমলিপালের জঙ্গল বা ঝাড়খণ্ডের পালামৌ থেকে বিনপুরে বাঘ আসতে পারে বলে অনুমান। তাই এবার আর ঝুঁকি নিতে চান না তারা। যদি পায়ের ছাপ সত্যি বাঘের হয় তবে তাদের নিরাপদে গভীর জঙ্গলে পাঠাতে চান বনাধিকারিকরা। সেক্ষেত্রে ঘুমপাড়ানি গুলি ছুড়ে বাঘ বেহুঁশ করেও জঙ্গলে পাঠানো হতে পারে।কিন্তু যদি সঙ্গে শাবক থাকে তাহলে সেটাও যথেষ্ট ঝুঁকির বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

    এই মুহূর্তে চারদিকেই নজর রেখেছেন বনকর্মীরা। কারণ, বিনপুরের জঙ্গল বাঘ থাকার মতো গভীর নয়। সামনেই লোকালয়। তাই যখন-তখন বিপদ ঘটতে পারে।

    আপাতত তাই খাঁচা নিয়ে দক্ষিণরায়ের জন্য অপেক্ষার প্রহর গুনছেন বনকর্তারা।