রবিবার, নভেম্বর 29, 2020

মহালয়াতেই দুর্গাপুজো !
মহালয়াতেই দুর্গাপুজো !

মহালয়াতেই দুর্গাপুজো !

  • scoopypost.com - Sep 18, 2020
  • মহালয়াতেই দুর্গাপুজো ! তাও আবার মাত্র একদিনের জন্য ! হিমালয় কন‍্যা উমার এ যেন বাপের বাড়িতে একদিনের হ‍্যারিকেন ট্যুর।
    এবার যেন সবই উলটপুরাণ। বৃহস্পতিবার ৩১ ভাদ্র ভোর ৪ টেয় বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের গলায় রেডিওতে আমবাঙালি ' মহিষাসুরমর্দিনী '-তে শুনল " আশ্বিনের শারদ প্রাতে.... ।" ভাদ্র সংক্রান্তির দিন অমাবশ্যা তিথি থাকায় এদিনই মহালয়া হল। পিতৃপক্ষের শেষ, দেবী পক্ষের সূচনা হল এদিন। তাই দিনটি আগমনীও। আশ্বিন মাস, এবার মলমাস। অর্থাৎ এই মাসে তাই পুজো বা কোন শুভ অনুষ্ঠান হবে না। তাই এবার দুর্গাপুজো ৫ থেকে ৯ কার্তিক। মহালয়ার ঠিক একমাস পাঁচদিনের মাথায়। পিতৃপক্ষের শেষ তিথিতে এই করোনা-কালেও পিতৃপুরুষের তর্পণে যখন গোটা বাংলা ব‍্যস্ত তখন পশ্চিম বর্ধমানের হীরাপুরের ধেনুয়া গ্রামের ছবিটা সম্পূর্ণ ভিন্ন। কারণ আগমনী শুরু হতে না হতেই উমা এই গ্রামে চলে আসেন পুজিতা হতে। তবে কেবলমাত্র একদিনের জন্যই। গ্রামের কালিকৃষ্ণ আশ্রমে একদিনের আগমনী দুর্গাপুজোর পত্তন করেন কালিকৃষ্ণ সরস্বতী ঠাকুর। ইংরাজি ১৮৬৯, বাংলার ১৩৮২ সালে তাঁর হাত ধরে আগমনী দুর্গাপুজোর শুরু হলেও তারও আগে তিনি গ্রামে শিব ও দক্ষিণাকালীর মন্দির গড়েন। তাঁর হাত ধরেই ধেনুয়া গ্রামের বাসিন্দারা পুজার্চনা ও আধ্যাত্মিক পরিমণ্ডল পেয়েছিলেন। ওই গ্রামে তাঁর সমাধিও রয়েছে। কোনও এক অজানা কারণে মাঝখানে আগমনী দুর্গাপুজো বন্ধ হয়ে গিয়েছিল বলে জানিয়েছেন বর্তমান সেবাইত কালিকৃষ্ণ ধীবর। তিনি জানান, আশ্রমের প্রধান এবং সেবাইত ছিলেন যতীন মহারাজ। তাঁর আমল থেকে প্রতিবছর আগমনী দুর্গাপুজো হয়ে আসতে দেখেছেন তিনি। যতীন মহারাজের গুরু ছিলেন তেজানন্দ ব্রহ্মচারী। কালিকৃষ্ণ সরস্বতী ঠাকুর এই পুজোর প্রচলন করলেও তাঁর প্রয়াণের পর কোনও অজানা কারণে এই পুজো বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। তেজানন্দ ব্রহ্মচারী দেবীর স্বপ্নাদেশ পেয়ে ফের এই পুজো শুরু করেন। তাঁর শিষ্য যতীন মহারাজও আগমনী দুর্গাপুজো করে এসেছেন। তাঁর প্রয়াণের পর এখন সেবাইত কালিকৃষ্ণ ধীবর এই পুজোর যাবতীয় দায়িত্ব সামলান।
    আগমনী দুর্গা এখানে কুমারী মহামায়া। তিনি সিংহবাহিনী হলেও অসুরদলনী নন। দেবী এখানে কুমারী বলে সঙ্গে ৪ ছেলেমেয়ে নেই। তবে দেবীর দুই সখি জয়া, বিজয়া রয়েছেন।
    পুরোহিত আশিস ঠাকুর জানিয়েছেন, বোধন, অধিবাস থেকে শুরু করে ষষ্ঠী থেকে দশমীর আলাদা আলাদা পুজো হয় বৈষ্ণবতন্ত্র মতে। প্রত‍্যেক পুজোয় চার রকমের আলাদা আলাদা ভোগ নিবেদন করা হয়। যেহেতু বৈষ্ণব মতে পুজো হয় সেকারণে এই পুজোয় কোনও বলি হয় না। দশমীর পুজো শেষে দেবীর ঘট বিসর্জন দেওয়া হয়। প্রতিমা রেখে দেওয়া হয়।
    দূরদুরান্ত থেকে মানুষ এখানে আগমনী দুর্গা দেখতে আসেন। তাঁরা দেবীর প্রসাদ ভোগ পান। একদিনের এই পুজো ঘিরে প্রবল উৎসাহ উদ্দীপনা থাকে গ্রামবাসীদের মধ্যে। মেলাও বসে। কিন্তু এবার করোনার জন্য দূরদূরান্ত থেকে মানুষ বিশেষ আসেনি। করোনার সংক্রমণ এড়াতে সামাজিক দূরত্ব বিধি মেনে গ্রামবাসীরা পুজোয় অংশ নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন পুরোহিত আশিস ঠাকুর।