বুধবার, এপ্রিল 14, 2021

অমিত শাহের বঙ্গ রাজনীতি
অমিত শাহের বঙ্গ রাজনীতি

অমিত শাহের বঙ্গ রাজনীতি

  • scoopypost.com - Nov 06, 2020
  • অভিযোগটা পুরোন। সেটাই আরও একবার আউড়ে গেলেন বিজেপির দাপুটে নেতা অমিত শাহ। শুক্রবার তিনি অভিযোগ করেন বঙ্গে নাকি তোষণের রাজনীতি হয়। যে জায়গায় দাঁড়িয়ে তিনি এই অভিযোগ তুললেন তাকে সারা বিশ্বের মানুষ চেনে, জানে এবং মানে সর্বধর্ম সমন্বয়ের পীঠস্থান হিসেবে। দক্ষিণেশ্বর। শ্রীরামকৃষ্ণের সাধনস্থলে দাঁড়িয়ে তৃণমূল তথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে এই তোষণের   অভিযোগ করেন অমিত শাহ। তিনি বলেন তৃণমূল বাংলার সংস্কৃতি নষ্ট করছে। বাংলার মানুষকে সেই অতীত ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার জন্য নিজেদের দায়িত্ব পালন  করতে হবে। অমিত শাহের এই অভিযোগের জবাব দিতে দেরি করেনি তৃণমূল কংগ্রেসও। সাংসদ সৌগত রায় পালটা অমিত শাহকে বলেন, দক্ষিণেশ্বরের মাহাত্য নষ্ট করেছেন তিনি। এই স্থান সর্বধর্মের , এই দক্ষিণেশ্বরে দাঁড়িয়ে শ্রীরামকৃষ্ণ সারা বিশ্বকে যতমত তত পথের বার্তা দিয়েছিলেন। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে ধর্মীয় সঙ্কীর্ণতার কথা বলে তিনি এই স্থানের পবিত্রতা নষ্ট করেছেন।

    এদিন অমিত শাহ যাবেন বলে দক্ষিণেশ্বরে বিশেষ পুজো এবং আরতির ব্যবস্থা ছিল।এদিন অমিত শাহের সঙ্গে ছিলেন, মুকুল রায়, দিলীপ ঘোষ সহ বঙ্গ বিজেপির নেতারা।

    দুদিনের বাংলা সফরে দলকে কী দিলেন তা বিজেপিই মূল্যায়ন করবে। অমিত শাহের বাংলা সফরে তৃণমূল-বিজেপি চাপান-উতোর ফের একবার সংবাদ মাধ্যমের চর্চার বিষয় হয়ে উঠল।

    প্রথম দিনই অমিত শাহ তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় প্রকল্প আটকে রাখার অভিযোগ তোলেন। একই সঙ্গে মতুয়া সম্প্রদায়ের মনজয়েরও চেষ্টা করেন। যদিও মতুয়া সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি হিসেবে শান্তনু ঠাকুর কিছুদিন আগেই বিজেপির প্রতি প্রকাশ্যেই অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। তাঁকে শান্ত করতে আবার তথাগত রায়ের মতো নেতাকে ছুটতে হয়েছিল। ফলে মতুয়াদের মনে যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে তা প্রশমিত করার চেষ্টা করেন অমিত শাহ ।

    রাজ্যে এসে তিনি একাধিক রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেন। দলীয় নেতাদের সঙ্গে আলাপ আলোচনার পাশাপাশি বিশিষ্ট সঙ্গীত শিল্পী অজয় চক্রবর্তীর সঙ্গেও দেখা করেন।

    বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই নিস্ক্রিয় হয়ে ছিলেন শোভন-বৈশাখী। অমিতের বঙ্গ সফরে তাঁর সঙ্গে দেখা করেন এই দুই তৃণমূল প্রাক্তনী। নিউটাউন এলাকার এক হোটেলে অমিতের সঙ্গে শোভন-বৈশাখীর প্রায় আধ ঘন্টা একান্তে কথা হয়। তাঁদের মধ্যে যখন কথা হয় তখন আর কেউ সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। অমিত শাহের সঙ্গে একান্তে কথা বলতে পেরে দৃশ্যতই শোভন-বৈশাখীকে বেশ খুশি দেখায়। নিজের খুশি চেপে রাখেন নি বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন অমিত শাহের মতো এত ধৈর্য্যশীল নেতা তিনি আগে দেখেন নি। অমিতের সঙ্গে বৈঠক নিয়ে শোভন অবশ্য কোনও মন্তব্য করেননি। তবে সূত্রের খবর শোভন কীভাবে কাজ করবেন তা নিয়ে কথা হয়ে গেছে।

    বৃহস্পতিবারই দলীয় নেতাদের অমিত শাহ আগামি বিধানসভা নির্বাচনে এ রাজ্যে ২০০ আসন জয়ের লক্ষ্যমাত্রা স্থির করে দেন। যাকে দিবা স্বপ্ন বলে কটাক্ষ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস।