রবিবার, নভেম্বর 29, 2020

চাপে রয়েছেন দিলীপ ঘোষ
চাপে রয়েছেন দিলীপ ঘোষ

চাপে রয়েছেন দিলীপ ঘোষ

  • scoopypost.com - Oct 05, 2020
  • রাজ্য বিজেপিতে চাপে পড়েছেন দিলীপ ঘোষ। এ রাজ্যে দলের পক্ষ থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় নেতাদের বড় অংশই এখন মুকুল রায়ের পাশে। দিলীপ ঘোষ ক্রমশ একা হয়ে পড়ছেন। তাঁর ভরসা বলতে আর এস এস। দলের অনেকেই বলছেন বিজেপিতে এখন মোদি-শাহের যুগ, সেখানে আর এস এসেরও আগের মতো দাপট নেই। সংঘকে এড়িয়েই বিজেপি বা মোদি সরকার অনেক সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। সংঘের কোনও ওজর-আপত্তি সেখানে টিকছে না। সাম্প্রতিক কালে এর বেশ কয়েকটি উদাহরণ সামনে এসেছে। সেই সুবাদেই রাজ্য বিজেপির দিলীপ শিবিরের বক্তব্য আগামি দিনে রাজ্যে দলীয় ক্ষমতার বিন্যাসে মুকুলের তুলনায় পিছিয়ে পড়তে পারেন দিলীপ ঘোষ। যার ইঙ্গিত পাওয়া গেল আই সি সি আরের অনুষ্ঠানে।

    রবিবার ঘটা করে দলের একাংশ আই সি সি আরে  মুকুল রায়ের সম্বর্ধনা সভার আয়োজন করে। প্রধান উদ্যক্তা ছিলেন মুকুল ঘনিষ্ঠ শংকুদেব পান্ডা। এই সভায় এ রাজ্যে বিজেপির প্রায় সব বিশিষ্ট নেতারাই উপস্থিত ছিলেন। একমাত্র ছিলেন না রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। শুধু উপস্থিত না থাকাই নয়, তিনি এই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণও পান নি । সংবাদ মাধ্যমকে তিনি জানিয়েছেন, এই অনুষ্ঠানের কথা তিনি জানতেন না।তিনি বলেন, দলে সদ্য পদ পাওয়ায় দলেরই কেউ কেউ তাঁকে সম্বর্ধনা দিয়েছেন। সব অনুষ্ঠানে আমাকে থাকতে হবে এমন কোনও কথা নেই। দলের কাজেই আমি মেদিনীপুরে আছি। ৬ তারিখের আগে কলকাতায় ফেরা হবে না।

    এই ঘটনার এখানেই শেষ নয়। রাজ্য বিজেপির অনুষ্ঠানে আগাগোড়া ছিল মুকুল বন্দনা। সেখানে দিলীপ ঘোষের নামও উচ্চারিত হয়নি। শুধু একবার মুকুল রায় দিলীপ ঘোষের নাম উল্লেখ করেন। এদিনের সভায় আরও একটি বিষয় বেশ উল্লেখযোগ্য। এই সভা থেকেই নাম না করে রাহুল সিনহাকেও দলের বার্তা দেওয়া হল বলে মনে করা হচ্ছে। অরবিন্দ মেনন, তাঁর বক্তৃতায় বলেন, পদ পেলাম না বলে ক্ষোভের কোনও কারণ নেই। যদি কেউ রাগ করে স্টেশনে বসে না থেকে বাড়ি চলে যান তাহলে পরের ট্রেন মিস হয়ে যাবে। ধৈর্য ধরে বসে থাকলে পরের ট্রেন পাওয়া যায়। কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে এদিনের অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন কৈলাস বিজয়বর্গীয় এবং সাংসদ স্বপন দাশগুপ্ত। কৈলাশ বিজয়বর্গীয় তাঁর বক্তৃতা মুকুল স্তুতিতে ভরিয়ে দেন।

    এই কারণেই রবিবারের অনুষ্ঠানকে রাজ্য বিজেপির অনেকেই রাহুল, দিলীপের প্রতি শীর্ষ নেতৃত্বের বার্তা বলেই মনে করছেন। রাহুল সিনহার এখন কোনও পদ নেই, দিলীপ বাবুর পদ থেকেও কতটা কার্যকর থাকবে  সময়ই সেটা বলবে। এই মুহূর্তে দলে যে মুকুল শিবিরের পাল্লা ভারী সে কথা স্পষ্ট হয়ে গেল আই সি সি আরের অনুষ্ঠান থেকে।