রবিবার, এপ্রিল 18, 2021

সিংঘু সীমান্তে কলকাতার ডাক্তারদের শিবির
সিংঘু সীমান্তে কলকাতার ডাক্তারদের শিবির

সিংঘু সীমান্তে কলকাতার ডাক্তারদের শিবির

  • scoopypost.com - Dec 16, 2020
  • সিংঘু সীমান্তে পৌঁছে গেলেন কলকাতার চিকিৎসকরা। এম এস সি বা মেডিক্যাল সার্ভিস সেন্টারের তিন ডাক্তার, নার্স পৌঁছে গিয়েছেন সিংঘু সীমান্তের প্রতিবাদী কৃষকদের পাশে।  চিকিৎসা পরিষেবা দিতেই সেখানে গেছেন তাঁরা।

    দূরত্ব প্রায় ১৫৪০ কিলোমিটার। দূরের সেই জায়গাই এখন সকলের নজরে। সিংঘু সীমান্ত নামটা এখন সারা দেশের কাছে পরিচিত হয়ে গেছে। এই সীমান্তেই প্রায় ২১ দিন ধরে অবস্থান করছেন দেশের অন্নদাতারা। তাঁদের দাবি মোদি সরকারের তিন কৃষি আইন বাতিল করতে হবে। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী এখনও দাবি করে চলেছেন তিন কৃষি আইন দেশের কৃষকদের আয় বাড়াবে, বিনিয়োগ বাড়াবে।  

    মেডিক্যাল সার্ভিস সেন্টারের ডাক্তার, নার্সরা এই আন্দোলনের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন তাঁদের সেবা দিয়ে। তাঁদের হাতে নেই কোনও প্ল্যাকার্ড, নেই কোনও দাবি পত্র। আছে স্টেথস্কোপ এবং ওষুধ। এই দিয়েই দিনে প্রায় দশ ঘন্টা ধরে প্রতিবাদী কৃষকদের চিকিৎসা পরিষেবা দিচ্ছেন অংশুমান মিত্র, মৃদুল সরকার, সৌম্যদীপ রায়। এছাড়াও রয়েছেন তিনজন নার্স এবং চারজন স্বেচ্ছাসেবী। এঁরা এসেছেন মধ্যপ্রদেশ, উত্তরাখন্ড এবং দিল্লি থেকে ।  তিন তারিখ থেকে তাঁদের চিকিৎসা শিবির শুরু হয়েছে। শিবিরের উদ্বোধন করেছেন অল ইন্ডিয়া কিষাণ সংঘর্ষ কোঅর্ডিনেশন কমিটির পাঞ্জাব শাখার রাজ্য সম্পাদক সদবীর সিং এবং অন্য কৃষক নেতারা।

    মৃদুল সরকার কলকাতায় ফিরেছেন তাঁর সঙ্গীরা এখনও শিবির চালিয়ে  যাচ্ছেন।শিবিরের অভিজ্ঞতার কথা শুনিয়েছেন মৃদুল সরকার। তিনি বলছেন, এর আগেও তাঁর এই ধরণের অনেক চিকিৎসা শিবির করেছেন। কখনও ওড়িশার সাইক্লোনে, কখনও উমপুনের পর। কিন্তু সিংঘু সীমান্তের চিকিৎসা শিবিরের অভিজ্ঞতা একেবারে আলাদা।

    ৭২ বছরের এক বৃদ্ধা এসেছিলেন শিবিরে। তাঁর তখন প্রবল শ্বাসকষ্ট, কাশি। চিকিৎসক হিসেবে তাঁকে পরামর্শ দেন বাড়ি ফিরে যেতে। ওই বৃদ্ধা হাসি মুখে বলেছিলেন যদি মরতেই হয় তাহলে এই সিংঘু সীমান্তেই মরব। বাড়িতে নয়। শুধু ওই বৃদ্ধাই নন, শিবিরে চিকিৎসা করাতে আসা  সবার মনোভাব একই । বাড়ি ফিরতে রাজি নন কেউ। এঁদের কেউ ভুগছেন সর্দি কাশিতে, কেউ ভুগছেন হাইপ্রেশারে আবার কেউ বা ডায়াবেটিসে। চিকিৎসা করাতে আসা মানুষদের শৃঙ্খলাও মনে রাখার মতো। সবাই লাইন দিয়ে ধৈর্যের সঙ্গে অপেক্ষা করছেন। কেউ আগে যাওয়ার চেষ্টা করছেন না। বরঞ্চ কম বয়সী অসুস্থরা পিছনে দাঁড়িয়ে থাকা বয়স্কদের এগিয়ে দিচ্ছেন। সকলের মধ্যেই একটা কমরেড সুলভ মনোভাব রয়েছে। সকলেই মনে করছেন তাঁরা সকলেই একই লক্ষ্যে লড়াই করতে এখানে সমবেত হয়েছেন।

    সকাল সাড়ে নটা থেকে তাঁদের শিবির শুরু হত। চলত সন্ধ্যে পর্যন্ত। মাঝে কৃষকদের লঙ্গরে দুপুরের খাওয়া। প্রায় শ-দুয়েক লঙ্গর রয়েছে। যেখানে খুশি খেতে পারেন। কেউ কিছু বলবেন না, কোনও প্রশ্ন করবেন না। সবাই সাদরে আমন্ত্রণ জানাবেন। প্রতিদিনের মেনুতে থাকত, ডাল, ভাত রুটি, সবজি এবং কখনও কখনও কোনও একটা মিষ্টি।

    চিকিৎসা করতে করতে অনেক সময়ই ওষুধ ফুরিয়ে যেত। তখনই অমৃতসর মেডিক্যাল কলেজের একদল ইন্টার্ন তাঁদের প্রয়োজনীয় ওষুধ দিয়ে যেতেন। তাঁরা ছাড়াও আরও একাকধিক ডাক্তার, ডাক্তারি ছাত্র এই সীমান্তে চিকিৎসা পরিষেবা দিয়ে যাচ্ছেন নিরলস ভাবে। সবাই যেন একই যুদ্ধের সৈনিক।