মঙ্গলবার, নভেম্বর 24, 2020

সুপ্রিম কোর্টে কাল ছট নিয়ে শুনানি
সুপ্রিম কোর্টে কাল ছট নিয়ে শুনানি

সুপ্রিম কোর্টে কাল ছট নিয়ে শুনানি

  • scoopypost.com - Nov 01, 2020
  • রবীন্দ্র সরোবরে ছট  পুজোর অনুমতি দেওয়া হোক।সুপ্রিম কোর্টে এই মর্মে আবেদন করেছে সি এম ডি এ ।আগামিকাল সোমবার এই আবেদনের শুনানি হবে। সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণ আইনজীবী এবং সি এম ডি এর কাউন্সেল রাকেশ দ্বিবেদী এ কথা জানিয়েছেন। সি এম ডি এ শীর্ষ আদালতকে শর্ত সাপেক্ষে এই অনুমতি দেওয়ার আবেদন জানিয়েছে।

    রবীন্দ্রসরোবরে ছট পুজো করা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সরকার এবং নাগরিক সংগঠনের বিরোধ চলছে। বিভিন্ন নাগরিক এবং পরিবেশ কর্মী, পরিবেশ সংগঠন রবীন্দ্র সরোবরে ছট পুজোর বিরোধিতা করছে। ২০১৮ সালে গ্রিন ট্রাইবুনাল রবীন্দ্র সরোবরে ছট পুজোর অনুমতি বাতিল করে দেয়। শুধু ছট পুজো নয়, সমস্ত রকম পুজো, পিকনিক, সামাজিক অনুষ্ঠান সবই বন্ধ করে দেয় গ্রিন ট্রাইবুনাল।

    ১৯২ একরের এই রবীন্দ্র সরোবরের কাস্টোডিয়ান হল সি এম ডি এ। ৭৩ একর জুড়ে রয়েছে জলাশয়।  এই রবীন্দ্রসরোবরকে দক্ষিণ কলকাতার ফুসফুস বলা হয়। প্রকৃত পক্ষে গোটা কলকাতায় এতবড় জলাশয় এবং উন্মুক্ত সবুজের অবস্থান আর নেই। সেই কারণেই এলাকার বাসিন্দা থেকে পরিবেশ সংগঠন সকলেই এই রবীন্দ্রসরোবরের বাস্তুতন্ত্র বজায় রাখতে চান। শুধু যে  মানুষের কাছেই এই সরোবর বড় সম্পদ তা নয়। অসংখ্য পাখি এই জলাশয় আশ্রয় নেয়। দেখা গেছে প্রতিবছর ছট পুজোর পর এই পাখিদের অনেকেই আর এখানে আসেনা। পরিবেশ কর্মীরা বলছেন, এই ভাবে চললে বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য নষ্ট হবে । তার ফল ভোগ করতে হবে পুরো কলকাতাবাসীকে।

    এদিকে সি এম ডি এ শীর্ষ আদালতকে জানিয়েছে তারা এবার রবীন্দ্র সরোবরের ভিতর বাজি ফাটানো, জলে প্রদীপ ভাষানোর অনুমতি দেবে না। এই সব শর্ত মানার প্রেক্ষিতে সরোবরে ছট পুজোর অনুমতি যেন দেওয়া হয়।

    অন্যদিকে নাগরিক সংগঠন গুলি জানাচ্ছে গ্রিন ট্রাইবুনালের  অনুমতি না থাকা সত্ত্বেও ২০১৮ এবং ২০১৯ সালে এখানে ছট পুজো হয়। ২০১৯ সালে সি এম ডি এ সরোবরের গেটে তালা লাগিয়ে দেয়। পুলিশ মোতায়েন করে। এসব থাকা সত্ত্বেও ছট পুজোয় উৎসাহীরা সেখানে জমায়েৎ হয় এবং তালা ভেঙ্গে ঢুকে পড়ে। পুলিশ তখন নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে। ভিতরে ঢুকেই সেখান যথেচ্ছে বাজি ফাটান হয়, জলে প্রদীও ভাষান হয়ে এবং তারস্বরে ডিজে বাজিয়ে নাচগান হয়। এসবের ফলে পরিবেশ এবং বাস্তুতন্ত্রের ভয়ানক ক্ষতি হয়। জলে প্রদীপ ভাষানোর ফলে যে তেল –ঘি পড়ে তা জলের অক্সিজেনের ভারসাম্যের ক্ষতি করে। জলজ প্রানীরো ক্ষতি হয়।  সেই কারণেই তাঁরা সবীন্দ্রসরোবরে ছট পুজোর বিরোধিতা করছেন। এখন দেখার সুপ্রিম কোর্ট এই বিষয়ে কী রায় দেয়।