রবিবার, নভেম্বর 29, 2020

কোভিডে কাজ খুইয়ে সর্বসান্ত কয়েক হাজার
কোভিডে কাজ খুইয়ে সর্বসান্ত কয়েক হাজার

কোভিডে কাজ খুইয়ে সর্বসান্ত কয়েক হাজার

  • scoopypost.com - Sep 25, 2020
  • কাজের লোক বলেই তাঁদের পরিচয়। মানে, লোকের বাড়ি কাজ করেই তাঁদের সংসার  চলে। ওটাই তাঁদের পেশা। উত্তর থেকে দক্ষিণ, পূর্ব থেকে পশ্চিম, এ শহরের উচ্চবিত্ত-মধ্যবিত্ত-নিন্ম মধ্যবিত্তের ঘর-দোরের যাবতীয় কাজের ঝক্কি এঁরাই সামলান। কাজের মাসি, দিদিরা বেশির ভাগই আসেন দক্ষিণ চব্বিশ পরগণার বিভিন্ন জায়গা থেকে। ডায়মন্ড হারবার, ক্যানিং, বারুইপুর, লক্ষীকান্তপুর, সোনারপুর –এইসব জায়গা থেকে তাঁরা আসেন গৃহস্থালির কাজ করতে। কেউ কেউ এক নাগাড়ে ২০-২৫ বছর ধরে একই বাড়িতে কাজ করছেন। এঁদের ছাড়া সংসার অচল। যাঁদের শ্রমে সম্পন্ন মানুষদের সংসার চলে, এবার তাঁদের সংসারেই নেমে আসছে গভীর অন্ধকার,কারণ কোভিড-১৯।

    দক্ষিণ চব্বিশ পরগণার বিভিন্ন জায়গা থেকে এঁরা সকলেই কলকাতায়  আসতেন ট্রেন ধরে। লোকাল ট্রেন। সেই ট্রেন বন্ধ  ২৪ মার্চ থেকে। সেই থেকে অনিশ্চিত এইসব  মানুষের রুটি-রুজিও। লকডাউনের সময়ে অনেকেই কাজ না করলেও পুরো বেতেন পেয়েছেন, কিন্তু এবার কী হবে সে চিন্তায় ভেবে আকুল ছায়া, মায়া, আমিনা, রেখা ছবিরা। এঁরা সকলেই কোনও না কোন বাড়িতে কাজ করেন। লকডাউনের সময় কাজে আসতে না পারলেও পুরো বেতন পেয়েছেন। এখন কিন্তু আর কেউ সে সুযোগ পাচ্ছেন না। কারণ তাঁদের আর কাজে রাখতেই চাইছেন না কেউ।

    দেশে কোভিড পরিস্থিতির এখনও একটুও উন্নতি হয়নি। তাই সতর্ক থাকতে চাইছেন  সকলেই। মেট্রো চলাচল শুরু হয়ে গেছে, আর কিছুদিন পরে চালু হয়ে যাবে লোকাল ট্রেনও। কিন্তু ট্রেন চালু হলেই যে তাঁরা পুরনো কাজ ফিরে পাবেন, তার কোনও নিশ্চয়তা নেই। ট্রেনে বা বাসে অর্থাৎ যে কোনও রকম গণ-পরিবহন ব্যবহার করে যাঁরা কাজ করতে আসবেন সংক্রমণের ভয়ে তাঁদের আর কাজে রাখতে চাইছেন না কেউ।

    ছায়া কাজ করেন বালিগঞ্জের এক আবাসনে। চার বাড়ির কাজ করে তার সংসার নির্বাহ করে। সে কাজ আর সে ফিরে পাবে না। যেসব বাড়িতে সে কাজ করত তারা জানিয়েছে আর কাজে রাখতে পারবে না। পরিস্থিতি যদি ভাল হয় তখন ভেবে দেখবে। অনেক বাড়ির মালিক আবার ফোনই ধরছেন না। কেউ কেউ স্পষ্ট জানাচ্ছেন লকডাইনের প্রায় ৭০ দিন বসিয়ে মাইনে দিয়েছেই। আর পারবো না। আমাদের দিকটাও তো দেখতে হবে। কেউ কেউ এককালীন কিছু টাকা দিয়ে আর আসতে না বলে দিয়েছেন।  

    শহুরে মানুষের রোগের ভয়, আর্থিক সাশ্রয়ের কথাটা না হয় বোঝা গেল, কিন্তু কাজ হারানো মানুষের অবস্থা কে বুঝবে? এই রেখা, আমিনা, মায়ারা কোন বিকল্প কাজের সন্ধান করবে?  

    কেউ কেউ এখন কাজ হারিয়ে সবজি বিক্রি করা শুরু করেছে। বালিগঞ্জ স্টেশন থেকে বাইরে এলেই সেটা বোঝা যায়। ওই চত্বরে বাজার বসত, এখন সেই সংখ্যাটা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। বিক্রেতা বেড়ে যাওয়ায় সারাদিনের খাটাখাটুনিই সার হচ্ছে। দিনের শেষে যা আয় হচ্ছে তা দিয়ে নিজের সারাদিনের খোরাকিই জোগাড় হচ্ছে না, সংসারের মুখে অন্ন জোগাবে কী করে?