রবিবার, নভেম্বর 29, 2020

মণ্ডপ কনটেনমেন্ট জোন, দর্শক প্রবেশে না হাইকোর্টের
মণ্ডপ কনটেনমেন্ট জোন, দর্শক প্রবেশে না হাইকোর্টের

মণ্ডপ কনটেনমেন্ট জোন, দর্শক প্রবেশে না হাইকোর্টের

  • scoopypost.com - Oct 19, 2020
  • কেরলের ‘ওনাম’ করোনা সংক্রমণ এক ধাক্কায় বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। কলকাতায় দুর্গাপুজো হলে বিপদ যে অনিবার্য বারবার বলেছেন ডাক্তররা। পুজোর জন্য একদিকে যখন সরকারি কোষাগার থেকে ক্লাবগুলোকে অর্থ সাহায্য যাচ্ছে, তখন করোনা মহামারিতে রাশ টানল হাইকোর্ট।

    পুজো মণ্ডপে ভিড় করতে পারবেন না দর্শনার্থীরা। শুধু তাই নয় ছোট মণ্ডপের ৫ মিটার ও বড় মণ্ডপের ১০ মিটারের মধ্যে ঢোকা যাবে না বলে সোমবার নির্দেশ দিল হাইকোর্ট। যে কোনও পুজো মণ্ডপই কনটেনমেন্ট জোন হিসেবে বিবেচিত হবে। অর্থাত্ সেখানে যাওয়া মানে করোনা সংক্রমণের আশঙ্কা তীব্র।

    দুর্গাপুজো মানেই বাংলা ও বাঙালির আবেগ। করোনা আবহে পুজো কীভাবে হতে পারে তা নিয়ে চলছিল জল্পনা।এরই মাঝে ঠিক হয় পুজো হবে। তবে পুজোর আগেই শুরু ট্রেলার। প্রথমত শপিং-এর ভিড় ইতিমধ্যেই করোনা সংক্রমণ ছড়িয়েছে ব্যাপকভাবে। অন্য দিকে, ইতিমধ্যেই কলকাতার একটি মণ্ডপে উদ্বোধনের পর দর্শকদের ভিড় ভাইরাল হয়েছে। আর সে সব দেখে বিশেষজ্ঞদের চোখ কপালে। যে সংক্রমণ ঠেকাতে স্কুল বন্ধ, দেখা গিয়েছে পুজোয় বাচ্চাদের নিয়ে ঠাকুর দেখার হুড়োহুড়ি চলছে। সংক্রমণের ভয়ে বন্ধ লোকাল ট্রেন। সাধারণ মানুষ ব্যাপক অসুবিধেয়। আর এসব দেখে-শুনে হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ দুর্গাপুজো হলে অসংখ্য দর্শনার্থী ভিড় করেবন। তার জেরে সংক্রমণ ঠেকানো অসম্ভব হয়ে উঠবে।

    হাইকোর্ট বলেছে বড় –ছোট দুই ক্ষেত্রেই উদ্যোক্তাদের মণ্ডপের বাইরে আদালতের নির্দেশ বড় বড় করে টাঙিয়ে দিতে হবে। মণ্ডপের বাইরে কোনও গেট থাকলে সেটাই হবে সীমানা। তার ১০ মিটার পর্যন্ত ব্যারিকেড করে ঘিরে দিতে হবে। মণ্ডপে পঁচিশ জনের বেশি কেউ থাকতে পারবেন না। উদ্যোক্তাদের নামের তালিকাও আগেই দিতে হবে।

    কেরলে করোনা সংক্রমণ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে ছিল। কিন্তু সেখানকার ‘ওনাম’ উত্সবের পরই সংক্রমণ লাগামছাড়া হয়। যার জেরে বিশেষজ্ঞরা বলছেন এ রাজ্যে দুর্গাপুজোয় লোকে ঠাকুর দেখতে বেরলে বিপদ অনিবার্য। সংক্রমণ ব্যাপকহারে ছড়ালে হাসাপাতালে বেড মিলবে না। ইতিমধ্যেই বহু চিকিত্সক, স্বাস্থ্যকর্মী করোনা আক্রান্ত। তাই গণহারে সংক্রমণ ছড়ালে পরিস্থিতির মোকাবিলা অসম্ভব হয়ে পড়বে।

    পুজো নিয়ে হাইকোর্টের এই রায়কে ঐতিহাসিক বলে মনে করছে তথ্যভিজ্ঞ মহল।মামলার আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, যেহেতু বহু মানুষ একত্রিত হলে সংক্রমণ বাড়বে তাই এই রায়। যত কম লোক রাস্তায় বের হবেন ততই ভালো।হাইকোর্টের রায় সঠিকভাবে পালন হচ্ছে কি না, সেই রিপোর্ট দিতে হবে ডিজি ও কমিশনারকে।