মঙ্গলবার, নভেম্বর 24, 2020

বাম কংগ্রেস জোটে জট
বাম কংগ্রেস জোটে জট

বাম কংগ্রেস জোটে জট

  • scoopypost.com - Nov 21, 2020
  • জোট ঘোষণার আগেই পেকে গেল জট। এ রাজ্যে আগামী বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস এবং বামেরা জোট বেঁধেই ভোটে লড়তে চায়। এর আগেও তারা জোট করেছিল। সেই জোট ভাল ফল দেয় নি। এবারও এই দুই দল বাস্তবতা মেনে নিয়েই নিজেদের মধ্যে জোট করতে আগ্রহী। প্রাথমিক আলাপ আলোচনাও শুরু হয়েছে। তার মাঝেই মাথা চাড়ে দিয়ে উঠেছে বিতর্ক। যে বিতর্কের আশু সমাধান না হলে তার প্রভাব আগামি দিনে অর্থাৎ জোটেও পড়তে বাধ্য।।

    একটি নাম নিয়েই দু দলের মধ্যে গোল পেকেছে বলে । অধীর চৌধুরী। কোনও কোনও কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরীকেই জোটের মুখ্যমন্ত্রী মুখ বলে প্রচার বা উল্লেখ করা শুরু করেছেন।তাতেই বেজায় চটেছেন বাম নেতারা। তাঁরা নাম ছাড়াই ভোটে যেতে চন। অথচ বিজেপি যখন এ রাজ্যে তাদের সম্ভাব্য মুখ্যমন্ত্রী সম্পর্কে নীরব থাকে, তা নিয়ে সমালোচনা করতে পিছপা হন না বামেরা।   

    ঋজু ঘোষালের মতো কংগ্রেসী নেতারা মনে করেন জোটের নেতা হিসবে অধীর চৌধুরীকে সামনে রেখে লড়াই করলে বিধানসভা ভোটে জোটের ফল ভাল হবে।ঋজু ঘোষালের দাবি অধীর চৌধুরীর এই মুহূর্তে এক সর্ব্বভারতীয় পরিচিতি আছে । এ রাজ্যে বাম-কংগ্রেসের অন্য কোনও নেতার সেই পরিচিতি নেই। তছাড়া রাজ্যের মানুষ তাঁকে একজন লড়াকু নেতা হিসেবেই জানেন। ফলে মুখ হিসেবে অধীর চৌধুরীকে সামনে রাখে ভোটের ময়দানে নামলে দু দলের কর্মী-সমর্থকেরাই অনেক বেশি উজ্জীবিত হবেন।

    কংগ্রেসী  নেতাদের এই যুক্তি মানতে নারাজ বামেরা। বিশেষ করে বড় শরিক সিপিএম।এমনিতেই কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করার বিষয়টা তাঁরা খুব একটা খোলা মনে মেনে নিতে পারেন নি। বাস্তব পরিস্থিতি তাঁদের এই জোট করতে বাধ্য করেছে। তার ওপর যদি কংগ্রেসেরই কোনও নেতাকে জোটের নেতা এবং সম্ভাব্য মুখ্যমন্ত্রী হিএসেবে মেনে নিতে হয় তাহলে নেতৃত্বের কাছে তা বড়ই অস্বস্তির বিষয় হবে।স্বাভাবিক ভাবেই তাই এই নিয়ে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে বামেদের।

    প্রকাশ্যে অবশ্য তাঁরা এই নিয়ে কোনও মন্তব্য করছেন না। সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র বলেছেন, কংগ্রেসের কোনও শীর্ষ নেতাই এই ধরণের প্রস্তাব দেন নি। ফলে এই নিয়ে জোটে জটিলতার কোনও প্রশ্ন নেই। একই সঙ্গে তিনি এ কথাও বলেছেন, যা কিছুই হোক তাঁদের আগে শরিক নেতাদের সঙ্গে কথা বলতে হবে। শরিক নেতাদের মতামত ছাড়া কোনও সিদ্ধান্তে আসা যাবে না।

    গত লোকসভা ভোটে বাম-কংগ্রেস কারুর ফল ভাল হয়নি। অধীর একমাত্র একক ক্যারিশ্মায় তৃণমূলের শত বাধা সত্ত্বেও নিজের আসনে জয়ী হন। ফলে রাজ্য রাজনীতিতে তিন ব্যতিক্রমী নেতা হিসেবেই স্বীকৃত। ঠিক সেই কারণেই কংগ্রেস নেতারা চাইছেন অধীরকে সামনে রাখে ভোটে লড়তে। তাঁরা বলছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সমানে সমানে লড়াই করতে হলে তাঁর যোগ্য কোনও নেতাকে তুলে ধরতে হবে। এই মুহূর্তে বাম- কংগ্রেস শিবিরে অধীর চৌধুরী ছাড়া সে রকম আর কোনও নেতা নেই।  

    রাজনীতি সব সময় সাদাকে সাদা বলে না। তাই অধীরকে সামনে রেখে লড়াই হবে কিনা তা সময়ই বলবে, তবে এই জোট না হলে যে দু দলেরই সমূহ বিপদ সেকথা নেতারা বিলক্ষণ জানেন। তাই তাঁরা যে কোনও মূল্যে জোট গড়তে চান। অন্যদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এ রাজ্যে  বিজেপিকে ঠেকাতে হলে বাম-কংগ্রেসকে ভাল ফল করতে হব। বিশেষ করে বামেদের। তারা যদি নিজেদের ভোট ধরে রাখতে না পারে তাহলে তার সুবিধে পাবে বিজেপি। যেমন পেয়েছিল গত লোকসভা ভোটে। তাই যে কোনও মুল্যেই বাম ভোট ধরে রাখতে হবে। না হলে কিন্তু ঈশান কোনে মেঘ কিন্তু জমছে।