বুধবার, এপ্রিল 14, 2021

সারদা কর্তার চিঠিতে নয়া জল্পনা
সারদা কর্তার চিঠিতে নয়া জল্পনা

সারদা কর্তার চিঠিতে নয়া জল্পনা

  • scoopypost.com - Dec 06, 2020
  • সারদা মামলায় নতুন মোড়। যার মূলে রয়েছেন খোদ সারদা কর্তা সুদীপ্ত সেন। তিনি একটি চিঠি লিখেছেন। যার প্রতিলিপি তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং প্রধানন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে পাঠানোর অনুরোধ করেছেন। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে সুদীপ্ত সেনের চিঠি পৌঁছেছে। প্রধানমন্ত্রী অবধি সেই চিঠি গেছে কিনা তা এখনও জানা যায় নি।  

    কী আছে সুদীপ্তর চিঠিতে? চিঠিতে তিনি নাকি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের নাম উল্লেখ করেছেন। সেই সঙ্গে পাশে লিখেছেন কে কত টাকা তাঁর কাছ থেকে নিয়েছে। সুদীপ্ত সেনের লেখা চিঠিতে কার কার নাম আছে? সিপিএমের বিমান বসু, সুজন চক্রবর্তী, কংগ্রেসের অধীর চৌধুরী, প্রাক্তন তৃণমূল এখন বিজেপি নেতা মুকুল রায় এবং শুভেন্দু অধিকারী। সকলেই বিশাল অঙ্কের টাকা নিয়েছেন বলে সুদীপ্ত তাঁর চিঠিতে উল্লেখ করেছেন। যেমন সুজন চক্রবর্তী -৯কোটি, বিমান বসু-২ কোটি, অধীর চৌধুরী ৬ কোটি, শুভেন্দু অধিকারী ৬ কোটি টাকা। আর মুকুল রায়ের টাকার অঙ্কের কথা কিছু না লিখে সুদীপ্ত সেন জানিয়েছেন, মুকুল রায় এত বিশাল অঙ্কের টাকা নিয়েছেন যে তার পরিমাণ তিনি মনে করতে পারছেন না।

    সুদীপ্ত সেনের অভিযোগ এই প্রভাবশালীরা তাঁর কাছ থেকে টাকা নিয়েও সমাজে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, আর তিনি জেলে রয়েছেন। এঁদের বিরুদ্ধে যেন ব্যবস্থা নেওয়া হয়।সুদীপ্ত সেনের চিঠি নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন অধীর চৌধুরী। তিনি আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। বিমান বসু বলেছেন, ‘তাই নাকি, দেখা যাক’?সুজন চক্রবর্তী বলেছেন, সাত বছর ধরে তদন্ত করছে সিবিআই। এতদিন তারা কিছু পেলনা, এখন সুদীপ্ত সেন চিঠি লিখছেন। এ কাঁচা হাতের কাজ। ধরা পড়ে যাচ্ছে। আর মুকুল রায় বলেছেন, সুদীপ্ত সেন এখন জেলে, ফলে তিনি কী বললেন তাতে কিছু এসে যায় না।

    সুদীপ্ত সেনের এই চিঠি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন তৈরি হয়েছে। প্রায় সব দল প্রতিক্রিয়া জানালেও তৃণমূল কংগ্রেস এখনও এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসবে ততই এই ধরণের  ঘটনা  আরও ঘটতে পারে। আসলে  এ রাজ্যের আগামি বিধানসভা নির্বাচন ক্রমশই জটিল হয়ে উঠছে। ভুয়ো খবর, জাল ছবি, মিথ্যে ঘটনায় ছেয়ে যাবে ভোটের বাজার। এক দল আরেক দলকে টেক্কা দিতে চাইবে এই ভাবে। যার ফলে ভোটের বাতাস বিষিয়ে উঠবে।