রবিবার, নভেম্বর 29, 2020

গোর্খাল্যান্ড বৈঠকের সিদ্ধান্তে বিতর্ক
গোর্খাল্যান্ড বৈঠকের সিদ্ধান্তে বিতর্ক

গোর্খাল্যান্ড বৈঠকের সিদ্ধান্তে বিতর্ক

  • scoopypost.com - Oct 05, 2020
  • ক্ষুব্ধ নবান্ন। কেন্দ্রের সাম্প্রতিক এক সিদ্ধন্তে প্রচন্ড ক্ষুব্ধ নবান্ন। বুধবার দিল্লির নর্থব্লকে গোর্খ্যল্যান্ড নিয়ে আলোচনার জন্য বৈঠক ডেকেছে কেন্দ্র। স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জি কিষণ রেড্ডি এই বৈঠকে পৌরহিত্য করবেন।কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তেই নবান্ন থেকে ক্ষোভ উগরে দেওয়া হয়েছে। নবান্নের বক্তব্য কোন যুক্তিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এমন কাজ করতে পারে তা ভেবে পাচ্ছেন না তাঁরা। নবান্নের অভিযোগ,  যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার  সমস্ত নিয়মকানুন লঙ্ঘন করে এই বৈঠকে রাজ্য প্রশাসনের আধিকারিকদের ডেকে পাঠানো হয়েছে। এই বৈঠকে উপস্থিত থাকার জন্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সরাসরি রাজ্যের স্বরাষ্ট্র সচিব,দার্জিলিং এর জেলাশাসক, জি টি এর প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি এবং গোর্খাজনমুক্তি মোর্চার সভাপতিকে ডেকে পাঠিয়েছে। আর এতেই চটেছে নবান্ন।  

    কেন্দ্রের এই পদক্ষেপের কথা জানার পরই নবান্ন সূত্রে জানা গেছে ঐ বৈঠকে রাজ্যের কেউ যোগ দেবে না। রাজ্য প্রশাসনের এক শীর্ষ কর্তার মতে জেলাশাসক পর্যায়ের কোনও অফিসারকে কেন্দ্র এইভাবে সরাসরি ডেকে পাঠাতে পারে না। কোন বৈঠকে রাজ্যের কোন অফিসার যোগ দেবেন সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার একমাত্র রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের। কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তে বিস্ময় প্রকাশ করে নবান্নের এক কর্তা জানিয়েছেন এই কাজ তারা করল কীভাবে তা ভেবেই অবাক লাগছে।

    দার্জিলিং এর বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্ত বলেছেন, এই বৈঠকে খোলা মনে সকলের যোগ দেওয়া উচিত। অন্যদিকে রাজ্যের পর্যটন মন্ত্রী এবং তৃণমূল নেতা গৌতম দেব বলেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই জানিয়েছেন কোনও অবস্থাতেই বাংলা ভাগ করতে দেবেন না। বিজেপি ভোটের আগে শান্ত  পাহাড়কে অশান্ত  করার চক্রান্ত করছে।

    এদিকে গোর্খা জন্মুক্তি মোর্চার সভাপতিকে যে চিঠি পাঠানো হয়েছে, তা পুরোন ঠিকানায়। যেখানে এক সময় বিমল গুরুং বসতেন। অনেকেই মনে করছেন, এই ভাবে কেন্দ্র বিমল গুরুং এর নেতৃত্বকেই মান্যতা দিতে চাইছে।

    লকডাউন পরবর্তী সময়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথম প্রশাসনিক বৈঠক করেছেন এই দার্জিলিংয়ে।কেন্দ্রের এই উদ্যোগে পাহাড় আবার অশান্ত হয়ে উঠতে পারে বলেই মনে করছেন অনেকে। একদিকে কোভিডের কারণে মানুষের রুটি-রুজি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। তারপর ফের যদি রাজনৈতিক কারণে পাহাড় অশান্ত হয় তাহলে তার প্রভাব পড়বে সাধারণ মানুষের জীবনেই।