বুধবার, এপ্রিল 14, 2021

শুভেন্দুর পর অতীন, সমস্যা বাড়ছে তৃণমূলে
শুভেন্দুর পর অতীন, সমস্যা বাড়ছে তৃণমূলে

শুভেন্দুর পর অতীন, সমস্যা বাড়ছে তৃণমূলে

  • scoopypost.com - Dec 05, 2020
  • সামান্য যে কয়েক জন  শুরুর সময় তাঁর পাশে ছিলেন তিনি তাঁদেরই একজন। দল প্রতিষ্ঠার পর থেকে বরাবরই অনুগত থেকেছেন। দাবি করেন নি কিছুই। নীরবে কাজ করেছেন, দায়িত্ব সামলেছেন দলের। নিজের এলাকায় দলের ভিত মজবুত করেছেন।আজ তাঁর গলায় ক্ষোভের সুর, অভিমানের সুর। তিনি অতীন ঘোষ। উত্তর কলকাতার তৃণমূলের দাপুটে নেতা। কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন ডেপুটি মেয়র এবং বর্তমানে প্রশাসক বোর্ডের অন্যতম সদস্য। এহেন অতীনের গলায় এখন বেসুরো শুর শোনা গেছে। সম্প্রতি সংবাদ মাধ্যমে তিনি দলের প্রতি নিজের ক্ষোভ, অভিমান প্রকাশ করেছেন।

    অতীন ঘোষ বলেছেন ,এতদিন তিনি দলের বিরুদ্ধে কিছু বলেন নি। আজ বলছেন। দলে তিনি বঞ্চিত হয়েছেন, পিছনে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক বঞ্চনার শিকার হয়েছেন।

    আসলে তৃণমূলের জন্মলগ্ন থেকে দলে উত্তর-দক্ষিণ বিভাজন ছিল। যে কারণে এক সময়ে তৃণমূলকে দক্ষিণ কলকাতার দল বলা হত। মমতা বন্দ্যোপাধ্যাযের পাশে  থেকেও উত্তরের বহু যোগ্য নেতা উপযুক্ত সম্মান পান নি। অন্যদিকে শুধুমাত্র দক্ষিণ কলকাতার নেতা হওয়ার সুবাদে দলে অনেক বেশি গুরুত্ব পেয়েছেন অনেকেই।

    বাম আমলে তৃণমূলের রাজনৈতিক সাফল্যের প্রথম নজির হল কলকাতা পুরসভা দখল। পুরসভা দখলে উত্তর কলকাতার তৃণমূল নেতাদের অবদান ছিল অনস্বীকার্য। ভোটে ভাল ফল করলেও পুরসভায় কিন্তু উত্তরের নেতারা বঞ্চিতই থেকেছেন। সেখানে প্রাধান্য পেয়েছেন দক্ষিণের তৃণমূল নেতারা। সেই বঞ্চনারই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে অতীন ঘোষের গলায়।

    অতীন ঘোষ নিজের বঞ্চনার পাশাপাশি মুখ খুলেছেন শুভেন্দু অধিকারী এবং মিহির গোস্বামীকে নিয়েও। অতীন ঘোষ বলেন দলে একমাত্র শুভেন্দু অধিকারীরই জনভিত্তি রয়েছে। মমতা বন্দ্যোপধ্যায় ছাড়া আর কোনও নেতার এত জনসমর্থন নেই। তিনি যদি দল ছাড়েন তাহলে নিশ্চিত ভাবেই দলের ক্ষতি হবে। ্মিহির গোস্বামীকে একজন স্বচ্ছ নেতা বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, কেন মিহির দল ছাড়ল আর দলই বা কেন তাকে রাখতে পারল না বুঝলাম না।

    দলে পেশাদার ভোট কুশলী নিয়োগ নিয়েও নিজের মত প্রকাশ করেছেন এই নেতা। তিনি বলেন কোনওদিন ভাবিনি কোনও পেশাদারের অধীনে রাজনীতি করতে হবে। এতদিন আমরা দলের সিনিয়রদের পরামর্শেই দল করেছি। আজ কেন পেশাদারের দরকার হচ্ছে বুঝতে পারছি না।

    অতীনের গলায় ক্ষোভ রয়েছে, অভিমান রয়েছে- এখনো তা বিরোধের রূপ পায় নি।যদি শীর্ষ নেতৃত্ব এখই অতীন ঘোষেদের মতো নেতাদের ক্ষোভ- অভিমান সামাল দিতে না পারে তাহলে দলের পক্ষে তা মোটেই ভাল হবে না বলেই  রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত।