বুধবার, এপ্রিল 14, 2021

নন্দীগ্রাম থেকে ভোটে লড়বেন মমতা
নন্দীগ্রাম থেকে ভোটে লড়বেন মমতা

নন্দীগ্রাম থেকে ভোটে লড়বেন মমতা

  • scoopypost.com - Jan 18, 2021
  • আর আড়ালে আবডালে নয়। এবার শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সামনা সামনি লড়াই করার চ্যালেঞ্জ নিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার ভীড়ে ঠাসা তেখালি ময়দানের সভা থেকে তৃণমূল সুপ্রিমো নিজেই এদিন নন্দীগ্রাম থেকে লড়াই করার ইচ্ছে প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ভবানীপুর এবং নন্দীগ্রাম দু জায়গা থেকেই তিনি ভোটে লড়তে পারেন।

    শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর থেকে দলের বিরুদ্ধে কম- অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে লাগাতার তোপ দেগে চলেছেন। সোমবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে সরাসরি যে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন এবার শুভেন্দু তা কীভাবে গ্রহণ করেন সেদিকেই তাকিয়ে  রাজ্যের রাজনৈতিক মহল।  

    মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সব সময় সামনে থেকে লড়াই করতে ভালোবাসেন। সেটাই তাঁর রাজনৈতিক কৌশল। সেই ধারা বজায় রেখেই এদিন তিনি ঘোষণা করে দেন তিনিই নন্দীগ্রামে দলের প্রার্থী হবেন। দলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সিকে সেই মতো নির্দেশ দেন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করতে।এর পাশাপাশি তিনি উপস্থিত জনতাকে জানিয়ে দেন তিনি প্রার্থী হলে তাঁকে জেতানোর দায়িত্ব তাঁদেরই নিতে হবে। কারণ রাজ্যের ২৯৪টি কেন্দ্রে দলের প্রার্থীদের জিতিয়ে আনার দায় তাঁর।নন্দীগ্রাম থেকে দাঁড়াবার কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে তিনি এই কেন্দ্রকে ‘লাকি’ বলে উল্লেখ করেন। ভবানীপুরের ভোটারদের উদ্দেশ্যেও তিনি এদিন বার্তা দেন। তিনি বলেন ন্দীগ্রাম আমার মেজো  বোন আর ভবানীপুর বড় বোন।

    মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রামে প্রার্থী হয়ে এক সঙ্গে অনেক রাজনৈতিক প্রশ্নের জবাব দিয়ে দিলেন। এক, তিনি যে নন্দীগ্রামকে  কখনই অবহেলা করেননি তার প্রমাণ দিয়ে দিলেন। দুই , দীর্ঘদিন পরে কোনও মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী রাজ্যের গ্রামীণ কোনও কেন্দ্র থেকে ভোটে লড়বেন। শেষ এই উদাহরণ ছিল জ্যোতি বসুর। তিনি সাতগাছিয়া কেন্দ্র থেকে লড়েছিলেন। তারপর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য লড়াই করেছিলেন যাদবপুর কেন্দ্র থেকে। মমতার এই ঘোষণায় তৃণমূলের তিন নম্বর যে সুবিধে হবে তা হল এবার রাজনৈতিক ভাবে শুভেন্দু অধিকারী অনেক বেশি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে গেলেন। নিজের সম্মান রাখতে হলে তাঁকে নন্দীগ্রাম থেকেই লড়াই করতে হবে। আর তাহলে তাঁকে অনেক বেশি করে নিজের কেন্দ্রেই সীমাবদ্ধ থাকতে হবে। এর পাশাপাশি  এই এক ঘোষণায় তৃণমূল নেত্রী শুভেন্দু অধিকারীর একাধিক অভিযোগকেও নস্যাৎ করে দিলেন।

    এদিনের সভা থেকে তৃণমূল ছেড়ে যাওয়া নেতাদের বিশেষ গুরুত্ব না দিয়ে তিনি বলেন, কেউ কেউ ইধার উধার করছে-তা নিয়ে চিন্তার কিছু নেই। এর পাশাপাশি তাঁর বক্তব্যে আগাগোড়াই ছিল বিজেপির প্রতি তীব্র কটাক্ষ। বিজেপিকে তিনি ওয়াশিং পাউডার বলে উল্লেখ করেন। কেন্দ্রের কৃষি আইনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এরা কৃষিকে শেষ করে দিতে চাইছে। প্রতিবাদী কৃষকদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে তিনি বলেন, এ রাজ্যেও কৃষক আন্দোলন হবে।   

    নন্দীগ্রামের প্রত্যেক শহিদ পরিবারকে এদিন ৪ লাখ টাকা দেওয়া হয়। এর পাশাপাশি তিনি এই এলাকায় কী কী উন্নয়ন হয়েছে এবং আরো কী হবে তার উল্লেখ করেন। জনসমাগমের দিক থেকেও এদিনের সভা সব কিছুকেই ছাপিয়ে যায়। তেখালির মাঠ থেকে তৃণমূল নেত্রী সোমবার শুভেন্দু অধিকারী তথা বিজেপির প্রতি যে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে গেলেন তার মোকাবিলা তারা কীভাবে করে সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।

     

    .