রবিবার, নভেম্বর 29, 2020

রাজ্য বিজেপিতে তীব্র অর্ন্তদ্বন্দ্ব
রাজ্য বিজেপিতে তীব্র অর্ন্তদ্বন্দ্ব

রাজ্য বিজেপিতে তীব্র অর্ন্তদ্বন্দ্ব

  • scoopypost.com - Oct 23, 2020
  • রাজ্য বিজেপির তীব্র অর্ন্তদ্বন্দ্ব আবার সামনে এল। দিলীপ ঘোষ বনাল সৌমিত্র খাঁর বিবাদ এদিন নতুন মাত্রা নিল। রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ দলের যুব মোর্চার সমস্ত জেলা কমিটি ভেঙ্গে দিয়েছেন। পরবর্তী নির্দশ না দেওয়া পর্যন্ত জেলা কমিটির সভাপতিদের  সব ধরণের কাজ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।দিলীপ ঘোষের তরফে এক বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জেলা কমিটি ভেঙ্গে দেওয়ার কথা জানানো হয়।  বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয় অনিবার্য কারণে রাজ্যের সমস্ত যুব মোর্চা কমিটি ভেঙ্গে দেওয়া হল। রাজ্য সভাপতির এই পদক্ষেপে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ রাজ্য যুব মোর্চার সভাপতি সৌমিত্র খাঁ।

    দলের অন্দরের খবর সৌমিত্র খাঁর সঙ্গে দিলীপ ঘোষের বিবাদ নতুন নয়।এর আগেও এই দুই নেতার বিবাদ প্রকাশ্যে এসেছিল। দলের অন্য নেতাদের হস্তক্ষেপে তা সাময়িক ধামাচাপা দেওয়া গেলেও তা মিটে যায় নি। এদিনের ঘটনা তা প্রমাণ করল। কিছুদিন আগেই সৌমত্র খাঁকে দলের যুব মোর্চার রাজ্য সভাপতি করা হয়। আনুষ্ঠানিক ভাবে দিলীপ ঘোষ সেই নিয়োগ করলেও দলের অন্দরের খবর দিল্লির সিদ্ধন্তেই সম্মতি দিতে হয়েছিল  দিলীপ ঘোষকে।

    যুব মোর্চার কমিটি ভেঙ্গে দেওয়ায় নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন সৌমিত্র খাঁ।  দলের পর্যবেক্ষকদের কাছে নিজের ক্ষোভ গোপন রাখেন নি তিনি। তিনি বলেন, দিলীপ দা একাই সব চালাতে চাইছেন। দলের মহিলা মোর্চা তিনি ঠিক করছেন, দলের মূল সংগঠন তিনি দেখছেন, যুব মোর্চাও তিনি নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছেন।দিল্লি যদি চায় এভাবে কাজ হবে তবে তাই হোক।

    অন্যদিকে বিজেপির বহুদিনের নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, সৌমিত্র খাঁ সকলকে এড়িয়ে নিজের মতো করে কমিটি তৈরি করছিলেন। সেই কমিটিতে জায়গা হচ্ছিল না দলের পুরনো নেতা- কর্মীদের। বিবাদের মূলে রয়েছে, পুরনো-নতুন বিবাদ।

    এদিকে দিল্লির বিষয়ে খোদ দিলীপ ঘোষেরই অনেক ক্ষোভ রয়েছে। ইদানিং অনেক কিছুই তাঁকে না জানিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। যা সভাপতি হিসেবে তিনি মেনে নিতে পারছেন না। অনাদিকে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব মুকুল রায়কে গুরুত্ব দেওয়ায় দিলীপ ঘোষের ক্ষোভ আরও বেড়েছে বলেই দলের অন্দরের খবর। এখন দেখার দিলীপ বনাম সৌমিত্রের এই বিবাদে দিল্লি কী ভূমিকা নেয়।বিশেষ করে আর এস এসের ভূমিকা কী হয় তার দিকে নজর রাখছে দলের প্রবীন নেতারা। দলের নেতারা মনে করেন দিলীপ ঘোষের আসল জোরের জায়গা হল তাঁর প্রতি সংঘের আর্শীবাদ।    

    এদিকে বিজেপির এই দ্বন্দ্ব সামনে আসায় অস্বস্তিতে রাজ্য নেতারা। তাঁরা বলছেন তৃণমূল যেখানে নিজেদের ঘর গোছাতে ব্যস্ত তখন বিজেপি নিজেদের মধ্যে তীব্র দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ছে। এর ফলে দলের নিচু তলার কর্মীদের কাছে ভুল বার্তা যাচ্ছে। ভোটের আগে এই ধরণের ঘটনা কর্মীদের মনোবল নষ্ট করবে।  সামগ্রিক ভাবেও বিজেপি সম্পর্কে খারাপ ধারণা তৈরি হবে। ক্ষমতায় আসার আগেই যদি এই হয় তাহলে পরে কী হবে তার জবাব দিতে হবে আমাদের। সাধারণ মানুষের কাছে বিজেপি সম্পর্কে যে স্বচ্ছ ধারণা তৈরি হচ্ছিল তা ভীষণ ভাবে ধাক্কা খাবে।