রবিবার, নভেম্বর 29, 2020

হাইকোর্টের নির্দেশ নিয়ে রিভিউ পিটিশন পুজোকমিটির
হাইকোর্টের নির্দেশ নিয়ে রিভিউ পিটিশন পুজোকমিটির

হাইকোর্টের নির্দেশ নিয়ে রিভিউ পিটিশন পুজোকমিটির

  • scoopypost.com - Oct 20, 2020
  • পুজো নিয়ে কলকাতা হইকোর্টের নির্দেশ নিয়ে রিভিউ পিটিশন দাখিল করছে পুজো  কমিটিগুলো। আগামিকাল সেই মামলা শুনবেন বিচারপতি সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায়। পুজো কমিটির হয়ে মামলা লড়ছেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই মামলার পরিনতি কী হবে তা জানা যাবে আগামিকাল। তার আগে একবার দেখে নেওয়া যাক পুজো নিয়ে কলকাতা হাউকোর্টের নির্দেশের প্রেক্ষিতে রাজনৈতিক নেতারা কীবলছেন এবং তার তাৎপর্যই বা কী? অর্থাৎ আদালতের এই রায়কে তাঁরা কী চোখে দেখছেন?   

    এ কথা ঠিক হাইকোর্টের রায়কে সকলেই স্বাগত জানিয়েছেন। তবে তাঁদের বক্তব্যে এ কথাও স্পষ্ট যে এই রায় একেবারেই তাঁদের পছন্দ হয় নি। পুজোর সঙ্গে জড়িত তৃণমূলের একাধিক বড় নেতার বক্তব্য থেকেই তা স্পষ্ট। সুব্রত মুখোপাধ্যায়, পার্থ চট্টোপাধ্যায়, অরূপ বিশ্বাস, ফিরহাদ হাকিম সকলের বক্তব্যেই অসন্তোষ ফুটে উঠেছে। সল্টলেকে সুজিত বসুর  পুজোয় এখন ধারে ভারে যথেষ্ঠ ওজনদার। তিনি স্পষ্ট বলেছেন তাঁরা হয়ত আদালতের রায় কার্যকর করার মতো অবস্থায় আছেন, কিন্তু ছোট পুজো উদ্যোক্তারা সমস্যায় পড়বেন। এই পরিস্থিতিতে অনেকে মনে করছেন রিভিউ পিটিশন আদালত গ্রহণ করায় আগের নির্দেশে কিছু ছাড় মিললেও মিলতে পারে।  

    আসলে এই পুজো হল তৃণমূল নেতাদের প্রান ভোমরার মতো। এই পুজোই তাঁদের সামাজিক পরিচিতি দিয়েছে, প্রতিষ্ঠা দিয়েছে।রাজনীতিতে প্রবেশের পথ করে দিয়েছে। এক কথায় বলতে গেলে এই পুজো তাঁদের অস্তিত্বের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে। ফলে এই পুজো ঠিক মতো করার সঙ্গে তাঁদের অনেক কিছু জড়িয়ে রয়েছে। কোভিড পরিস্থিতি খারাপ হলেও তাই পুজো নিয়ে আপোষ করতে রাজি নন এই তৃণমূল নেতারা।

    রাজনীতিকদের বাধ্যবাধকতা না হয় বোঝা গেল। সাধারণ মানুষের আচরণ নিয়েও কিন্তু আলোচনা করা দরকার। পুজোর বাজার করার সময় থেকেই সাধারণ মানুষের মধ্যে যে বেপরোয়া ভাব দেখা যাচ্ছে তা দেখে বোঝা যাচ্ছে বিন্দুমাত্র সচেতনতা তাঁদের মধ্যে কাজ করছে না। তাই দেখে অনেকেই বলছেন , মার্কেটিং এর সময়ই যদি এই হয় তাহলে পুজোর কটা দিন কী হবে, তা সহজেই অনুমান করা যাচ্ছে। সাধারণ মানুষ যদি সচেতন না হন তাহলে তার মুল্য তাঁদেরই দিতে হবে। যে ভাবে মানুষ মেতে উঠছেন তার মাশুল কিন্তু দিতেই হবে। মজার কথা হল। প্রশাসন, ডাক্তার, নার্স, পুলিশ সকলেই এত ভাবে বলা সত্ত্বেও সাধারণ মানুষ কোনও নিষেধ মানছেন না। আবার এঁরাই যখন চিকিৎসা পাবেন না, তখন সমালোচনার ঝড় বইয়ে দেবেন। একবারও ভেবে দেখবেন না এই পরিস্থিতি তৈরির ক্ষেত্রে তাঁর অবদানও কিছু কম নয়।   

    এসব কথা মাথায় রেখেই ডাক্তার, নার্স, পরিবেশ কর্মী থেকে শুরু করে অসংখ্য সামাজিক সংগঠন বার বার আবেদন জানাচ্ছে  এবার পুজোতে অন্তত কিছু বিধি নিষেধ মেনে চলা হোক। পুজোয় আনন্দ আগামি বছরও করা যাবে কিন্তু জীবন চলে গেলে আর ফিরে পাওয়া যাবে না।