বুধবার, এপ্রিল 14, 2021

বাম, কংগ্রে্স, তৃণমূল আরও ভাঙতে পারে
বাম, কংগ্রে্স, তৃণমূল আরও ভাঙতে পারে

বাম, কংগ্রে্স, তৃণমূল আরও ভাঙতে পারে

  • scoopypost.com - Dec 20, 2020
  • শুভেন্দুতেই শেষ নয়। আরও নেতা যোগ দিতে পারেন বিজেপিতে। এ কথা যেমন তৃণমূলের ক্ষেত্রে সত্যি, তেমনই বাম কংগ্রেসের ক্ষেত্রেও সমান সত্যি। সূত্রের খবর বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের নীতি হল যে নেতা যেখানে শক্তিশালী সেখানে তাঁকেই দলে টেনে নিতে হবে। এর জন্য যা করার দরকার তাই করা হবে। কোনও স্থানীয় প্রতিরোধ মানা হবে না। দলে টানার ক্ষেত্রে একদিকে যেমন তৃণমূলকে নিশানা করা হয়েছে, তেমনই নজরে রয়েছেন বাম কংগ্রেসের নেতারাও।

    রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসবে ততই এই নীতি কার্যকর করতে সক্রিয় হবে বিজেপি। আগামি নির্বাচনে বিজেপির নজরের বাইরে আছেন এমন নেতা নেই বললেই চলে। সূত্রের খবর তৃণমূলের এমন নেতাকেও টার্গেট করেছে বিজেপি যাঁর নাম শুনলে স্বয়ং নেত্রীও চমকে উঠবেন। সূত্রের খবর তিনি নাকি ব্যক্তিগত ভাবে তাঁর প্রাথমিক সম্মতি দিয়েও দিয়েছেন। তবে ভোটের আগে তিনি দল ছাড়বেন কিনা তা নিয়ে সন্দেহ। অন্যদিকে কেউ বলছেন বিজেপি যদি জিতেই যায় তাহলে আর সেই নেতাকে দলে নেওয়ার কোনও যৌক্তিকতা থাকবে না। এই কথা বামেদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।                                                 বামেদের এক অতি পরিচিত নেতাকেও ইতিমধ্যে তাদের নিশানা করেছে বিজেপি। এই বাম নেতাকে সব সময়ই দলের হয়ে মুখ খুলতে দেখা যায়। অত্যন্ত সুবক্তা বলে সব দলের নেতারাই তাঁকে মান্যতা দেন। এমন এক কট্টর বাম নেতাকে বিজেপি কোন ভরসায় দলে টানতে চাইছে সেটাই বিস্ময়।

    কংগ্রেসের ক্ষেত্রেও এই কথা সমান ভাবে বলা যায়। দলের প্রতি ক্ষোভ কংগ্রেস নেতাদের স্বাভাবিক ঘটনা। সেই ক্ষোভকে কাজে লাগাতে চাইছে বিজেপি। তাদের নজরে রয়েছেন পুরুলিয়ার এক বড় কংগ্রেস নেতাও।  

    এই যখন পরিস্থিতি তখন আগামি দিনে সব দলের ঘর খালি করে দিতে চাইছে বিজেপি। অর্থশক্তি তাদের প্রধান সহায়। বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ করার জন্য তারা প্রস্তুত। অনেকের আশঙ্কা এ রাজ্যে আগামি বিধানসভা ভোটে মুড়িমুড়কির মতো অর্থ ব্যয় হবে। বিজেপির এই অর্থ শক্তির সামনে বাম, কংগ্রেস বা তৃণমূল দাঁড়াতে পারবে না বলেই মনে করা হচ্ছে।

    এখন প্রশ্ন হচ্ছে বিজেপির এই প্রলোভনে কেন পা দিচ্ছেন বাম, কংগ্রেস বা তৃণমূলের নেতারা। সমাজ বিজ্ঞানীরা বলছেন, রাজনৈতিক অবক্ষয়ই এর মূল কারণ। এখন রাজনীতিতে  ডিসাইডিং ফ্যাক্টর হল অর্থ। কোনও নীতি, আদর্শ, আনুগত্য বা শৃঙ্খলার সেখানে কোনও জায়গা নেই। সেই কারণেই দল বদল এত সহজ হয়ে গেছে। এর পাশাপাশি তাঁরা দলবদল আইনের ত্রুটির কথাও উল্লেখ করেছেন। সমাজবিজ্ঞানীদের পাশাপাশি সমাজের বিশিষ্টজনেরা দাবি তুলছেন দলবদলের আইন আরও কড়া হোক। তা নাহলে রাজনীতিতে ঘোড়া কেনা-বেচা চলতেই থাকবে। সাধারণ মানুষের রায়ের কোনও মুল্যই থাকবে না।