বুধবার, এপ্রিল 14, 2021

রাহুলের প্রস্তাবে শুভেন্দুর না
রাহুলের প্রস্তাবে শুভেন্দুর না

রাহুলের প্রস্তাবে শুভেন্দুর না

  • scoopypost.com - Dec 18, 2020
  • বাংলার রাজনীতিতে গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন এই নেতা  খুব সুকৌশলেই নিজেকে এতদিন ধরে আলোচনার কেন্দ্রে রাখতে পেরেছেন। তাঁর সুবাদেই হঠাৎ উঠে এসেছে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধির নামও। এ কথাও ঠিক যেমন হঠাৎ তাঁর নাম এসেছে ঠিক তেমনই সে আলোচনা থেমেও গেছে।

    রাজনীতির আঙ্গিনায় সে আলোচনা থেমে গেলেও রয়ে গেছে কংগ্রেসের অন্দরে।সেই আলোচনায় আবার এক দায় চেপেছে রাহুল গান্ধির ঘাড়ে। এবারে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ সময় থাকতে তিনি শুভেন্দু অধিকারীর মতো নেতাকে দলে টানতে কোনও উদ্যগ নেননি। যখন নিলেন তখন শুভেন্দু নাগালের বাইরে।

    রাহুল গান্ধির বিরুদ্ধে উদ্যোগহীনতার অভিযোগ এই প্রথম নয়। যেমন প্রথম নয়, তাঁর বিরুদ্ধে ধারাবাহিকতার অভাবের অভিযোগ । প্রবীণ রাজনীতিক শরদ পাওয়ার নিজেই রাহুলের বিরুদ্ধে সেই অভিযোগ তুলেছিলেন। বিহার নির্বাচনের মাঝপথে রাহুল প্রচারের আঙিনা ছেড়ে পিকনিক করতে গিয়েছিলেন বলে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছিলেন জোট শরিকে আরজেডির নেতা। বিহারের ভোট মিটলে দেখা যায়, কংগ্রেসের ফল যদি ভাল হত তাহলে হয়ত মহাজোট বিহারে ক্ষমতায় আসতে পারত। আর এতেই ক্ষুব্ধ হয়ে রাহুলের বিরুদ্ধে  ভোটকে হাল্কা ভাবে নেওয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন আরজেডি নেতা।

    শুভেন্দু অধিকারীর পরিবার পুরোন কংগ্রেসী পরিবার। তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার আগে তাঁরা কংগ্রেসে ছিলেন। ফলে দল বদলের ক্ষেত্রে শুভেন্দুর স্বাভাবিক বিকল্প হওয়া উচিত ছিল কংগ্রেস। শুভেন্দুর আচরণে দলের প্রতি মান-অভিমানের ইঙ্গিত দেখা যাওয়ার পরেই কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী তাঁর সঙ্গে আলোচনা করেন বলে সূত্রের খবর। অধীর চেয়েছিলেন শুভেন্দু যদি দল ছাড়ার মতো সিদ্ধান্ত নেন তাহলে তিনি যেন বিকল্প হিসেবে কংগ্রেসকে বেছে নেন। প্রদেশ কংগ্রেস সূত্রে খবর অধীর চৌধুরী শুভেন্দুর বিষয়ে অর্থাৎ তাঁর সঙ্গে আলোচনার নির্যাস দলের হাইকমান্ডকে ঠিক সময়েই অবগত করেছিলেন। হাইকমান্ড অর্থাৎ রাহুল শিবির এবারও শুভেন্দুর বিষয়ে কোনও রকম আগ্রহ দেখায় নি, কোনও তৎপরতাও দেখায় নি। অন্যদিকে এ রাজ্যে নিজেদের পায়ের তলার মাটি শক্ত করতে বিজেপি তৃণমূলের একজন কাউন্সিলারকেও দলে টানতে                        সর্ব শক্তি দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। এই ভাবেই আজ তারা এ রাজ্যে নিজেদের শক্তি বৃদ্ধি করেছে। আগামি বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলকে জোর লড়াই দেওয়ার জন্য তৈরি হচ্ছে।  

    এই কারণেই ফের রাহুল গান্ধির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠছে । সম্প্রতি সংবাদ মাধ্যমে খবর হয় যে রাহুলের দূত শুভেন্দুকে ফোন করে কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানান। শুভেন্দু জানিয়ে দেন এখন আর তা সম্ভব নয়। শুভেন্দুর এই বক্তব্যই রাহুলকে আবার কাঠগোড়ায় তুলেছে। প্রদেশ কংগ্রেস সূত্রে খবর তাঁরা বলছেন শুভেন্দুকে পাওয়ার জন্য হাইকমান্ড সময়মতো উদ্যোগ নেয় নি।  তাঁরা বলছেন, রাজ্যে বিধানসভা ভোটের আগে শুভেন্দুর মতো নেতাকে পাওয়া গেলে তৃণমূল কংগ্রেসকে বড় ধাক্কা দেওয়া যেত। সে সুযোগ হাতছাড়া হয়ে গেল।